যেকোন রকম বিজ্ঞাপনের জন্য আমাদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম : amaderbharatdesk@gmail.com    ৩ হাজারের বেশি অ্যান্টি ট্যাংক মিসাইল কিনতে পারে ভারত ফ্রান্স থেকে।     কংগ্রেসের ইস্তেহারে রামমন্দির যুক্ত হলে আমরা তাদের সমর্থনের কথা ভাবতে পারি : ভিএইচপি।    বিজেপির বিরুদ্ধে কংগ্রেসের প্রার্থী হতে পারেন করিনা কাপুর।    মমতা নয় রাহুলকেই নেতা দেখতে চান তারা, ব্রিগেডের পরেই জানালেন তেজস্বী, স্টালিনরা।     একসময় কাগজ কুড়াতেন আজ চণ্ডীগড়ের মেয়র এই বিজেপি নেতা।    ব্রিগেডে খরচের উসুল তুলতে ব্যর্থ তৃণমূল, সোশ্যাল মিডিয়ায় মোদিকে হারিয়েই সন্তুষ্ট।    মালদায় অমিত শাহ-যোগীর সভা সফল করার জন্য বিজেপির তিন প্ল্যান।    ব্রিগেডের সভার বদলে আসানসোলে সভা করবে প্রধানমন্ত্রী, জানালেন দিলীপ ঘোষ।    জম্মু-কাশ্মীরে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে বিজেপি , দাবি রাম মাধবের।    জয়নগরে অমিত শাহের সভার আগেই রাস্তাঘাট তৃণমূলের দখলে।    লোকসভা নির্বাচনকে মাথায় রেখে সফরে জিটিএর প্রতি মুক্তহস্ত মমতা।    ডুয়ার্সে চিতাবাঘের চামড়া সহ আটক পাঁচ চোরাচালানকারী।    আজ আপনার কেমন যাবে জেনে নিন।    বিজেপি নেতার মাতৃবিয়োগে সমবেদনা জানাতে দুর্গাপুরে রাজ্যপাল।


প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে ভূগোলের শিক্ষিকা হতে পারবে কি কৃষ্ণা!

আমাদের ভারত, রামপুরহাট, ১০ জুন: তিন বছর তি আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে বাবার। এরপর মা বংশের পেশা টিকিয়ে রেখে দুই মেয়েকে বড় করে তুলেছেন। সেই বাড়ির ছোট মেয়ে এবার উচ্চ মাধ্যমিকে ৪৪৫ নম্বর পেয়ে বীরভূমের কড়কড়িয়া জয় তারা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। ভূগোল নিয়ে পরে শিক্ষিকা হতে চায় সে। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থ। সরকারি কিংবা বেসরকারি ভাবে কেউ এগিয়ে এলে উচ্চ শিক্ষায় এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে বলে পরিবারের দাবি। কৃষ্ণা প্রামানিক দুই বোনের মধ্যে কৃষ্ণা ছোট। বড় বোনের বিয়ে হয়েছে আগেই। বর্তমানে তারাপীঠ থানার ফুলিডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা। বাবা আশিস প্রামানিক পেশায় ছিলেন নাপিত। বছর তিনেক আগে হৃদরোগে মারা যান তিনি। এরপর মা যূথিকা প্রামানিক বাড়ি বাড়ি গিয়ে মেয়েদের ‘ভ্রূ’ প্লাগ করে যৎসামান্য আয় করে মেয়ের পড়াশোনা চালিয়েছেন। তবে ভাই এবং বাবা যথেষ্ট সহযোগিতা করেছেন বলে দাবি করেন যূথিকাদেবী। তিনি বলেন, “শ্বশুর বাড়ি মুর্শিদাবাদের কেলাই গ্রামে। কিন্তু বাবার অমতে স্বামী বিয়ে করার জন্য ঠাঁই হয়নি শ্বশুর বাড়িতে। ফলে কার্যত বিয়ের পর থেকেই বাপের বাড়ি তারাপীঠের ফুলিডাঙ্গা গ্রামে ঘর বাঁধেন যূথিকাদেবী। প্রথম দিকে স্বামীর সেলুন ব্যবসায় চলত সংসার। স্বামীর মৃত্যুতে ভাই এবং বাবার সাহায্যে চলছে সংসার। মেয়ে কৃষ্ণার উচ্চ মাধ্যমিকে সাফল্যের পিছনে বাবা ও ভাইয়েরে ভূমিকা রয়েছে যথেষ্ট। যূথিকাদেবী বলেন, “আমার আয় সামান্যই। বাবা ভাইরা এগিয়ে না এলে মাঝ পথেই পড়া ছাড়তে হত মেয়েকে”। কৃষ্ণা বলেন, “আমার পড়ার পিছনে বাবার ভূমিকা ছিল যথেষ্ট। বাবা মারা যাওয়ার পর ভেঙ্গে পড়েছিলাম। কিন্তু মামারা যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তা ভুলতে পারব না”। সফল্যের পিছনে গৃহশিক্ষক নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা বার বার মুখে আনে কৃষ্ণা। সে জানায়, নারায়ণবাবু যেভাবে বিনা পারিশ্রমিকে আমাকে ইংরেজি পড়িয়েছেন তা ভোলার নয়। তার সাহায্যেই ইংরেজিতে ৮০ নম্বর পেয়েছি। নারায়ণবাবু বলেন, “শুধু কৃষ্ণা নয়, এলাকার দরিদ্র পরিবারের ছেলেমেয়েদের বিনা পারিশ্রমিকেই পড়াই। তাদের মধ্যে কৃষ্ণা রয়েছে। তবে ওর মধ্যে একাগ্রতা লক্ষ্য করেছিলাম। জানতাম ও ভালো ফল করবে”। স্কুলের শিক্ষক অর্ঘ্য ঘোষ বলেন, “এবার আমাদের স্কুলের প্রথম কৃষ্ণা। হাজারো প্রতিবন্ধকতার মধ্যে যে সাফল্য কৃষ্ণা পেয়েছে তাতে আমরা খুশি”। কৃষ্ণার সাফল্যে খুশি মামিমা অপর্ণা প্রামানিক থেকে প্রতিবেশীরাও। কিন্তু কৃষ্ণা আজও দুশ্চিন্তায় ভুগছে। তার চিন্তা আগামী দিনে ভূগোল নিয়ে পড়ে সে শিক্ষিকা হতে পারবে তো? কারণ অর্থ যে বড় প্রতিবন্ধকতা!

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of