নতুন অরেঞ্জ জোন বাঁকুড়া! ২৪ ঘণ্টায় আরও ১২৭ জন করোনা পজিটিভ, মৃত ৪

রাজেন রায়, কলকাতা, ২৩ মে: একদিকে আমফান পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে বঙ্গ প্রশাসন। তার ওপরে করোনা সংক্রমণের থাবা এতটাই জাঁকিয়ে বসেছে যে, একের পর এক গ্রিন জোনের জেলা বদলে যাচ্ছে অরেঞ্জ জোনে। কিছুদিন আগে গ্রিন জোন দক্ষিণ দিনাজপুরে করোনা সংক্রমণ পাওয়ার পর এবার বাঁকুড়ার পাত্রসায়রে ১৫ বছরের এক কিশোরের করোনা পজিটিভ হওয়ায় ওই জায়গা গ্রিন জোন থেকে বদলে গিয়েছে অরেঞ্জ জোনে। এই মুহূর্তে রাজ্যে করোনা সংক্রামিত জেলা বেড়ে দাঁড়াল ২০টিতে। আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও পুরুলিয়ায় এখনও করোনা সংক্রমণ নেই, তাই এরা এখনও রয়েছে গ্রিন জোনে।

এদিকে ফের ২৪ ঘন্টায় রাজ্যে ১২৭ জন করোনা পজিটিভ হওয়ায় আক্রান্ত সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩৪৫৯ জন। আরও ৪ জনের মৃত্যু হওয়ায় রাজ্যে মোট করোনায় মৃত্যু ১৯৭ জনের। অন্যদিকে, করোনা শরীরে থাকাকালীন আরও ৭২ জনের মৃত্যুর হিসেব ধরলে মোট মৃত্যু ২৬৯ জনের। একই সঙ্গে ২৪ ঘন্টায় আরও ৬০ জন সুস্থের হিসেব ধরলে মোট সুস্থ ১২৮১ জন। সুস্থ হওয়ার হার ৩৭.০৩ শতাংশ। এই মুহূর্তে রাজ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ১৯০৯ জন, অর্থাৎ এ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা বেড়েছে মাত্র ৬৩ জন। শনিবার স্বাস্থ্য দফতরের প্রকাশিত বুলেটিনে এমনটাই জানানো হয়েছে।

বুলেটিনে আরও জানা গিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় এ যাবৎ কালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি করোনা পরীক্ষা হয়েছে। ২৪ রাজ্যে করোনা পরীক্ষা হয়েছে ৯০০৯ জনের। সব মিলিয়ে রাজ্যের ৩০ টি ল্যাবে মোট করোনা টেস্টের সংখ্যা ১২৯৬০৮ জনের। এর মধ্যে ১১টি ল্যাবে চলতি সপ্তাহেই অনুমোদন পেয়েছে রাজ্য সরকার। রাজ্যের ৬৯টি করোনা হাসপাতাল, ১৬টি সরকারি এবং ৫৩টি বেসরকারি হাসপাতালে মোট ৮৭৮৫টি বেড আছে, আইসিইউ পরিষেবা রয়েছে ৯২০ জনের। ভেন্টিলেটর রয়েছে ৩৯২টি। তার ১৫.৮০ শতাংশ রোগী ভর্তি আছেন। সরকারি কোয়ারেন্টাইনে এখন রয়েছেন ১৫১৯৩ জন। হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ১০২২৬৮ জন।

এছাড়া এদিনের বুলেটিনে জানানো হয়েছে, কলকাতায় ৪৭ আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে মোট সংক্রমণ ১৬১৫ জনের। এদিন কলকাতায় আরও ২ জনের মৃত্যু হওয়ায় কলকাতাতেই মোট মৃত্যু ১৭৮ জনের। তারপরেই হাওড়ায় ১৯ জনের সংক্রমণ বেড়ে মোট সংক্রমণ ৭৫১ জনের, মৃত্যু হয়েছে ২ জনের। তারপরে উত্তর ২৪ পরগনায় ৮ সংক্রমণ বেড়ে মোট সংক্রমণ ৪৪৭ জনের, হুগলিতে ১৯ জনের সংক্রমণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯৩ জনে। এছাড়া সংক্রমণ বেড়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদা এবং মুশির্দাবাদেও।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here