ফালাকাটায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, মৃত একই পরিবারের চার সদস্য সহ ৫

আমাদের ভারত, আলিপুরদুয়ার, ৫ অক্টোবর: ফের ভয়াবহ পথদুর্ঘটনায় প্রাণ হারান একই পরিবারের ৪ সদস্য সহ ৫ জন। ঘটনাস্থল আবারও জাতীয় সড়ক। সোমবার সকালে এনবিএসটিসি বাসের সাথে একটি ছোট গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ৫ জনের মৃত্যু হলেও আশ্চর্যজনকভাবে বেঁচে গিয়েছেন গাড়িতে সওয়ার এক যাত্রী। মৃত ৪ সদস্যের বাড়ি আলিপুরদুয়ার জেলাসদরের শান্তিনগর এলাকায় এবং মৃত চালকের বাড়ি জেলাসদর সংলগ্ন বীরপাড়া এলাকায়। ঘটিনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে আসে গোটা এলাকা জুড়ে।

স্থানীয়দের থেকে জানাগেছে, সোমবার সকাল আনুমানিক ৭টা নাগাদ আলিপুরদুয়ার জেলাসদর থেকে প্রায় ৫৫ কিমি দূরে বাস ও চারচাকার গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় ফালাকাটার বালাসুন্দর এলাকায়। আলিপুরদুয়ারের ফালাকাটা থানার ফালাকাটা-ধূপগুড়ি জাতীয় সড়কের উপর ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ সুত্রে জানা গিয়েছে, বালাসুন্দর এলাকায় ডুডুয়া সেতুর বাঁকে শিলিগুড়িগামী একটি ছোটো গাড়ির সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় উল্টো দিক থেকে আসা উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন নিগমের যাত্রীবাহী বাসের। সংঘর্ষের অভিঘাত এতটাই ছিল যে চার চাকার গাড়িটি বাসের সঙ্গে সংঘর্ষের পর প্রায় ৫০ ফুট দূরে ছেচড়ে চলে যায়। শেষে পথের ধারের নয়ানজুলিতে উল্টে যায় ছোট গাড়িটি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই ছোটো গাড়িটির পাঁচ আরোহী অভিজিৎ সরকার (৩৪), ঝুমা সরকার (২৮), বাসুদেব কর্মকার(৫০), হাবুল সরকার(৪০), গাড়ির চালক প্রসেনজিৎ মহন্ত’র(২৯)। মন্মাতিক ঘটনার শব্দে ছুটে আসে আশেপাশের গ্রামের বাসিন্দারা। এদিকে দুর্ঘটনার জেরে প্রচণ্ড যানজট তৈরি হয় বালাসুন্দর এলাকায়। প্রায় এক ঘন্টা জাতীয় সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। ঘটনার খবর আসতেই শোকের ছায়া নামে আলিপুরদুয়ার শহরে শান্তিনগর এলাকায়।

জানা গেছে, ১৫ দিন আগেই অভিজিৎ সরকারের বাবা প্রয়াত হন। এদিন অভিজিৎ সরকারের চিকিৎসার প্রয়োজনেই শিলিগুড়ি যাচ্ছিলেন পরিবারটি। তবে মৃত দম্পতির একমাত্র সন্তান ৫বছরের আর্য সরকার জেলাসদরের একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র। এদিন সরকার বাড়িতে বাকি সদস্যরা কার্যত শোকে পাথর হয়ে পড়েছেন। আর্য অবশ্য বুঝতে পারেনি ঠিক কী ঘটে গিয়েছে তার জীবনে। সকাল থেকে নিজের মত সে বাড়িতে ঘুরেছে। বাবা-মা কখন ফিরবে জানতে চেয়েছে বাড়ির বড়দের কাছে। এদিকে, ঘটনায় আশ্চর্যজনকভাবে বেঁচে যাওয়া গাড়িতে থাকা সোনম বিশ্বাস বলেন,”আমি গাড়ির সামনের আসনেই বসে ছিলাম। সিট বেল্ট বাঁধা ছিল।আচমকা সংঘর্ষ হয় বাসের সঙ্গে। তারপর আর কিছু মনে নেই আমার।”

ফালাকাটা থানার আইসি সমিরণ পাল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দেহগুলি উদ্ধার করে ফালাকাটা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে পাঠান। উদ্ধার কাজে ছিল ফালাকাটা দমকলের কর্মী ও স্থানীয় মানুষ। পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের সুত্রে জানা গেছে, চার চাকার গাড়িটি প্রচন্ড গতিতে চলছিল। চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে।শিলিগুড়ির দিক থেকে উত্তরবঙ্গ রাস্ট্রীয় পরিবহন নিগমের বাস আসছিল।সোজা গিয়ে বাসের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। সকাল ৭ টা নাগাদ পরিস্কার দিনের আলোতে ঘটনাটি ঘটে।

জয়গার অতিরিক্ত পুলিস সুপার কুন্তল ব্যানার্জি বলেন,”আমরা বারে বারেই সকলের কাছে আবেদন করছি সতর্ক হয়ে গাড়ি চালাতে। সারা বছর প্রচার অভিযান চলছে। তারপরও এমন দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটছে। প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি প্রচন্ড গতির ফলে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। দেহগুলি উদ্ধার হয়েছে।” উল্লেখ্য, গত এক বছরে জেলায় তিনটি জাতীয় সড়কে একের পর এক বড় দুর্ঘটনার সাক্ষি হয়েছে জেলা।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here