বিজ্ঞাপনের জন্য আমাদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম : amaderbharatdesk@gmail.com    ১৯শেই সাফ তৃণমূল : মোদী।    চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে জেলে যাবেন পার্থ : কৈলাশ বিজয়বর্গীয়    আমি বিজেপির ভয়ানক বিরোধী, কিন্তু এটা উকিলের চোখে ধরা পড়ছে মূর্তি টিএমসিপি ভেঙেছে : অরুণাভ ঘোষ।    মুখ্যমন্ত্রীর প্ররোচনায় নরসংহার শুরু করতে পারে তৃণমূল, রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি বিজেপির।    তৃণমূল বিদ্যাসাগরের মূর্তি যে ভেঙ্গেছে সেখানে পঞ্চ ধাতুর মূর্তি বানিয়ে দেব : ঘোষণা মোদীর।    সারদা নরদা নিয়ে বড় বড় কথা আর চিটফান্ডের মালিকের মাঠে সভা করছে প্রধানমন্ত্রী : মমতা।    কমিশনের নির্দেশ অমান্য ! স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে গরহাজির রাজীব কুমার।    এবার লালবাজারে ডাকা হতে পারেন অমিত শাহকে!    ক্ষুব্ধ ঝাড়গ্রামের নীরব অপেক্ষা ফলাফলের জন্য।    “নারী শিক্ষার দিশারীকে ভূ-লুন্ঠিত হতে হল বাঙালীদের হাতে, এর থেকে লজ্জা কি আছে?”: ক্ষোভ বীরসিংহবাসীর।    রানাঘাটের মত নিশ্চিত আসনেও সিঁদুরে মেঘ দেখছে তৃণমূল।    মহামিছিল করে ভাটপাড়ায় প্রচার শেষ করতে চান মদন।    আজ আপনার কেমন যাবে জেনে নিন।    নির্বাচনের আগে ভোট পরিস্থিতি খতিয়ে দেখলেন বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক বিবেক দুবে।


“যে রাজ্যে পুলিশ আধিকারিকরা সুরক্ষিত নয়, সেখানে সাধারণ মানুষের সুরক্ষা কোথায় ?” প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর

আমাদের ভারত, ডায়মন্ড হারবার, ১৫ মে: যে রাজ্যে আইপিএস’দের মত পুলিশ আধিকারিকরা সুরক্ষিত নয়, নিশ্চিন্ত নয়, সেখানে সাধারণ মানুষের সুরক্ষা কোথায়? বুধাবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ ২৪ পরগণার ডায়মন্ড হারবারের লাইট হাউস মাঠে নির্বাচনী জনসভায় এসে এই প্রশ্ন তুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, “এরাজ্যে আইপিএস আধিকারিকরা ঐ দিদির ভয়ে চাপে থাকেন। তাদের সর্বক্ষণ মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। আর সেই কারণেই আইপিএস পুলিশ আধিকারিকদের আত্মহত্যা করতে হয়। যে রাজ্যে পুলিশ সুরক্ষিত নয়, সেখানে সাধারণ মানুষের সুরক্ষা কোথায়?” বুধবার ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী নীলাঞ্জন রায়ের সমর্থনে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেন নরেন্দ্র মোদী। মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে একের পর এক এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার ভাইপো তথা ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। এদিনের সভায় নরেন্দ্র মোদী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কৈলাস বিজয়বর্গী ও জেলা ও রাজ্যে স্তরের বিজেপি নেতৃত্ব।

বুধবার সন্ধ্যা ছটা নাগাদ সেনা বাহিনীর হেলিকপ্টার করে ডায়মন্ড হারবারের লাইট হাউস মাঠে আসেন নরেন্দ্র মোদী। মঞ্চে উঠেই মাঠে উপস্থিত বিজেপি কর্মী সমর্থকদের উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এরপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রথমে বাংলাতেই শুভেচ্ছা বিনিময় করেন বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী। এরপর প্রায় আধ ঘণ্টার বক্তব্যে একের পর এক এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেন তিনি। তিনি অভিযোগ করেন, “ দিদি ও তার প্রশাসন এ রাজ্যে বিজেপিকে আটকানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু সব চেষ্টা বিফল হবে। ১৯শে মে ডায়মন্ড হারবার, জয়নগর সহ সবকটি লোকসভা কেন্দ্রেই বিজেপি প্রার্থী বিপুল ভোট পাবেন”। তিনি আরও অভিযোগ করেন, “ এ রাজ্যে গণতন্ত্র নেই। খুনের রাজনীতি চলছে। বিজেপিকে আটকানো হচ্ছে। প্রার্থীদের উপর হামলা হচ্ছে। তাদের মিথ্যা মামলায় জড়ানো হচ্ছে। কিন্তু এসব করেও বিজেপিকে আটকাতে পারবেন না”। সারা দেশের মধ্যে বাঙালির মাথা উঁচু ছিল, সেই মাথা দিদি নিচু করে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “এ রাজ্যে জয় মা দুর্গা, জয় মা কালি এমনকি জয় শ্রীরাম বলাও অপরাধ। কি হয়েছে আপনার দিদি? কেন এমন আচরণ করছেন? প্রশ্ন তোলেন নরেন্দ্র মোদী। এই রাজ্যে পিসি ও ভাইপোর তোলাবাজি ও সিন্ডিকেটের রাজনীতি চলছে। সাধারণ মানুষকে ছোট ব্যবসা করতে গেলে, বাড়ি বা জমি কিনতে গেলেও দিদি ও ভাইপোকে তোলাবাজি দিতে হয়। আর সেই কারণেই এ রাজ্যে কোনও শিল্প আসছে না। এমনকি বন্ধ হয়ে যাওয়া পাট শিল্প সহ অন্যান্য কারখানা খোলেনি এখনো। যারা যারা চুরি, তোলাবাজির সাথে যুক্ত তাদের কাছেই বিজেপি খারাপ, নরেন্দ্র মোদী খারাপ বলে দাবি করেন প্রধান মন্ত্রী।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “পুলওয়ামার হামলার জবাব আমাদের বায়ুসেনার জাওয়ানরা দেওয়ায় অনেকেই কষ্ট পেয়েছেন। পাকিস্তান তাদের কাছে অনেক প্রিয়। তাদের মধ্যে দিদিও আছেন। তিনি প্রকাশ্যেই বলেন ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে বুঝে নেবেন। আমি প্রধানমন্ত্রীকে মানি না। তাহলে কি উনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রী বলে মানেন?” এই সমস্ত পাকিস্তান প্রেমী, তোলাবাজ ও ঘুষখোরদের খুঁজে খুঁজে বদলা নিতে হবে বলে সভায় আগত বিজেপি কর্মী সমর্থক ও ডায়মন্ড হারবারের সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে বার্তা দেন তিনি। অন্যদিকে সরকারি রাস্তা দখল করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের কার্যালয় বানিয়েছেন বলে ও অভিযোগ তোলেন নরেন্দ্র মোদী।  

অন্যদিকে, পুনরায় নির্বাচিত হওয়ার পর আগামী ২০২২ সালের মধ্যে দেশের সমস্ত গরীব পরিবারকে পাকাঘর, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ দেওয়ার কথা বলেন তিনি। আর সেই কারণেই আরও একবার কেন্দ্রে মোদী সরকার তৈরি করতে আগামী ১৯ শে মে চুপচাপ পদ্মফুলে ছাপ ও চুপচাপ সব বুথ থেকে তৃণমূলকে সাফ করার ধ্বনি তোলেন নরেন্দ্র মোদী। এদিন মোদীকে দেখা ও তার বক্তব্য শোনার জন্য লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হয়েছিল ডায়মন্ড হারবারের লাইট হাউস মাঠে।    

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of