অজান্তেই মুক্তি! ১৮ কোটি ভারতীয়র দেহে ইতিমধ্যেই করোনা বিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে গেছে: বেসরকারি ল্যাবে

আমাদের ভারত, ২২ জুলাই: থাইরোকেয়ার নামে একটি বেসরকারি সংস্থা দেশের বিভিন্ন শহরে গবেষণা করেছে। সেখানেই দেখা গেছে ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষের শরীরে করোনার অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে গেছে। ২০ দিন ধরে চলা সেই পরীক্ষায় ৬০০টি ভিন্ন পিনকোড এলাকা বেছে নিয়ে তারা সমীক্ষা করেছে। আর তাতেই জানা গেছে ১৫ শতাংশ মানুষের শরীরে ইতিমধ্যেই করোনার অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে গিয়েছে। যা অবশ্যই সুখবর।

সারা বিশ্বে এখনো পর্যন্ত দেড় কোটি মানুষ করোনাই আক্রান্ত হয়েছে। ভারতে করোনাই আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১১ লক্ষ। আক্রান্তের সংখ্যার নিরীখে পৃথিবীতে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ভারত। আর সেখানে এই বিপুল অংশের মানুষের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে যাওয়ার যথেষ্ট স্বস্তিদায়ক বলে মনে করছেন গবেষকরা।

ভারতে প্রতিদিন প্রায় ৪০ হাজারের কাছাকাছি মানুষ করোনা আক্রান্ত হলেও পাশাপাশি যে অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে তাই সমীক্ষায় স্পষ্ট হয়েছে। টুইট করে থাইরোকেয়ারে তরফে এই সমীক্ষার ফলাফল জানানো হয়েছে। সেখানে দেখা গিয়েছে থানের একটি অংশে মানুষের শরীরের সবচেয়ে বেশি অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। তারপর বেঙ্গালুরুর একটি অংশের মানুষের শরীরে বেশি অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। নয়াদিল্লির আনন্দবিহার এলাকায় ৩৭ শতাংশ মানুষের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। হায়দ্রাবাদের জুবিলি এলাকাতেও ৩৭ শতাংশ মানুষের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে।

থাইরোকেয়ার জানিয়েছে তারা নিজরা তালিকা তৈরি করে পরীক্ষা চালায়নি। যারাই পরীক্ষা করাতে চেয়েছেন তাদেরই পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের তথ্য বলছে কলকাতা অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে ২১.৭ শতাংশ মানুষের শরীরে। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ১৫.৬ শতাংশ মানুষের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে।

কিন্তু এই অ্যান্টিবডি তৈরি হলে ঠিক কী সুবিধা হবে? মনে করা হচ্ছে অনেকের শরীরেই হয়তো করোনা সংক্রমণ হয়েছে কিন্তু উপসর্গ না থাকায় তারা সেটা বুঝতেও পারেনি। শুধু তাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার কারণে করোনা ভাইরাসের প্রকোপকে তারা হারিয়ে দিয়েছে এবং শরীরে করোনাভাইরাস অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে গিয়েছে। এককথায় অজান্তেই এই রোগ থেকে মুক্তির পথ পেয়েছে অনেক ভারতীয়।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here