ফের তিনজন করোনা আক্রান্ত বীরভূমে

আশিস মণ্ডল,আমাদের ভারত, রামপুরহাট, ৬ মে: ফের তিন জনের শরীরে করোনার নমুনা মিলল বীরভূমে। তাদের মধ্যে দুজনের বাড়ি দুবরাজপুর থানার নারায়ণপুর গ্রামে। অন্যজন রামপুরহাট থানার বগটুই পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা। পুলিশ তিনজনকেই উদ্ধার করে দুর্গাপুরের কোভিট হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

দিন পাঁচেক আগেই মল্লারপুরের বানাসপুর এবং মহুরাপুর গ্রামে দুই মহিলার করোনা ধরা পড়ে। তাদের এক নিকট আত্মীয় মুর্শিদাবাদের তালোয়া গ্রামের বাসিন্দারও করোনা ধরা পড়ে। তিনজনকেই দুর্গাপুরের সনকা কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এবার রামপুরহাটের বগটুই এবং দুবরাজপুরের নারায়ণপুর গ্রামের দুজনের করোনা ধরা পড়েছে। জানা গিয়েছে ক্যান্সার রোগের চিকিৎসা করাতে গিয়ে ওই গ্রামের কাকা ও ভাইপো মুম্বাইয়ের টাটা হাসপাতালে গিয়েছিল। ২৭ এপ্রিল তারা মুম্বাই থেকে মোটা টাকা খরচ করে অ্যাম্বুলেন্সে বাড়ি ফিরেছিল। প্রথম দিন থেকেই তাদের বক্রেশ্বর সরকারি কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছিল। মঙ্গলবার রাতে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে তিনজনের রিপোর্টে করোনা ধরা পড়েছে। তাদের মধ্যে দুবরাজপুরের দুজন। অন্যদিকে রামপুরহাটের করোনা আক্রান্ত যুবকের বাড়ি মল্লারপুর থানার বিশিয়া গ্রামে হলেও তারা রামপুরহাট বগটুই পশ্চিমপাড়ার মামার বাড়িতে থাকত। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই যুবক কলকাতায় কাজ করত। সেখান থেকে ২৭ এপ্রিল কখনও ডাম্পারে, কখন মোটরবাইকে ও কখনও পায়ে হেঁটে সিউড়ি পৌঁছায়। সেখান থেকে সন্ধ্যার দিকে নলহাটির এক যুবকের মোটরবাইকে রামপুরহাটে আসে।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, বাড়ি ফিরে ওই যুবক গোটা গ্রাম চষে বেড়ায়। আশাকর্মীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে ২৯ এপ্রিল তাকে রামপুরহাট কিষাণমান্ডি কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। সেখান থেকে তার লালা রসের নমুনা পাঠানো হয় মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। প্রথম দিকের পরীক্ষায় তার লালা রস পরীক্ষায় করোনা ধরা না পড়ায় তাকে কোয়ারেন্টাইন থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। মঙ্গলবার বাড়ি ফিরে ফের গ্রামে ঘুরে বেড়ায়। আশাকর্মীদের সঙ্গে ঘুরে ঘুরে ছবি তোলে। বুধবার বিকেলে তাকে ফের বগটুইয়ের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। প্রশ্ন উঠছে চূড়ান্ত রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত তাকে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার থেকে ছেড়ে দেওয়া হল কেন? ছাড়ার পর তার উপর প্রশাসনের নজরদারি ছিল না কেন? এনিয়ে মুখ খুলতে চাননি প্রশাসন কিংবা স্বাস্থ্য দফতরের কোন আধিকারিক।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here