১৩ শিশুর মৃত্যুর কারণ মোবাইল ফোন।    কাশ্মীরের মুখ‍্যমন্ত্রীকে জেহাদি বললেন কাঠুয়াকান্ডে অভিযুক্তদের আইনজীবী।    ১৪ মে বাংলায় পঞ্চায়েত নির্বাচন, ১৭ মে গণনা! অবশেষে দিন ঘোষণা নির্বাচন কমিশনের।    টিকিট দেয়নি দল, তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দুবারের বিজয়ী লড়াকু প্রার্থীর।    ‘গণতন্ত্রকে বলি দিয়ে, সংবিধানকে কচু কাটা করে কী প্রয়োজন এই ভোটের?’ প্রশ্ন তুললেন প্রাক্তন বিচারপতি অশোক গঙ্গোপাধ্যায়।    পঞ্চায়েত ভোটে ‘বিজেপির জয়ের কলঙ্ক’ থেকে পশ্চিমবঙ্গকে মুক্ত রাখার ডাক বুদ্ধের।    চার্জ দেওয়া অবস্থায় মোবাইল ফোনে কথা বলতে গিয়ে মৃত্যু কিশোরের।     পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিন ঘোষনা হওয়ার খুশি মুখ্যমন্ত্রী।    একদফা ভোট নিয়ে বিজেপির কোনও আপত্তি নেই।    অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে অবস্থানে বসবে বামেরা : বিমান বসু।    নারকেলডাঙার রাজাবাজারে মিলল ২০ হাজার কেজি ভাগাড়ের মাংস, শহর জুড়ে তল্লাশি।    আপনার এ সপ্তাহ কেমন যাবে জেনে নিন আমাদের সাপ্তাহিক রাশিফল থেকে।
BREAKING NEWS:
  • ভোটের দিন ঘোষনা হল।
  • সারা রাজ্যে 14 মে একদফায় ভোট।
  • ভোটে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন বিরোধীদের।
  • পঞ্চায়েত ভোট গননা 17 মে।
{"effect":"slide-h","fontstyle":"normal","autoplay":"true","timer":4000}


বিবেকানন্দের স্বেচ্ছামৃত্যুর ধারাভাষ্য

মধুকল্পিতা চৌধুরী দাস

বিবেকানন্দের আয়ু যে মাত্র ৩৯ বছর, তা তাঁর মা-বাবা জানতেন। ছোট বেলায় ছেলে বিলে অর্থাৎ নরেনের কোষ্ঠী বিচার করান তাঁর বাবা প্রখ্যাত আইনজীবী বিশ্বনাথ দত্ত। মা ভূবনেশ্বরী দেবীও ছেলের স্বল্পায়ুর কথা জেনে গিয়েছিলেন। ছেলের আয়ু বাড়াতে কালীঘাটের মন্দিরে ‘মানত’ করেন ভূবনেশ্বরী দেবী।
এর মধ্যে বিবেকানন্দ পরিব্রাজক হিসেবে বিশ্বভ্রমণের পর বেলুড় মঠের রামকৃষ্ণ মিশনে স্থায়ীভাবে থাকতে শুরু করেছিলেন। বিবেকানন্দ সিমলা স্ট্রিটের পৈত্রিক বাড়িতে যাতাযাত না করলেও মায়ের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল। মঠের একজন মহারাজ দুজনের মধ্যে যোগসূত্রের মাধ্যম ছিলেন। সেই মহারাজকে একদিন ভূবনেশ্বরী দেবী বলেন, ‘‘নরেনকে একটু বলবি, কালিঘাটের মানতের কথা? আমি মানতের কথা ভুলে গিয়েছিলাম। ওর যেদিন সময় হবে, সেদিন যেন কালিঘাটের মন্দিরে যায়। আমিও যাব পুজো দিতে।’’ মায়ের কথাকে মান্যতা দিতে বিশ্ববিখ্যাত বিবেকানন্দ যান কালিঘাটের মায়ের মন্দিরে। উপস্থিত লোকজন তাঁকে গেরুয়া বসনে দেখে অবাক হয়ে যান। মন্দিরে পুজো দেওয়া হয়। নিষ্ঠাভরে তিনি মন্দিরের চাতালে বসে মায়ের মানত সম্পূর্ণ করেন।
৩৯ বছর ৪ মাস বয়সে স্বামীজির মৃত্যু হয়। মানত বা দিয়েও স্বামীজির আয়ু একবছরও বাড়ানো সম্ভব হয়নি। এমনকি স্বামীজি নিজেও নাকি জানতেন , তাঁর মৃত্যু হবে ৩৯ বছর বয়সেই।
তবে, স্বামীজির মৃত্যু নিয়ে বিভিন্ন মহ‌লে বিভিন্ন মত রয়েছে। কেউ কেউ বিশ্বাস করেন, স্বামীজি স্বেচ্ছামৃত্যু হয়েছিল। সে বিষয়েই আমরা আলোচনা করেছিলাম বিশিষ্ট দুই সাংবাদিক সুজিত রায় ও শ্যমলেন্দু মিত্রের সঙ্গে।
স্বামীজির বেশ কিছু অনুগামী বিশ্বাস করেন যে, তাঁর স্বেচ্ছামৃত্যু হয়েছিল। ঠিক তেমনই স্বামীজির স্বেচ্ছামৃত্যুর তত্ত্বকে বিশ্বাস করেন সুজিত রায়। তিনি ‘ বিবেকানন্দের স্বেচ্ছামৃত্যুর ধারাভাষ্য’-বইতে বিবেকানন্দর স্বেচ্ছামৃত্যুর তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছেন।
স্বামীজির মৃত্যু সম্পর্কে সুজিতবাবু বলেন, ‘ স্বামীজির মৃত্যু হয়েছিল তাঁরই ঘরে। তিনি যখন রাতে ধ্যান করছিলেন তখন তিনি অসুস্থ বোধ করেন। এরপরেই শুয়ে পড়েন স্বামীজি। সেই সময় তাঁর এক ব্রক্ষচারী তাঁর সঙ্গে ছিলেন। তিনি পাখার হাওয়া করেন স্বামীজিকে। এর কিছুক্ষণ পরেই স্বামীজি তাঁকে সরে বসতে বলেন। রাত ঠিক ৯টা বাজার কিছুক্ষণ পরে দু-মিনিট অন্তর তিনি দুবার দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। তারপরেই একটা ‘আহ’ শব্দ বের হয় তাঁর মুখ থেকে। এরপরেই তাঁর দেহ স্থির হয়ে যায়।’
স্বামীজিকে দেখার জন্য পরপর দুজন ডাক্তার আসেন। সুজিতবাবুর কথায়, ‘স্বামীজিকে দেখতে প্রথম আসেন ডাক্তার মহেন্দ্রনাথ মজুমদার। তিনি এসে ধরে নেন যে স্বামীজির হৃদযন্ত্র সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। উনি প্রায় দু ঘণ্টা ধরে হৃদযন্ত্রের মালিশ করার পরও স্বামীজির শরীরের উন্নতি হয়নি। এরপর আসেন ডাক্তার বিপিনচন্দ্র ঘোষ। তিনি বলেন, সন্ন্যাস রোগে স্বামীজির মৃত্যু হয়েছে।’
এই বিতর্ক থামার নয়। এই বিতর্ক চলতে থাকবে। সুজিতবাবুর দাবি, স্বামীজি তাঁর মৃত্যু সম্পর্কে সচেতন ছিলেন ১৮৯৭ সাল থেকেই। শুধু তাই নয়, স্বামীজির আয়ু যে ৩৯ বছর পর্যন্ত রয়েছে, তা অনেক আগেই জেনেছিলেন তিনি তাঁর মায়ের কাছ থেকে।
১৮৯৮ সালে কায়রোতে ছিলেন স্বামীজি, সঙ্গে ছিলেন তাঁর বিশিষ্ট সঙ্গী মাদাম কালভে। হঠাৎই স্বামীজি কালভকে ডেকে বলেন, তিনি দেশে ফিরতে চান। কারণ তাঁর মৃত্যুর সময় হয়েছে। আর এই সময় তিনি তাঁর কাছের মানুষদের সঙ্গেই থাকতে চান। কায়রো ছাড়ার আগে তাঁকে স্বামীজি জানান , ৪ জুলাই তাঁর মৃত্যু হবে।
অমরনাথ দর্শনের পর ভগিনী নিবেদিতাকে তিনি বলেন, ‘ আমি শিবের কাছ থেকে স্বেচ্ছামৃত্যুর ‘বর’ পেয়েছি।’ এরপর থেকেই নাকি বিবেকানন্দ নিজেকে অনেকটাই গুটিয়ে নেন।
বিবেকানন্দর স্বেচ্ছামৃত্যু নিয়ে আরও অনেক তথ্য তুলে ধরেন সুজিতবাবু। এবং তথ্যের ভিত্তিতে তিনি বোঝান, ‘বিবেকানন্দর স্বেচ্ছামৃত্যুই’ হয়েছিল। স্বামী বিবেকানন্দ কি স্বেচ্ছামৃত্যু নিয়েছিলেন? বহু যুগ ধরেই এই প্রশ্ন বিভিন্ন মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে। এই বিষয়ে অবশ্য কেউই সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি।

দেখুন ভিডিও

loading...

Leave a Reply

Be the First to Comment!

avatar
  Subscribe  
Notify of