বিক্ষোভের শাস্তি ডিসি সহ ১৩ জন বদলি! ফের বিক্ষোভ পুলিশ ট্রেনিং স্কুলে

(ছবি:ডিসি কমব্যাট নভেন্দ্র সিং)
রাজেন রায়, কলকাতা, ১০ জুন: আচমকাই মঙ্গলবার বিকেলে জারি হওয়া একটি বদলির নোটিশকে ঘিরে মঙ্গলবার রাতে ফের বিদ্রোহের আগুন জ্বলল কলকাতা পুলিশ ট্রেনি়ং স্কুলে। ওই নোটিশে দেখা গিয়েছে, কমব্যাট ব্যাটেলিয়ন এবং ডিএমজি থেকে ১৩ জন কনস্টেবলকে উত্তরবঙ্গে বদলি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ডিসি কমব্যাট নভেন্দ্র সিং পলকেও ওয়্যারলেস ব্রাঞ্চে বদলি করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

প্রসঙ্গত কিছুদিন আগে পুলিশ ট্রেনিং স্কুলে বেশকিছু পুলিশকর্মীরা করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়ার পরেও তাদের সংস্পর্শে আসা সহকর্মীদের কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হচ্ছে না এবং ডিউটি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে না। এই অভিযোগে বিপুল ঝামেলা হয় কলকাতা পুলিশ ট্রেনিং স্কুলে। এমনকি বাঁশ দিয়ে পিসি
কমব্যাটকে মারধর করা হয়েছে এমন অভিযোগ ওঠে। আর এই ঘটনাতেই সকলের সামনে প্রকাশ্যে চলে আসে প্রশাসনের সবচেয়ে শৃঙ্খলিত বাহিনী কলকাতা পুলিশের অন্দরের কদর্য দিকটি। ঘটনাস্থলে পরের দিন সকালবেলায় ছুটে যেতে হয় মুখ্যমন্ত্রীকে। এই ঘটনাই নয়, এরপর দু’সপ্তাহে মোট তিন বার কলকাতা পুলিশের বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। আচার্য জগদীশচন্দ্র বোস রোডের পুলিশ ট্রেনিং স্কুল ছাড়াও গড়ফা থানা এবং সল্টলেকে ফোর্থ ব্যাটেলিয়ানের দফতরেও একই বিষয় নিয়ে বিক্ষোভ হয়।

ঘটনার পরই কলকাতা পুলিশ কর্মীদের করোনাভাইরাস পরীক্ষার পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়। সূত্রের খবর মঙ্গলবার পর্যন্ত কলকাতা পুলিশের ২২০ জনের করোনাভাইরাস সংক্রমণের খবর পাওয়া গিয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ ট্রেনিং স্কুল বা পিটিএসে পরীক্ষা করেও একসাথে ২৪ জনের সংক্রমণে খবর পাওয়া যায়। কিন্তু কেন প্রশাসনের সবচেয়ে শৃঙ্খলিত বাহিনীতে বিদ্রোহ ঘটল, তা নিয়ে রাজ্য সরকারের তরফে অন্তর্তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। আর তাতেই এই কনস্টেবলদের নাম উঠে আসে বলে অভিযোগ। আরও অভিযোগ, এরা বিদ্রোহে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ১৩ জনের মধ্যে কোচবিহার ৩, দার্জিলিং ২, জলপাইগুড়ি ৩, আলিপুরদুয়ার ৩, কালিংপঙে ২ জন কে বদলি করা হয়েছে। শুধু কমব্যাট ফোর্সই নয়, রাফ-সহ ফাস্ট ব্যাটেলিয়ন ও সেকেন্ড ব্যাটেলিয়নের কর্মীরাও রয়েছেন ওই বদলির তালিকায়। যদিও কলকাতা পুলিশের তরফে এই প্রক্রিয়াকে রুটিন বদলি হিসাবে বলা হয়েছে।

তবে এই বদলির নির্দেশ খুব একটা ভাল ভাবে নেননি পুলিশকর্মীরা। মঙ্গলবার রাতে শুরু হয় দফায় দফায় বিক্ষোভ। পরিস্থিতি সামলাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশবাহিনী-সহ লালবাজারের বেশ কয়েকজন শীর্ষ আধিকারিক।মঙ্গলবার রাতে পিটিএসের ওপর আগেভাগেই লালবাজারের তরফে নজর রাখা হয়। আলিপুর বডিগার্ড লাইনে থাকা পুলিশ বাহিনীকে তৈরি থাকতে বলা হয়। কমব্যাট ফোর্সের কর্মীরা যদি আবার রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখানো শুরু করে, তার জন্য ফোর্সও প্রস্তুত করে রাখা হয়। যদিও পুলিশ ট্রেনিং স্কুলের ভিতরে বিক্ষোভ চললেও মঙ্গলবার গভীর রাত পর্যন্ত কেউই রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাননি।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here