১৩ শিশুর মৃত্যুর কারণ মোবাইল ফোন।    কাশ্মীরের মুখ‍্যমন্ত্রীকে জেহাদি বললেন কাঠুয়াকান্ডে অভিযুক্তদের আইনজীবী।    ১৪ মে বাংলায় পঞ্চায়েত নির্বাচন, ১৭ মে গণনা! অবশেষে দিন ঘোষণা নির্বাচন কমিশনের।    টিকিট দেয়নি দল, তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দুবারের বিজয়ী লড়াকু প্রার্থীর।    ‘গণতন্ত্রকে বলি দিয়ে, সংবিধানকে কচু কাটা করে কী প্রয়োজন এই ভোটের?’ প্রশ্ন তুললেন প্রাক্তন বিচারপতি অশোক গঙ্গোপাধ্যায়।    পঞ্চায়েত ভোটে ‘বিজেপির জয়ের কলঙ্ক’ থেকে পশ্চিমবঙ্গকে মুক্ত রাখার ডাক বুদ্ধের।    চার্জ দেওয়া অবস্থায় মোবাইল ফোনে কথা বলতে গিয়ে মৃত্যু কিশোরের।     পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিন ঘোষনা হওয়ার খুশি মুখ্যমন্ত্রী।    একদফা ভোট নিয়ে বিজেপির কোনও আপত্তি নেই।    অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে অবস্থানে বসবে বামেরা : বিমান বসু।    নারকেলডাঙার রাজাবাজারে মিলল ২০ হাজার কেজি ভাগাড়ের মাংস, শহর জুড়ে তল্লাশি।    আপনার এ সপ্তাহ কেমন যাবে জেনে নিন আমাদের সাপ্তাহিক রাশিফল থেকে।
BREAKING NEWS:
  • ভোটের দিন ঘোষনা হল।
  • সারা রাজ্যে 14 মে একদফায় ভোট।
  • ভোটে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন বিরোধীদের।
  • পঞ্চায়েত ভোট গননা 17 মে।
{"effect":"slide-h","fontstyle":"normal","autoplay":"true","timer":4000}


সুন্দরবনের বাঘে আক্রান্ত পরিবারের পাশে অমল স্যার

আমাদের ভারত ডেস্ক, সুন্দরবন, ১৬ জুলাই ঃ ছোট বেলা থেকেই তিনি পিতৃহারা। তাই পরিবারের মাথার উপর বাবার ছত্রছায়া না থাকার যন্ত্রণা অমল নায়েক হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছিলেন কিশোর বয়সেই। তাই যে পরিবারের মূল রোজগেরে মানুষটির অকাল মৃত্যু হয়েছে সুন্দরবনের বাঘের কবলে পড়ে, সেই পরিবার গুলির পাশে দাঁড়িয়েছেন অমল নায়েক। কয়েকজন বন্ধু বান্ধবীদের সাথে নিয়ে সুন্দরবন অঞ্চলের এই সমস্ত বাঘে আক্রান্ত পরিবার গুলির হাতে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সাহায্য তুলে দিয়েছেন অমল নায়েক। এবার এইসব আক্রান্ত পরিবার গুলির হাতে মাসিক রেশন তুলে দিয়ে অনন্য নজির গড়লেন বাসন্তী হাইস্কুলের এই শিক্ষক।

অনেক লড়াই করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন অমল নায়েক। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তী থানার শিবগঞ্জের বাসিন্দা অমল বাবুকে এলাকার মানুষ অমল স্যার বলেই চেনেন। পরিবারের উপর থেকে প্রধান রোজগেরে মানুষের অকাল মৃত্যুর যন্ত্রণা সেই ছোট থেকেই উপলব্ধি করেছিলেন তিনি। দেখেছেন পেটের খিদে মেটাতে সুন্দরবনের গহন জঙ্গলে মধু ও কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে কিভাবে এই এলাকার মানুষ বাঘের পেটে গিয়েছেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সরকারী তরফ থেকে কোন ক্ষতিপূরণ পাননি এই সমস্ত বাঘে আক্রান্ত পরিবারের সদস্যরা। পেটের তাগিদে সংসার চালাতে ও বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকার কারনে বাধ্য হয়েই জঙ্গলে ঢুকে বাঘের পেটে গিয়েছেন সুন্দরবনের ধর্ম, মঙ্গল, গৌররা। বাঘের পেটে যেতে যেতে সুন্দরবনের এক একটি গ্রাম একসময় বিধবা গ্রামে পরিনত হয়েছে। স্বামীকে হারিয়ে ছেলে মেয়েদের নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন বিধবা হওয়া স্ত্রীরা। সংসারের চাপে পড়াশুনা বন্ধ হয়েছে অনেক কিশোর কিশোরীর। সুন্দরবনের এই সমস্ত বাঘে আক্রান্ত পরিবারের পাশে তাই দাঁড়িয়েছেন অমল নায়েক। নিজের শিক্ষকতার বেতনের টাকা থেকে জমিয়ে এইসব পরিবারের হাতে ইতিমধ্যেই তুলে দিয়েছেন ছেলে মেয়েদের পড়াশুনার বইপত্র, মশারি, জামা কাপড়। পশুপালন করে সংসার চালানোর উদ্দেশ্যে দিয়েছেন ছাগলছানা, হাঁস মুরগীর বাচ্চা। কিন্তু এতে সমস্যা যে মিটবেনা তা তিনি টের পেয়েছিলেন।

তাই এই সমস্ত পরিবারের মহিলাদের বিভিন্ন ধরনের হাতের কাজ শিখিয়ে তাদের স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি মাসিক রেশনিং ব্যবস্থার মধ্যে নিয়ে এসেছেন তিনি। প্রাথমিক ভাবে সুন্দরবনের ঝড়খালির ষাটটি পরিবারকে এই সিস্টেমের আওতায় নিয়ে এসে চাল, ডাল ও তেল দেওয়ার কাজ শুরু করেছেন অমল নায়েক। তার এই কাজে সহযোগী হয়েছেন লায়ন্স ক্লাব অফ কলকাতা রশ্নি ও হোপ, হেল্প অ্যান্ড হিউম্যানিটি নামে দুটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এ বিষয়ে অমলবাবু বলেন, “ পরিবারের রোজগেরে মানুষের অকাল মৃত্যু হলে সেই পরিবারের কি অবস্থা হয় তা আমি দেখেছি উপলব্ধি করেছি। তাই সুন্দরবনের জঙ্গলে বাঘের আক্রমনে যেসব পরিবার অনাথ হয়েছেন তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। আগামী দিনে আমরা এই রেশনিং পরিষেবা আরও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করবো”।

loading...

Leave a Reply

Be the First to Comment!

avatar
  Subscribe  
Notify of