উত্তরবঙ্গে আরও ৫টি চিতা বাঘকে পরানো হবে রেডিও কলার

আমাদের ভারত, আলিপুরদুয়ার, ১৮ জুলাই: উত্তরবঙ্গের তিনটি জাতীয় উদ্যান ও সংলগ্ন অভয়ারণ্যে এবার আরও ৫টি চিতাবাঘকে রেডিও কলার পরিয়ে ছাড়া হবে, এমনটাই জানালেন রাজ্যের প্রধান মুখ্য বনপাল রবিকান্ত সিনহা। উল্লেখ্য,১৫ দিন আগেই বক্সার জঙ্গলের সাউথ রায়ডাকের জঙ্গলে খাচাবন্দি চিতাবাঘকে সফলভাবে রেডিও কলার পরিয়ে ছাড়া হয়েছিল জঙ্গলে। সেই রেডিও কলার ট্র্যাক করে ইতিমধ্যেই তার উপর কড়া নজরদারি রাখছে বনাধিকারিকরা। সেই সাফল্যকে মাথায় রেখেই চিতাবাঘের গতিবিধি বুঝতে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেই মনে করছে প্রকৃতিপ্রেমীদের একাংশ।

রাজ্যের মুখ্য বনপাল রবিকান্ত সিনহা জানান, আপাতত ওয়াইল্ড লাইফ ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ার তত্ত্বাবধানে লেপার্ড নিয়ে যে গবেষণা চলছে তাকে আর ৪ বছর বাড়ানো হতে পারে।”

বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের রায়ডাকের জঙ্গলে ৪ জুলাই প্রথমবার অত্যাধুনিক ভিএইচএফ রেডিও কলার পরিয়ে একটি চিতাবাঘকে ছাড়া হয়। ঠিক ১৫দিন পর বনদফতরের তরফে জানা গেছে, বাঘটির গতিবিধির উপর একটানা নজর রাখা হয়েছে। গতিবিধি বিশ্লেষণ করে বোঝা যাচ্ছে জঙ্গলে নিজের স্বাভাবিক নিয়মেই চলছে বাঘটি। চা বাগান এলাকায় কদাচিত আসছে।বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প, জলদাপাড়া, গরুমারা সহ উত্তরবঙ্গে মোট ৮টি চিতাবাঘকে রেডিও কলার পরানো হয়েছিল। একটি বাঘের মৃত্যু হয়। পরে সেই মৃত বাঘের দেহ থেকে রেডিও কলার উদ্ধার হয়। এবার মোট ১০টি রেডিও কলার আনা হয়েছে। তারমধ্যে ৫টি সক্রিয় রয়েছে। বাকি ৫টি নিয়ম মেনে কোথাও চিতাবাঘ বনদফতরের খাঁচা বন্দি হলে ব্যবহার করা হবে। বাঘের গতিবিধি, সার্বিক গবেষণার প্রয়োজনে কলার পরানো হচ্ছে।

জানা গেছে, একটি ভিএইচএফ কলার প্রায় ৩ বছর সক্রিয় থাকে। বাঘ কতটা অঞ্চল জুড়ে ঘুরছে, লোকালয় আসার প্রবণতা আছে কি না, কতটা সময় জঙ্গলে থাকছে, শিকার করা ইত্যাদি তথ্যগুলি গবেষণার কাজে আসছে। শুধু তাই নয়, যদি দেখা যায় একটি বাঘের গতিবিধি ৪ঘন্টা বন্ধ রয়েছে, দ্রুত সেই তথ্য পৌঁছে যাবে গবেষক দলের কাছে। রেডিও কলার পরা থাকলেও বাঘের নিজস্ব চরিত্রের কোনও বদল হয়নি। বাঘের শরীরের ওজনের তুলনায় যথেষ্টই হাল্কা থাকছে কলার গুলি।শুধু চিতাবাঘ নয়, বন্যকুকুর, হাতি, এমনকি গন্ডারের পায়ের নির্দিষ্ট অংশেও কলার পরানো যায়। উত্তরবঙ্গ ছাড়া সুন্দরবনেও রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারকে কলার পরানো সম্পূর্ণ হয়েছে।

প্রকৃতি প্রেমিক ও বিশেষজ্ঞদের একাংশ গত কয়েকবছর থেকেই চিতাবাঘের গণনার বিষয় সামনে এনেছেন। একটি অংশের কথায়, উত্তরবঙ্গে চিতাবাঘের সংখ্যা গত ২০ বছরে একটানা বেড়েছে। পাশাপাশি চা-বাগান ও লোকালয়ে বাঘের হামলার ঘটনাও বেড়েছে।বজলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের লাগোয়া বেশকিছু চা-বাগানে চিতাবাঘের হামলায় মৃত্যুও হয় মানুষের।এরপরই মূল গবেষণার কাজটি শুরু করে ওয়াইল্ড লাইফ ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া। রবিকান্ত সিনহা বলেন, আগে আমাদের হাতে লেপার্ড নিয়ে তথ্য কম ছিল।অনেক কিছুই অন্ধকার ছিল।তবে এবার আমাদের গবেষণার কাজে যথেষ্টই সাহায্য করছে, কলার। প্রচুর তথ্য উঠে আসবে। এতে গবেষণার কাজ নিখুঁত ভাবে এগোবে।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here