চাইলেই মিলবে একশো দিনের কাজ

চাইলেই মিলবে একশো দিনের কাজ

আমাদের ভারত, সিউড়ি, ১৩ আগস্ট: যারা একশো দিনের কাজ চাইবে, তাদের সকলকেই কাজ দিতে হবে। মঙ্গলবার সিউড়িতে গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানদের এমনই নির্দেশ দিলেন জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা। মঙ্গলবার আগামী আর্থিক বছরে পঞ্চায়েত স্তরে পরিকল্পনা বিষয়ে সিউড়িতে একদিনের প্রশিক্ষণ শিবির ছিল। সেখানেই রাজ্যে প্রথম সঠিক পরিকল্পনার জন্য ছ’টি গ্রাম পঞ্চায়েতকে পুরস্কৃত করা হয়।

গত বছর একশো দিনের কাজের গড় ছিল ৭০ দিন। জেলাশাসক জানান, তার মধ্যে কেউ করেছে কয়েকদিন, আবার কেউ বেশি কাজ করেছে। এবার যেন তা না হয়। এমন পরিকল্পনা করুন, যাতে সকলেই কমপক্ষে ১৫ দিন করে কাজ পান। উল্লেখ্য গত ৫ আগস্ট থেকে এই কাজের চাহিদাকে ঘিরে কাজের চাহিদা সপ্তাহ পালন করেছে জেলা প্রশাসন। তবে শুধু একশো দিনের কাজ নয়, পরিকল্পনা সঠিক না হলে যা যা প্রকল্পের বরাদ্দ আছে তা সঠিক ভাবে পঞ্চায়েতে পৌঁছাবে না বলে জেলাশাসক জানিয়ে দেন। তিনি স্পষ্টতই জানিয়ে দেন, পরিকল্পনা জমা দেওয়ার পর অতিরিক্ত বা সাপ্লিমেন্টারি পরিকল্পনা যেন জমা না পড়ে।

জেলা সভাধিপতি বিকাশ রায়চৌধুরী বলেন, এখনও পঞ্চায়েতের দায়িত্ব নেওয়া অনেকের একবছরও হয়নি। তাই আগামী পরিকল্পনা রূপায়ণে পাড়া বৈঠক, সংসদ বৈঠক ডাকুন। ঘরে বসে পরিকল্পনা করবেন না। এলাকায় যা জনগনের চাহিদা তার বাস্তব রূপ উঠে আসুক পরিকল্পনায়। সে জন্য এলাকার মানুষকে, তাদের দাবিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

বিকাশবাবু জানান, আমরা কাজের মাধ্যমে পরপর রাজ্যে এমন কি কেন্দ্রীয় স্তরে সেরার শিরোপা পেয়েছি। এই জেলাতেও তাই পঞ্চায়েতের নিজেদের ভিতর একটা সুস্থ প্রতিযোগিতা গড়ে তুলেছি। যা রাজ্যে প্রথম। কারণ আমরা মুখ্যমন্ত্রীর সোনার বীরভূম গড়ার জন্য উন্নয়নে ব্রতী হয়েছি। জেলা পরিষদের অতিরিক্ত জেলা শাসক দীপ্তেন্দু বেরা বলেন, গত আর্থিক বছরের সঠিক পরিকল্পনা ও তার রূপায়ণের ক্ষেত্রে ছ’টি পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। যারা শুধু রাজ্যে নয়। দেশের মধ্যে সেরা হওয়ার প্রতিযোগিতায় সামিল হয়েছে।

এদিন জেলার গ্রামোন্নয়ন দফতরের আধিকারিকরা ছাড়াও রাজ্য গ্রামোন্নয়ন দফতর থেকে আধিকারিকরা এসেছিলেন পরিকল্পনার প্রশিক্ষণের জন্য। প্রতিযোগিতায় প্রথম হয় ইলামবাজার পঞ্চায়েত, যুগ্মভাবে দ্বিতিয় হয় নানুরের বড় সাওতা ও সিউড়ি দুই ব্লকের কোমা। মুরারইয়ের আমডোল, রামপুরহাটের নারায়নপুর সমেত ছ’টি পঞ্চায়েতকে পুরস্কৃত করা হয়। যার মূল লক্ষ্য পরিকল্পনার সূচি জমা দেওয়ার পর ফের যেন অতিরিক্ত বা সাপ্লিমেন্টরি পরিকল্পনা জমা না পড়ে। রাজ্য থেকে জেলা সব আধিকারিকেরা এজন্য জেলার সব প্রধানদের সতর্ক করে দেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

thirteen + seventeen =