আমাদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম : amaderbharatnews@gmail.com    ‍অযোধ‍্যার রামমন্দির নির্মাণের জন‍্য সংসদে বিল আনতে চলেছে বিজেপি, জানালেন বিজেপি মন্ত্রী।    লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির সহানুভূতির ভোট আটকাতেই কি ‘বাজপেয়ী ভালো মোদীর চেয়ে’ বোঝাতে চাইছেন বিরোধীরা।    প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ীর স্মরণ সভায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানাবে রাজ্য বিজেপি।    বীরভূমের তিন বিজেপি নেতার নিরাপত্তায় কেন্দ্রীয় বাহিনী।    বিজেপি কর্মীর পরিবারের সদস্যদের দলে যোগ দেওয়াতে গিয়ে পুরুলিয়া ছাড়লেন অপমানিত তৃণমূল সাংসদ ডাঃ শান্তনু সেন।    অটলজীর মৃত্যুতে নলহাটিতে মাথা মুণ্ডন করে শ্রাদ্ধ সারল বিজেপি, নানুরে কর্মীদের মারধর।    “সাম্প্রদায়িক বিজেপিকে রুখতে পশ্চিমবঙ্গের মহিলারাই যথেষ্ট” : চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।    ‘বাংলাকে কাশ্মীর হতে দেব না’! শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার দাবি উঠল হিন্দু সংহতির সভায়।    নারদ তদন্তে ‘ভুয়ো কোম্পানি’-র তথ্য দিয়েছেন রত্না! আয়কর বিভাগকে চিঠি ইডির।    শিলিগুড়ির ১৫ বছরের কিশোরীর অঙ্গে পুনর্জীবন ৩ টি প্রাণের।    প্রকাশিত হল রাজ্যে গ্রুপ-ডি নিয়োগের ফলাফল।    মুম্বই থেকে মুর্শিদাবাদে বাড়ি ফেরার পথে বারাকপুরে ট্রেনে মৃত্যু রেলযাত্রীর।    আজ আপনার কেমন যাবে জেনে নিন।    গড়িয়ায় আক্রান্ত অভিনেতা, সোনারপুর থানায় অভিযোগ দায়ের।    অক্ষয় ফের কমেডি ছবিতে ফিরছেন ‘হেরা ফেরি’-৩ নিয়ে।    প্রেমে পড়েছেন শ্রাবন্তী, গুঞ্জন টলিপাড়ায়।    ছোটে নবাব স‌ইফ আলি খানের জন্মদিন পালন হল একেবারে নবাবীয়ানায়।    বাহুবলীর প্রভাসকে দেখা যাবে ‘সাহো’ ছবিতে।    অসুস্থ কিংবদন্তী সঙ্গীতশিল্পী দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়, ভর্তি এসএসকেএমে।    ধর্মঘটের জেরে বন্ধ হতে চলেছে বাংলার টেলি সিরিয়াল।
BREAKING NEWS:
  • আটলবিহারী বাজপেয়ীর অন্তিম যাত্রা
  • শেষ শ্রদ্ধা জানাতে অগনিত মানুষ রাস্তায়
  • রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন অন্ত্যেষ্টি ক্রীয়া।
{"effect":"slide-h","fontstyle":"normal","autoplay":"true","timer":4000}


ফিরছে বাংলার বক-নৃত্য

চিত্ত মাহাতো, ঝাড়্গ্রাম, ১২ জুন: বাংলার হারিয়ে যাওয়া প্রাচীন নৃত্য – শৈলীর অন্যতম বক-নৃত্য আবার ফিরছে এই বাংলায়। বঙ্গ লোক -সংস্কৃতির অভিনব নৃত্য ঘরানা ফের সফর শুরু করতে চলেছে।

ছৌ-ঘরানার এই নৃত্য সৃজনীটি হল, একটি বিশালাকৃতির বকের নৃত্য ব্যাঞ্জনার বিচ্ছুরণ। যা বাংলার লোকশিল্পের গৌরবকে একদিন অন্যমাত্রা দিয়েছিল। সালটা ছিল ১৯৮৫। ভারতের প্রধান মন্ত্রী রাজীব গান্ধী সস্ত্রীক উপস্থিত
রয়েছেন দিল্লির আপনা উৎসবে। মঞ্চে বাউল গানের পরেই ডাক পড়ল বাংলার বক নাচের। সাদা কাপড় আর কাগজে মোড়া বাঁশের ছাঁচের বিশাল বকটির মাথা ঠোট নাড়তে নাড়তে মঞ্চের দিকে এগিয়ে আসা দেখে অভিভুত হয়ে যান প্রধানমন্ত্রী। নৈসর্গিক আলোক সরণির মধ্য দিয়ে বকটি মঞ্চে হাজির হতেই সমবেত দর্শকমণ্ডলীর কৌতূহল আছড়ে পড়তে লাগল। এই সময় গর্জে উঠল ভোলা কালিন্দীর সানাই ও লবেন মুরমু এবং ত্রিলোচন মাহাতোর ঢোল-বাদ্যের ঐক্যতান। তাদের সমবেত বাজনার তালে তালে যখন বকের ভেতর ঢুকে থাকা বংকিম রায় বকটিকে ছৌ-ঘরানার বিশেষ শৈলীতে আগুপিছু নাচাতে লাগল তখন স্বয়ং রাজীব গান্ধী, সনিয়া গান্ধী সহ নাটমঞ্চের সামনে সমবেত হাজার হাজার দর্শকের তুমুল করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা উৎসব প্রাঙ্গন। সেদিন বক- নৃত্যের নৃত্য পরম্পরার অভিনবত্ব দেখে সকল দর্শকের থেকে বেশি মুগ্ধ হয়েছিলেন সস্ত্রীক প্রধান মন্ত্রী রাজীব গান্ধী। এক ঘন্টার অনুষ্ঠান তারা তাড়িয়ে উপভোগ করার পর আপ্লুত প্রধানমন্ত্রী ও সোনিয়া গান্ধী বক- নৃত্যের ৪ জন শিল্পী ভোলা কালিন্দী, বংকিম রায়, ত্রিলোচন মাহাতো ও লবেন মুরমুর সঙ্গে করমর্দন করেন এবং মঞ্চে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ছবি তলেন।
পরের দিন তাদের সঙ্গে একই টেবিলে সস্ত্রীক লাঞ্চ করেন মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী। প্রথমদিন বক নৃত্যের নিপুণতায় অভিভুত হয়ে আপনা উৎসবে প্রতিদিন বক-নৃত্য পরিবেশন করার জন্য উৎসব কমিটি ঝাড়্গ্রামের জয়পুর গ্রামের দলটিকে দিল্লিতে একমাস রেখে দিয়েছিল।

তার পর ১৩৯৩ সালের ৭ পৌষ শান্তি নিকেতনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১২৫ তম জন্ম বর্ষ পুর্তি উৎসবে এই দলের বক – নাচ পরিবেশিত হয়েছিল।
সেদিন মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন কবিগুরুর স্নেহধন্য শান্তিদেব ঘোষ ও রবীন্দ্র অনুরাগী উপাচার্য নিমাই সাধন বসু। তারা বক-নৃত্যের ললিত ভঙ্গিমার ভূয়সী প্রশংসা করেন। সেদিন বক-নৃত্য দেখেন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু এবং তথ্য সংস্কৃতি মন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য।

আটের দশকে রবীন্দ্র সদনে পর পর
কয়েক বছর নৃত্য পরিবেশিত হয়।
তারপর আর্থিক সংকট ও নানা প্রতিবন্ধকতায় বন্ধ হয়ে যায় এই ঐতিহ্যপূর্ণ লোক সংস্কৃতির গুরুত্ববাহী অংশটি। এতদিন পর আবার তাদের খুঁচিয়ে তুলেছে ভেতরে ভেতরে গুমরাতে থাকা নৃত্য পরিবেশনের কাকুতি। তাই জাদুঘরের মতো গোয়ালঘরে তিন দশক টাঙিয়ে রাখা বকের কাঠামো নামিয়ে এবার ফের বকটিকে সাজিয়ে তুলছেন বংকিম রায়। সানাই বাদক ভোলা কালিন্দী বছর দুয়েক আগে মারা গেছেন। তার বদলে সানাইয়ে সুর ভাঁজছেন পাঁড়ু কালিন্দী। চামড়া পাল্টে ঢাকে নতুন করে বোল তুলছেন ত্রিলোচন মাহাতো ও লবেন মুরমু।

সুতরাং বাংলার লোক নৃত্যের আঙ্গিনায় খুব শীঘ্রই যে বক নৃত্য ফিরতে চলেছে তার পদ ধ্বনি শোনা যাচ্ছে।

Leave a Reply

Be the First to Comment!

avatar
  Subscribe  
Notify of