“বাঙালি হিন্দুরা নিজেদের উপর হামলা ছাড়া সব কিছুর প্রতিবাদ করে”— তথাগত রায়

আমাদের ভারত, ২৯ নভেম্বর: “বাঙালি হিন্দুরা নিজেদের উপর হামলা ছাড়া সব কিছুর প্রতিবাদ করে।”মেঘালয়ে বাঙালিদের ওপর আক্রমণ প্রসঙ্গে মঙ্গলবার টুইটারে এই মন্তব্য করলেন প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায়।

তিনি লিখেছেন, “প্রথমবার নয়। দ্বিতীয় বা তৃতীয়বারও নয় যে মেঘালয়ে ঘৃণামূলক অপরাধে অ-আদিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। কিন্তু কেউ মাথা ঘামায় না। কারণ এটি ভারতের একটি বিস্মৃত কোণে এবং শিকার প্রধানত বাঙালি হিন্দু, যারা নিজেদের উপর হামলা ছাড়া সব কিছুর প্রতিবাদ করে।

কেএসইউ, এফকেজিজেপি ইত্যাদির মতো ‘প্রেসার গ্রুপ’-এর আক্রমণের ফলাফল। এই দলগুলি নির্বাচনে অংশ নেবে না কারণ বেশিরভাগ উপজাতি। তারা পর্যটক ট্রাফিকের উপর নির্ভরশীল। তাদের ঘৃণা করে। তবু মুখ্যমন্ত্রী নির্লজ্জভাবে তাদের কাছে বশ্যতা স্বীকার করবেন! আমি জানি, কারণ আমি সেখানে রাজ্যপাল ছিলাম।

এই আক্রমণগুলির একটি ব্যতিক্রম হল মাজহাবি শিখরা যাদের ব্রিটিশরা ১৯ শতকে সাফাইকাজের জন্য নিয়ে এসেছিল। তারা এখন অন্য পেশায় সমৃদ্ধশালী। তাদের কৃপানের দিকে এক নজর যে কোন ‘প্রেসার গ্রুপ’ কে আটকানোর জন্য যথেষ্ট। ঈশ্বর তাদের সাহায্য করে যারা নিজেদের সাহায্য সাহায্য করে।“

প্রসঙ্গত, বেশ কিছুকাল ধরেই বাঙালিদের নিশানা করেছে খাসি ছাত্র সংগঠন। মেঘালয়ের ইছামতীর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বছর দুই আগে বাঙালি সংগঠনের অভিযোগ ও আন্দোলনের জেরে মেঘালয়ের সব বাঙালিকেই ‘বাংলাদেশি’ বলে দাগিয়ে দেয় খাসি ছাত্র সংগঠন (কেএসইউ)। নতুন করে সংঘাতের পরিবেশ তৈরি হয় শিলংয়ে।

মেঘালয়ের প্ৰাক্তন শিক্ষামন্ত্ৰী ও দ্য শিলং টাইসম পত্ৰিকার কৰ্ণধার পদ্মশ্ৰী মানস চৌধুরী অবশ্য জানিয়েছেন, “গত ২৮ অক্টোবর শিলঙে ফেডারেশন অব খাসি গারো জয়ন্তিয়া পিপলস-এর মিছিল থেকে শুধু বাঙালি হিন্দুদেরই আক্রমণ করা হয়নি, আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন অন্য অনুপজাতি সম্প্ৰদায়ের মানুষও৷ এমনকি, ডিডিও তোলার ‘অপরাধে’ যে ফটোগ্ৰাফারটিকে মারধর করা হয়েছিল, তিনিও একজন খাসি৷…..
আমাদের এই শৈলশহর দাঁড়িয়ে রয়েছে এক সুপ্ত আগ্নেয়গিরির ওপর৷ কিন্তু সে তো মেঘালয়ের জন্মলগ্ন থেকেই৷ আগ্নেয়গিরি থেকে যে কোনও সময় যে কোনও অজুহাতে উদগীরণ শুরু হয়ে যায় বিদ্বেষের, হিংসার, রক্তপাতের আগুনে-লাভার৷ বস্তুত এই আগ্নেয়গিরির সঙ্গেই গত ৫০ বছর ধরে বসবাস মেঘালয়ের বাঙালি, অসমিয়া, বিহারি, পঞ্জাবি, এক কথায় সব অনুপজাতি মানুষরা৷ ফলে শুধু বাঙালি হিন্দুরা আক্রান্ত হয়েছেন বা বাঙালি হিন্দুদের দোকানপাট গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে বরাক উপত্যকার কিছু রাজনৈতিক দল ও সংগঠন যে-অভিযোগ করছে, তা সর্বৈব সত্য নয়৷ আবার মিথ্যাও নয়৷“

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here