১৪ লক্ষ রেশন কার্ড বাতিল, প্রতি মাসে বাঁচবে ৪ কোটি টাকা

রাজেন রায়, কলকাতা, ৮ অক্টোবর: জনসংখ্যার থেকেও বেশি পরিমাণে খরচ হচ্ছিল রেশন সামগ্রী। বহুদিন ধরে সন্দেহ হচ্ছিল খাদ্য দফতরের। আবার অতিমারীর সময়ে অতিরিক্ত রেশন দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই কারণেই  আধার কার্ডের সঙ্গে রেশন কার্ড লিঙ্ক করানোর পরই বেরিয়ে আসছে আসল তথ্য।

দেখা গিয়েছে, বিশাল সংখ্যক ভুয়ো রেশন কার্ড এতদিন ধরে চলে আসছিল। সেগুলি এখন আধার লিঙ্ক করানোর সময় বাতিল করা হচ্ছে। যে পরিমাণ কার্ড বাতিল হচ্ছে, তার ফলে বিপুল পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী বাঁচবে খাদ্য দফতরের।

এখনও পর্যন্ত প্রায় ৬৯ শতাংশ রেশন কার্ড আধার কার্ডের সঙ্গে লিঙ্ক করা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর, অর্থাৎ বাকি রয়েছে আরও ৩১ শতাংশ। আর তাতেই দেখা যাচ্ছে প্রায় ১৪ লাখ ‘ভুয়ো’ রেশন কার্ড বাতিল করা হয়েছে।

মূলত দুই ধরনের কারণের ওপর ভিত্তি করে এই কার্ডগুলি বাতিল করা হয়েছে। প্রথমত, একটি আধার কার্ডের সঙ্গে দু’টি রেশন কার্ড সংযুক্তি করা হয়েছিল কিংবা একজনের নামে দু’টি রেশন কার্ড হয়ে গিয়েছিল। এমন কারণের জন্য প্রায় ৮ লাখ রেশন কার্ড বাতিল করা হয়েছে। আর দ্বিতীয় যে কারণটি রয়েছে, সেটি হল যিনি সংশ্লিষ্ট রেশন কার্ডের উপভোক্তা, তিনি মারা গিয়েছেন, অথচ তাঁর রেশন কার্ডটি এখনও চালু ছিল। এই ধরনের ঘটনাও প্রচুর জমা পড়েছে এবং সেই সব কার্ড এখন বাতিল করা হয়েছে। দ্বিতীয় কারণটির ক্ষেত্রে বাতিল হওয়া কার্ডের সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ।

এখন সরকার যে বিনা পয়সায় রেশন দেয়, তাতে প্রতি এক কেজি চাল গ্রাহককে দিতে ২৮ টাকা খরচ করে। এর মধ্যে চাষিদের থেকে ধান সংগ্রহ করা থেকে শুরু করে, সেই ধান থেকে চাল তৈরি করা, পরিবহন খাতে খরচ, ভর্তুকি… সবই হয় এই কেজি পিছু ২৮ টাকার হিসেবের মধ্যেই। কিন্তু এখন এই ১৪ লাখ ভুয়ো রেশন কার্ড বাতিল হওয়ার এই কার্ডগুলির জন্য আর চালের খরচ বহন করতে হবে না সরকারকে।

হিসেব করলে দেখা যাচ্ছে, প্রতি কেজি চাল থেকে ২৮ টাকা সাশ্রয় হলে ১৪ লাখ ভুয়ো রেশন কার্ড বাতিল হওয়ায় মাসে মোট ৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা সাশ্রয় হবে খাদ্য দফতরের। আর এই হিসেবটাই যদি বছরে করা হয়, তাহলে সাশ্রয়ের অঙ্ক বেড়ে দাঁড়াবে ৪৭ কোটি টাকায়।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here