যেকোন রকম বিজ্ঞাপনের জন্য আমাদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম : amaderbharatdesk@gmail.com    ৩ হাজারের বেশি অ্যান্টি ট্যাংক মিসাইল কিনতে পারে ভারত ফ্রান্স থেকে।     কংগ্রেসের ইস্তেহারে রামমন্দির যুক্ত হলে আমরা তাদের সমর্থনের কথা ভাবতে পারি : ভিএইচপি।    বিজেপির বিরুদ্ধে কংগ্রেসের প্রার্থী হতে পারেন করিনা কাপুর।    মমতা নয় রাহুলকেই নেতা দেখতে চান তারা, ব্রিগেডের পরেই জানালেন তেজস্বী, স্টালিনরা।     একসময় কাগজ কুড়াতেন আজ চণ্ডীগড়ের মেয়র এই বিজেপি নেতা।    ব্রিগেডে খরচের উসুল তুলতে ব্যর্থ তৃণমূল, সোশ্যাল মিডিয়ায় মোদিকে হারিয়েই সন্তুষ্ট।    মালদায় অমিত শাহ-যোগীর সভা সফল করার জন্য বিজেপির তিন প্ল্যান।    ব্রিগেডের সভার বদলে আসানসোলে সভা করবে প্রধানমন্ত্রী, জানালেন দিলীপ ঘোষ।    জম্মু-কাশ্মীরে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে বিজেপি , দাবি রাম মাধবের।    জয়নগরে অমিত শাহের সভার আগেই রাস্তাঘাট তৃণমূলের দখলে।    লোকসভা নির্বাচনকে মাথায় রেখে সফরে জিটিএর প্রতি মুক্তহস্ত মমতা।    ডুয়ার্সে চিতাবাঘের চামড়া সহ আটক পাঁচ চোরাচালানকারী।    আজ আপনার কেমন যাবে জেনে নিন।    বিজেপি নেতার মাতৃবিয়োগে সমবেদনা জানাতে দুর্গাপুরে রাজ্যপাল।


তেলির ঘর থেকে রাজদরবারে

সম্রাট গুপ্ত, কলকাতা, ১৬ মে: জন্ম তেলির ঘরে,  ১৮৩৮-এ। মাত্র ৪৬ বছরে স্বীকৃতি পেয়েছিলেন রূপকথার মত। পড়াশোনা ওরিয়েন্টাল সেমিনারিতে। ইংরেজি শেখেন ডিএল রিচার্ডসনের কাছে। ছিলেন হিন্দু মেলার অন্যতম উদ্যোক্তা। কলকাতায় তাঁর মত আর কোনও বাঙালি সাংবাদিকের মূর্তি আছে কি না, জানা নেই। আগামী ২৪ জুলাই পূর্ণ হবে ভুলতে বসা এই স্মরণীয় সাংবাদিকের ১৮০ বছর। উল্লেখ্য, এ বছর ২৩ মে পূর্ণ হচ্ছে বাংলা সংবাদপত্রের ২০০ বছর।
নাম কৃষ্ণদাস পাল(১৮৩৮-১৮৮৪)। বক্তা এবং সাংবাদিক হিসাবে নাম করেন। ‘হিন্দু প্যাট্রিয়ট’-এর সম্পাদক ছিলেন বেশ ক’বছর। কাগজটিকে সমীহ করতেন ব্রিটিশরা। প্রথমে ব্রিটিশ ইন্ডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সহকারী সম্পাদক এবং পরে (১৮৭৪-১৮৮৪) সম্পাদক ছিলেন। ১৮৬৩-তে হন জাস্টিস অফ পিস এবং মিউনিসিপাল কমিশনার। ১৮৭২-এ বিধান পরিষদের সদস্য (এমএলসি)।১৮৭৮ সালে ওনাকে The Most Eminent Order of the Indian Empire, Companion (C.I.E.) উপাধিতে অলঙ্কৃত করা হয় । ১৮৮৩-তে  হন  ভাইসরয় কাউন্সিলের সদস্য। ১৮৭৭-এ পান রায়বাহাদুর উপাধি।
মাত্র ৪৬ বছর বেঁচেছিলেন কৃষ্ণদাস পাল। লর্ড রিপন লিখেছেন, “হিজ ইনটেলেকচুয়াল অ্যাটেনমেন্টস ওয়্যার অফ এ হাই অর্ডার, হিজ রিহ্টোরিক্যাল গিফ্টস ওয়্যার অ্যাকনোলেজড বাই অল হু ওয়্যার এনহান্সড হোয়েন অ্যড্রেসিং বাই হিজ থরো মাস্টারি ওভার দি ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ।“
বহুমুখী প্রতিভার এই বাঙালি সাংবাদিকের পূর্ণমূর্তি আছে মধ্য কলকাতায়। এর আবরণ উণ্মোচন করেন লর্ড এলগিন। সহকর্মী সাংবাদিক গৌতম বসুমল্লিক জানিয়েছেন, ১৮৯৪-এর ৬ মার্চ হ্যারিসন রোড ও কলেজ স্ট্রিটের সংযোগস্থলে এক এক বিরাট অনুষ্ঠান করে মূর্তিটি স্থাপন করা হয়। ওই মূর্তি স্থাপনের মধ্যে দিয়ে প্রথম কোনও ভারতীয় সাংবাদিকের স্মৃতিরক্ষার সূচনা হয় এই শহরে। শ্বেতপাথরের ওই মূর্তিটি তৈরি হয়েছিল ইংল্যান্ডে,নির্মাতা ব্রিটিশ ভাস্কর নেলসন ম্যাকলিন। স্কটল্যান্ডের গ্রানাইট পাথরের পাদপীঠ-সহ মূর্তিটি তৈরি করতে সে যুগে খরচ হয়েছিল চোদ্দ হাজার টাকা। পুরো টাকাটাই এসেছিল কৃষ্ণদাসের ভারতীয় ও ব্রিটিশ অনুরাগীদের দানে।
হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের উদ্যোগে‘হিন্দু পেট্রিয়ট’-এর সম্পাদক হন কৃষ্ণদাস। ভারতীয়দের রাজনৈতিক অধিকার অর্জনের পক্ষে সওয়াল করে গিয়েছেন তাঁর বিভিন্ন সম্পাদকীয় রচনায়। কর্মজীবনের স্বীকৃতি হিসেবে ব্রিটিশ শাসকদের কাছ থেকে ‘রায় বাহাদুর’ ও‘কম্পেনিয়ান অফ দি অর্ডার অফ দি ইন্ডিয়ান এম্পায়ার’ (সি আই ই) উপাধি পেলেও নীতিগত কারণে ‘রাজা’উপাধি গ্রহণে অস্বীকৃত হন এই নির্ভীক সাংবাদিক।
নিম্ন-বর্গীয় তেলী সম্প্রদায় থেকে সদর্পে বাঙালী শিক্ষিত সম্প্রদায়ের মধ্যমণি হয়ে উঠেছিলেন যিনি, সেইকৃষ্ণদাস পালের কথা আজক’জন জানেন?

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of