আর্জেন্টিনাকে দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে হলে যা যা করতে হবে।    ২০১৯-এ তিনশোর বেশি আসন পাবে বিজেপি!    নির্বংশ তৃণমূলে ২০১৯ এর পর বাতি দেওয়ার লোক থাকবে না : রাহুল সিনহা।    উস্কানিমূলক মন্তব্য ! সায়ন্তন বসুর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করলো পুলিশ।    রাজ্য সরকারের নয়, কেন্দ্রের নিরাপত্তা রক্ষী নিতেই ইচ্ছুক মুকুল রায়।    আগেরবারের মত এবারেও শেষ মুহূর্তে বাতিল মুখ‍্যমন্ত্রীর চিন সফর, তবে কারণটা অদ্ভুত।     কোচবিহারে এলে দিলীপ ঘোষকে সাগরদিঘীর জলে দাঁড় করিয়ে রাখার হুঁশিয়ারি মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষের।    তৃণমূল কংগ্রেস যে-ভাষা বোঝে আমরাও সেই ভাষায় বোঝাব : আবদুল মান্নান।    বধূ নির্যাতনের শিকার খোদ আলিপুরের মহিলা আইনজীবী ! গ্রেফতার স্বামী।    ২০১৯ সালে তৃণমূল দল আর বাংলায় থাকবে না : মুকুল রায়।    ঘি এর নামে কি খাচ্ছেন আপনারা ? জানতে দেখুন।     আপনার এ সপ্তাহ কেমন যাবে জেনে নিন আমাদের সাপ্তাহিক রাশিফল থেকে।
BREAKING NEWS:
  • আজকের বিশ্বকাপ ফুটবলের ফলাফল
  • ৬টার খেলায় ব্রাজিল- ২কোস্টারিকা_0
  • ৯টায় নাইজেরিয়া-২ আইসল্যান্ড-০
  • রাত ১২ টায় সার্বিয়া-১সুইজারল্যান্ড-২
{"effect":"slide-h","fontstyle":"normal","autoplay":"true","timer":4000}


২০ লক্ষ টাকা যে ঋণ নিতে পারে সে কি গরিব কৃষক! ফেসবুকে প্রশ্ন তুলেছেন হিন্দু নেতা তপন ঘোষ

তপন ঘোষ, প্রধান উপদেষ্টা, হিন্দু সংহতি:
এই লং মার্চের দাবি, মহারাষ্ট্রের কৃষকদের লোন মুকুব করতে হবে। লোন কত জানেন? এক একজন কৃষকের ৫ লাখ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত। দাবি, ব্যাংক থেকে পাওয়া এই কৃষিঋণ মুকুব করতে হবে।
ভেবে দেখুন, ২০ লক্ষ টাকা ঋণ নেয় যে কৃষক সে গরিব কৃষক কিনা! তার থেকেও বড় কথা, এই ধনী কৃষকদের ঋণ মুকুব করার জন্য ১৫ হাজার কৃষক রাস্তায় নামবে কিনা? না, নামবে না। তাহলে এরা কারা? সেই কথাটা বলার জন্যই এই পোস্ট দিচ্ছি।
মোদীজি আর যোগীজি তো সারা ভারতে ইউনিফায়িং ফ্যাক্টর হয়ে গিয়েছেন। তাই উত্তরপ্রদেশে যেমন চিরশত্রু মুলায়েম ও মায়াবতী হাত মিলিয়েছেন, তেমনি পশ্চিমবঙ্গেও আমরা দেখতে পাচ্ছি মমতা ব্যানার্জি সিপিএমের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন।
সামান্য একটু ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাস জানতে হবে। প্রথম ছিল ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি, সিপিআই। ১৯৬৪ সালে ভেঙে হল সিপিএম। তারপর পশ্চিমবঙ্গে চারু মজুমদার শুরু করলেন উগ্র বামপন্থী আন্দোলন। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছু ভাল ভাল মেধাবী ছাত্র সেই আন্দোলনে যোগ দিলেন। তারা প্রথম প্রয়োগক্ষেত্র বেছে নিলেন সুদূর দার্জিলিং এর একটি ছোট্ট গ্রাম নকশালবাড়িকে। বলপ্রয়োগ করে হিংসার দ্বারা জোতদারদের কৃষি জমি দখল করলেন প্রান্তিক চাষি ও ভূমিহীন কৃষকরা। বামপন্থী আন্দোলনে এটা একটা বিরাট সাকসেস হিসাবে মনে করা হল। তৈরি হল সিপিআই (এম এল), মানে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী লেনিনবাদী)। এরা নকশালপন্থী হিসাবেই পরিচিত হল। কিন্তু তাদের সঙ্গে সিপিআইএমের চরম শত্রুতা এবং সেই শত্রুতা প্রায়শই রক্তক্ষয়ী।
যাই হোক সিপিআই, সিপিএম ভোটে বিশ্বাসী ও অংশগ্রহণ করে। নকশালপন্থীরা পুরোপুরি হিংসায় বিশ্বাস করে। তারা ভোটে অংশগ্রহণ করে না। উগ্রপন্থায় বিশ্বাসী এই নকশাল আন্দোলন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ল। সব থেকে বেশি ছড়াল অন্ধ্রপ্রদেশ ও ছত্তিসগড় রাজ্যে। তা ছাড়াও মহারাষ্ট্র, ঝাড়খন্ড, মধ্যপ্রদেশ ও উড়িষ্যাতেও বেশ কিছুটা ছড়াল। তারা বহু হিংসাত্মক ঘটনা ঘটালো। বহু পুলিশ ও সাধারণ মানুষ হত্যা করল। এই হত্যাকান্ড এখনও চলছে।
ইতিমধ্যে এই সিপিআই (এম এল) ও ভেঙে অনেক টুকরো হয়ে গেছে। সেই দলগুলো নিজেদের মাওবাদী দল বলে। কিন্তু সিপিএমের সঙ্গে কখনও এই নকশালপন্থী ও মাওবাদীদের মিল হয়নি। এরা পরস্পরকে নির্বিচারে ও নৃশংসভাবে খুন করেছে।
কিন্তু…….চিরদিন কাহারও সমান নাহি যায়। ১৯৮৪ সালে ইন্দিরা গান্ধীর মৃত্যুর পর লোকসভা নির্বাচনে রাজীব গান্ধী একাই ৪১৩-টি সিট জিতে তিন চতুর্থাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় বসলেন। রাজনীতি বিরোধীরা ধুলায় মিশে গেল। মনে হল যেন the end of history।
ঠিক সেই বছরই ভারতের মাটিতে বহু লক্ষ বছর পর আবার নেমে এলেন রাম। শুরু হল রামের নাম নিয়ে রাজনীতি। কেউ রামনাম নিয়ে রাজনীতির দরিয়া পার হতে চাইল। আর কেউ বা রামের নামে চরম কুৎসা ও নিন্দা করতে লাগল। বিশেষ করে বামপন্থী মাকুরা। সেই ১৯৮৪ থেকে আজ পর্যন্ত অনেক ওঠাপড়া হয়েছে। কিন্তু রাজনীতি আবর্তিত হয়েছে মাত্র দুটি কেন্দ্রকে ঘিরে। রাম ও জাত।
এই ৩৪ বছরে রাজনীতির এখনও পর্যন্ত পরিণাম এই যে, দেশে মোদীরাজ ও যোগীরাজ প্রতিষ্ঠিত এবং গোটা দেশে রামনামের বন্যা। সবাই বোধহয় ইতিমধ্যে জেনে গিয়েছেন যে পশ্চিমবঙ্গে শাসক তৃণমূল দল প্রতি জেলায় জেলায় এবার রামনবমীর শোভাযাত্রা বের করবে এবং বিবেকানন্দের শিকাগো বক্তৃতা স্কুলের পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত করতে চলেছেন। পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরা থেকে কমিউনিস্টরা মুছে গিয়েছে। কেরালা শুধু সময়ের অপেক্ষা। ওদিকে গান্ধী পরিবারের জন্য ইতালিতে বাসগৃহ তৈরি হচ্ছে। সেটা দেখতেই আমাদের রাহুলবাবা এই কদিন আগে ইতালি গিয়েছিলেন দিদিমার সঙ্গে দেখা করার নাম করে।
অর্থাৎ দেশে রামনামের বন্যায় সাপ, ব্যাঙ, ইঁদুর, শিয়াল, কুকুর সব এক জায়গায় জড়ো হয়েছে। প্রাণ বাঁচানোর শেষ তাগিদ। বন্যার সময় ঢিবিতে আশ্রয় নেওয়া সাপ ইঁদুরকে খায় না। বন্যার জল নামার জন্য অপেক্ষা করে।
এই পরিস্থিতিতে মহারাষ্ট্রের কৃষক আন্দোলন। ঋণ মুকুবের এই আন্দোলনের ডাক দিয়েছে সিপিএমের কৃষক সভা। মহারাষ্ট্রে সিপিএমের কতটুকু শক্তি আছে? এমএলএ, এমপি তো দূরের কথা, একটা পঞ্চায়েত পর্যন্ত সেখানে নেই। তাই নাসিক থেকে এই লং মার্চ প্রথমে কয়েকশ কৃষক নিয়ে শুরু হয়েছিল। তারপর বাড়তে বাড়তে এই সংখ্যা প্রায় ২৫-৩০ হাজারে পৌঁছে গেল। কি ভাবে? অন্য জায়গার সিপিএম সমর্থক কৃষকরা যোগ দিল? না।
সংবাদ থেকে জানা যাচ্ছে যে কংগ্রেস ও শারদ পাওয়ার-এর এনসিপি দল টাকা দিয়ে লোক পাঠিয়েছে এই মিছিলে। কিন্তু তা ছাড়াও প্রচুর আদিবাসীকে দেখা যাচ্ছে এই মিছিলে। তাতে কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু দুটি প্রশ্ন থেকে যায়। (১) আদিবাসীরা তো কোনও কৃষিঋণ নেয়ই না। (২) তাদের কারা সংগঠিত করে নিয়ে এল?
সামান্য খোঁজ নিয়েই জানা গিয়েছে যে মহারাষ্ট্রের আদিবাসী অঞ্চলে নকশালপন্থী ও মাওবাদীদের কিছু সংগঠন আছে। সেই সংগঠনগুলিই আদিবাসীদের সিপিএমের এই মিছিলে নিয়ে এসেছে। অর্থাৎ তারা তাদের জন্মলগ্ন থেকে সিপিএমের সঙ্গে শত্রুতা ভুলে ৫০ বছর পর এক হয়েছে। কারণ দেশে মোদী ও যোগী রাজ এবং সমাজে রামনামের বন্যা। তারা সবাই আশা করে যে সময়ে বন্যার জল তো নেমে যাবে, কিন্তু ততদিন দানাপানি না পেলে যে শুকিয়ে প্রাণে মারা পড়বে! আর তাদের দানাপানি তো রাজনীতি ও ক্ষমতা থেকে আসে। সেই ক্ষমতা থেকে বেশিদিন বাইরে থাকলে দানাপানি বন্ধ হয়ে যাবে। আগামী ২০১৯-এ প্রাণ বাঁচানোর শেষ সুযোগ। সেই সুযোগ হাতছাড়া করা প্রাণঘাতী হয়ে যাবে।
২০১৯ এর সুযোগকে কাজে লাগাতে হলে কেউ একা পারবে না। তাই সাপ, ব্যাঙ, ইঁদুর, কুকুর, বেড়াল, নেকড়ে, হায়না সবাইকে এক হতে হবে। তারই ট্রায়াল মহারাষ্ট্রের এই তথাকথিত কৃষক আন্দোলন। সিপিএম, কংগ্রেস, এনসিপি, শিবসেনা, নকশাল, মাওবাদী এতে সওয়ারি। কৃষকের ঋণ মুকুব একটা অজুহাত মাত্র।

loading...

Leave a Reply

Be the First to Comment!

avatar
  Subscribe  
Notify of