বিজ্ঞাপনের জন্য আমাদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম : amaderbharatdesk@gmail.com    “ওদেরকে শাস্তি দেওয়ার সময় এসে গেছে” কংগ্রেসকে তোপ যোগগুরু রামদেব বাবার।    রাত পোহালেই রাজ্যে দ্বিতীয় দফায় নির্বাচন।     দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রে হবে ভোটগ্রহণ।    “টাকার থলি নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছে আরএসএসের দালালরা” অভিযোগ মমতার।    সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ছয় মাসের মধ্যেই বিধানসভা ভোট করাব বললেন আলুয়ালিয়া।    ঝাঁটা হাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে এলাকা ছাড়া করার নিদান রাজ্যের মন্ত্রীর।    কান্দিতে অধীর গড়ে দাঁড়িয়ে কংগ্রেস ও বিজেপিকে তোপ মমতার।    নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য “ইউনিক কালার কোডিং” ব্যবস্থা।    আরও কড়া হল কমিশন, দুবের মাথায় বসল নতুন পর্যবেক্ষক।    অমিত, যোগীর জোড়া ফলায় মমতাকে ঘায়েলের চেষ্টা বিজেপির।    জয়ের প্রচারে আমতায় রাজনাথ সিং।    ঘাটালে একা কুম্ভ ভারতী।    আজ আপনার কেমন যাবে জেনে নিন।    ভোটের দিনগুলোয় কেন্দ্রীয় নেতাদের এনে কিস্তিমাত করতে কৌশল বিজেপির।


অসীম বঞ্চনা আর জীর্ণ ঘরেই জীবনের শেষ দিন কাটাচ্ছেন পুরুলিয়ার কুষ্ঠাশ্রমের প্রবীণ আবাসিকরা

আমাদের ভারত ডেস্ক, ৩০ জানুয়ারি: আধুনিক সমাজেও ওরা বঞ্চনা আর উপেক্ষার শিকার। অবহেলিত ওই মানুষগুলি কাউকে কাছে পেলেই আশা-প্রত্যাশা নিয়ে কাছে গিয়ে করজোড়ে দাঁড়িয়ে পড়েন। এঁরা সবাই বৃদ্ধ-বৃদ্ধা। এঁরা সবাই পুরুলিয়া-২ ব্লকের ছোট বলরামপুরের এক প্রান্তে অবস্থিত কুষ্ঠাশ্রমের আবাসিক। ঘটা করে এদিন ‘লেপ্রসি বিরোধী দিবস’ পালিত হলেও তাঁদের কাছে উপযুক্ত সরকারী পরিষেবা পৌঁছায় না বলেই একরাশ অভিমান নিয়ে জানালেন প্রবীণ আবাসিক কুস্তম সিং মুড়া। জরাজীর্ণ খোলার চালের বাড়ি। সেখানেই জীবনের বঞ্চনার শেষ দিনগুলি কাটাচ্ছেন বলে জানান ওই প্রবীণ। তাঁর কথার রেস নিয়ে আরেক আবাসিক বুধু মাহাতো বলেন, ২০০৭ সালে একটি পাকা বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হলেও তা ব্যবহারের অনুপযুক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্ষাকালে সেই বাড়ি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠে। ছাদ চুইয়ে জল পড়ে ঘরময়।
১৯৩৭ সালে তত্কালীন ব্রিটিশ সরকার এই কুষ্ঠাশ্রমটি নির্মাণ করেছিল বলে জানা গিয়েছে। সমাজে উপেক্ষিত এবং তথাকথিত ‘অচ্ছুত’ মানুসগুলিকে তাঁদের পরিবার বিতাড়িত করেছিল। তার পর থেকে এই আশ্রমে থেকেই শেষ দিন কাটান অনেকে। ১৯৮৬ সালে ১৯৪ জন আবাসিক ছিলেন। ১৯৯১-৯২ সালে কংসাবতী নদীর জলের স্রোতে ভয়ংকরভাবে ভেসে যান অনেকে। মারা জানা তাঁরা। বর্তমানে এই আশ্রমে ১৮ জন পুরুষ এবং ১৫ জন মহিলা রয়েছেন। এঁদের কুড়ি জনেরও বেশি সত্তোর্দ্ধ। গত এক হল ১৬ জনের মাসিক ৭৫০ টাকা করে ভাতা চালু হয়েছে। ১০ কিলোগ্রাম চাল দিয়ে তিনবেলার আহার তৈরি করতে হয় সারা মাস ধরে। জীর্ণ শরীর ভারক্রান্ত মন কাজ করার জন্য আর সাথ দেয় না। ক্ষোভের সঙ্গে বললেন ছেলে বেলা থেকেই পরিবার থেকে বিতাড়িত সত্তোর্দ্ধ জুলি মোদক এবং গঙ্গারানি ব্যানার্জি। চিকিত্সা ঠিক নয়, স্বাস্থ্য দফতর থেকে অনিয়মিত এক জন স্বাস্থ্য কর্মী এসে ঘায়ে ব্যাণ্ডেজ দিয়ে যান বলে জানান আবাসিকরা।
এদিন ওই আশ্রমে গিয়ে আবাসিকদের হাতে কিছু খাবার তুলে দেন লোকসেবক সংঘের সচিব সুশীল মাহাতো। তিনিও সরকারী বঞ্চনার অভিযোগে সরব হয়ে বলেন, ‘সরকারী আধিকারিকরা কেন এঁদের বাসযোগ্য বাড়ি তৈরি করছেন না? সমাজ এবং প্রশাসন সবাই এঁদের আজও অচ্ছুত করে রেখেছে। এঁরা রোগাক্রান্ত বলেই এই বঞ্চনা বলে মনে হয়।’ এদিন ওই আশ্রমে আবাসিকদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন পুরুলিয়া জেলা পরিষদের স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ পুষ্প বাউরী।

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of