বগটুই কাণ্ডে জামিনে মুক্ত ১৬ জন

(ফাইল চিত্র)
আশিস মণ্ডল, বীরভূম, ২১ জুন: বগটুই গণহত্যা এবং তৃণমূলের উপ প্রধান ভাদু শেখ খুনে জামিনে মুক্তি পেলেন ১৬ জন। দুটি ঘটনার পরে পরেই তাদের গ্রেফতার করা হয়েছিল। ঘটনার ৯০ দিনের মধ্যে সোমবার দুটি মামলার চার্জশিট জমা দেয় আদালত। চার্জশিট দেওয়ার পরেই দুটি মামলার অভিযুক্তদের আইনজীবীরা তাদের মক্কেলদের জামিনের আবেদন করেন আদালতে। সেই আবেদনের ভিত্তিতে অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় বিচারক সৌভিক দে শর্তসাপেক্ষে তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।

২১ মার্চ রাত সাড়ে আটটা নাগাদ ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে রামপুরহাটের বগটুই মোড়ে বোমা মেরে খুন করা হয় বড়শাল গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ভাদু শেখকে। এরপরেই খুনের বদলা নিতে রাতে গ্রামের একাধিক বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয় ১০ জনের। ভাদু খুনের মামলায় পুলিশ ছয়জনকে গ্রেফতার করে। অন্যদিকে গণহত্যা মামলায় পুলিশ ও সিবিআই ২৯ জনকে গ্রেফতার করে। সোমবার সিবিআই দুই মামলার চার্জশিট জমা দেয়। সেই চার্জশিটে ভাদু খুনের অভিযোগে ধৃত হানিফ শেখ, শেখ শেরা, রাজা শেখ, ভাসান শেখ ও সফিকুল শেখের নাম নেই। শুধু মাত্র ধৃত শেখ সঞ্জুর নাম চার্জশিটে জমা দেয় সিবিআই। ফলে তার জামিন মঞ্জুর হয়নি। ভাদু খুনে সিবিআইয়ের চার্জশিটে নাম থাকা পলাশ খান, সাফি শেখ ও মাহি শেখ এখন অধরা।

ভাদু খুনে ধৃতদের আইনজীবী আব্দুর বাড়ি বলেন, “চার্জশিটে নাম না থাকায় আমি পাঁচ মক্কেলের জামিনের আবেদন করেছিলাম। আদালতে সিবিআইয়ের আইনজীবীর বিরোধিতা সত্ত্বেও বিচারক শর্তসাপেক্ষে পাঁচ জনের জামিন মঞ্জুর করেন। বিচারক নির্দেশ দেন সিবিআইকে তদন্তে সাহায্য করতে হবে। এলাকার বাইরে যাওয়া যাবে না। জেলার বাইরে যেতে হলে সিবিআইয়ের অনুমতি নিতে হবে”।

অন্যদিকে গণহত্যা কাণ্ডে ধৃত ২৯ জনের মধ্যে সিউড়ি জুভেনাইল আদালতে আগেই দুই নাবালক জামিনে মুক্ত হয়েছিল। সিবিআই চার্জশিটে তাদেরও নাম যুক্ত করেছে বলে জানা গিয়েছে। বাকি ২৭ জনের মধ্যে ১১ জনকে এদিন শর্তসাপেক্ষে জামিন দেন বিচারক। সরকারি আইনজীবী সুরজিত সিনহা বলেন, “সিবিআই চার্জশিট জমা দেওয়ার পরেই অভিযুক্তদের পক্ষের আইনজীবীরা তাদের মক্কেলের জামিনের আবেদন করেন। সিবিআইয়ের চার্জশিট অনুযায়ী ঘটনায় তাদের জড়িত থাকার কোনো উল্লেখ না পাওয়ায় বিচারক প্রত্যেককে শর্তসাপেক্ষে জামিন মঞ্জুর করেছেন”।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here