ফের রেকর্ড ১১৯৮ সংক্রমণে কলকাতার সঙ্গে চিন্তা উত্তর ২৪ পরগনাও! মৃত্যু ২৬, সুস্থ ৫২২

রাজেন রায়, কলকাতা, ১০ জুলাই: রাজ্যে প্রত্যেকদিন করোনা সংক্রমণের রেকর্ড ভাঙা যেন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এবার কলকাতার সঙ্গে স্বাস্থ্য দপ্তরের দুশ্চিন্তা বাড়াতে শুরু করল উত্তর ২৪ পরগনাও। কলকাতার মতো প্রত্যেকদিন ৩০০ সংক্রমণ পেরোতে শুরু করল এবার উত্তর ২৪ পরগনাও।

বৃহস্পতিবারই ২৪ ঘন্টায় করোনা সংক্রমণে ১০০০-এর গণ্ডি পেরোনোর পরেই শুক্রবারই ২৪ ঘন্টায় ১১৯৮ জন নতুন সংক্রামিতের হদিশ মিলল। বিপুল সংক্রমণের জেরে রাজ্যে ফের কমতে শুরু করেছে সুস্থতার হার। এদিনও রাজ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৬ জনের, যার মধ্যে ১৩ জন কলকাতারই। সুস্থ হয়েছেন ৫২২ জন।

শুক্রবার প্রকাশিত বুলেটিন অনুযায়ী, ফের ২৪ ঘন্টায় ১১৯৮ জন করোনা পজিটিভে রাজ্যে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ২৭১০৯ জনে। আরও ২৬ জনের মৃত্যু হওয়ায় রাজ্যে সরকারি হিসেবে মোট করোনায় মৃত্যু ৮৮০ জনের। এদিকে আরও ৫২২ জন সুস্থের হিসেব ধরলে মোট সুস্থ হলেন ১৭৩৪৮ জন। এর মধ্যে কলকাতাতেই সংক্রমণ রেকর্ড ৩৭৪ জনের, মৃত্যু হয়েছে মৃত্যু ১৩ জনের। মৃত ৮৮০ জনের মধ্যে ৪৭০ জন কলকাতারই। সংক্রমণে ৩২৮ জনের রেকর্ড উত্তর ২৪ পরগনারও, মৃত্যু ৬ জনের।

এদিন অন্যান্য জেলার সঙ্গে কলকাতাতে এদিনও ২০৪ জন, উত্তর ২৪ পরগনায় ১২০ জন, হাওড়ায় ৬৫ জন এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৩৫ জন সুস্থ হয়েছেন। কিন্তু বিপুল সংক্রমণের জেরে সুস্থতার হার কমে দাঁড়িয়েছে ৬৩.৯৯ শতাংশে। এই মুহূর্তে রাজ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ৮৮৮১ জন। তার মধ্যে এদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা বেড়েছে ৬৫০ জন।

বুলেটিনে আরও জানানো হয়েছে, এদিন পর্যন্ত রাজ্যের ৫২টি ল্যাবে মোট করোনা টেস্টের সংখ্যা ৫৯৩৯৬৭ জনের। তার মধ্যে ২৪ ঘন্টায় রাজ্যে করোনা পরীক্ষা হয়েছে ১০৬৩৯ জনের। রাজ্যের ৮০টি করোনা হাসপাতাল, ২৬টি সরকারি এবং ৫৪টি বেসরকারি হাসপাতালে মোট ১০৮৩০টি বেড আছে, আইসিইউ পরিষেবা রয়েছে ৯৪৮ জনের। ভেন্টিলেটর রয়েছে
৩৯৫টি। তার ২৭.০২ শতাংশ রোগী ভর্তি আছেন।

সরকারি ৫৮২টি কোয়ারেন্টাইনে এখন রয়েছেন ৪৯০৫ জন। ছেড়ে দেওয়া হয়েছে ১০০৩৫৬ জনকে। হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৩৪২৫৪ জন। ছেড়ে দেওয়া হয়েছে ৩১৩৭১৯ জনকে। শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন ফেরত পরিযায়ী শ্রমিকদের তথ্যে জানানো হয়েছে, ১১৬৫টি কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে ৮৮২৭ জন শ্রমিককে কোয়ারেন্টাইন করে রাখা হয়েছে। করোনা পরীক্ষা করে সুস্থ দেখে ২৬৫২৫২ জন শ্রমিককে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। রাজ্যে সেফ হোম ও তার বেড সংখ্যা এবং সেখানে রোগীদের সংখ্যা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, রাজ্যের ১০৬টি সেফ হোমে ৬৯০৮টি বেড রয়েছে এবং তাতে ২৫৭ জন রোগী রয়েছেন।

এছাড়া এদিনের বুলেটিনে জেলাওয়াড়ি তথ্যে জানানো হয়েছে, কলকাতায় এদিন রেকর্ড ৩৭৪ আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ায় মোট সংক্রমণ ৮৭৪২ জনের। এদিন কলকাতায় আরও ১৩ জনের মৃত্যু হওয়ায় কলকাতাতে মোট মৃত্যু ৪৭০ জনের। এছাড়া এদিন উত্তর ২৪ পরগনাতেও রেকর্ড ৩২৮ জন সংক্রামিতের সংখ্যা বাড়ায় মোট আক্রান্ত সংখ্যা ৪৯৪৫ জন। এখানেও এদিন আরও ৬ জনের মৃত্যু হওয়ায় মোট মৃত্যু ১৫৬ জন। এছাড়া হাওড়ায় ৪ জন, মালদা, হুগলি ও পূর্ব মেদিনীপুরে ১ জন করে করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এদিন অন্যান্য জেলার সঙ্গে হাওড়ায় ১৩০ জন, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ১০৪ জন, হুগলিতে ৭১ জন, মালদায় ৪৯ জনের উল্লেখযোগ্য হারে সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিনও উত্তরবঙ্গের কালিম্পং এবং দক্ষিণবঙ্গের ঝাড়গ্রাম ছাড়া এদিন সংক্রমণ বেড়েছে রাজ্যের বাকি সমস্ত জেলাতেই।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here