বোনাসের দাবিতে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার মেইন গেট অবরোধ করে বিক্ষোভ ৭টি ইউনিয়নের

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ২৭ সেপ্টম্বর: কয়েকটা দিন পরই বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো। পুজোর কাউন্ট ডাউন শুরু হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে কলকাতা ছাড়াও জেলাতে দুর্গাপুজো মন্ডপের উদ্বোধন শুরু হয়ে গেছে। পুজো শুরু হলেও বোনাস মেলেনি শিল্পাঞ্চলের অর্থনীতির মেরুদন্ড হিসেবে পরিচিত রাষ্ট্রায়ত্ত সেইলের দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার (ডিএসপির) শ্রমিকদের। আর তার প্রতিবাদে সরব হয়েছে ইস্পাত শিল্পের শ্রমিকমহল। মঙ্গলবার বোনাসের দাবিতে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানায় আন্দোলন শুরু করল শ্রমিকরা। সকাল থেকে কারখানার মেইন গেট বিক্ষোভের জেরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। বিক্ষোভে সামিল হয় শাসক বিরোধী সহ কারখানার সাতটি শ্রমিক সংগঠনের সদস্য ও শ্রমিক কর্মচারীরা।

প্রসঙ্গত, পুজোর বোনাস কত হবে তা নিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত সেইলের দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার নেট প্রফিট বা প্রোফিট আফটার ট্যাক্স (পিএটি)। অভিযোগ প্রায় প্রতিবছরই এই বোনাস নিয়ে জটিললতা তৈরী হয়। অতীতে শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা দিল্লি যেত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে তা স্থির করত। যদিও এবছরও অন্যান্যবারের মতোই দিল্লিতে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শ্রমিক সংগঠনগুলির প্রতিনিধিদের বৈঠক হয়। কিন্তু সেই বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়ায় পরবর্তী বৈঠকের দিন স্থির করা হয় আগামী ১০ অক্টোবর দুর্গাপুজোর পরে।

প্রসঙ্গত, দুর্গাপুজোর বোনাস বরাবরই পুজোর আগেই দেওয়া হয়ে আসছিল এতদিন। এবছর পুজোর আগে বোনাস নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত না হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন কারখানার শ্রমিক কর্মচারীরা। সোমবার সন্ধ্যায় ডিএসপি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে একদফা বৈঠকও করেন শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। কিন্তু তাতে ফলপ্রসু না হওয়ায় আন্দোলনের রুপরেখা ঠিক করে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনগুলি। আর তারপরই মঙ্গলবার সকাল থেকে একযোগে বিক্ষোভ শুরু করেন সিটু, আইএনটিইউসি, বিএমএস, এআইটিইউসি, এইচএএস সহ সাতটি শ্রমিক সংগঠনের সদস্যরা।

উল্লেখ্য, দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার ইতিহাসে এই প্রথম শাসক বিরোধী সমস্ত শ্রমিক সংগঠন একযোগে কোনও বিক্ষোভে সামিল হলেন। কারখানার মেন গেটে শ্রমিক আন্দোলনের জেরে অবরূদ্ধ হয়ে পড়ে। ঘটনাকে ঘিরে উত্তাল হয়ে ওঠে ডিএসপি কারখানার মেনগেট। যদিও পরিস্থতি সামাল দিতে মোতায়ন ছিল সিআইএসএফ বাহিনী। শ্রমিকদের দাবি, গত ২০২০-২১ অর্থ বছরে সেইলের নেট প্রফিট বা প্রোফিট আফটার ট্যাক্স (পিএটি) ছিল ৩৮৫০ কোটি টাকা। তার ৩ শতাংশ শ্রমিক কর্মচারীদের বোনাস দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ ১১৫ কোটি টাকা তৎকালীন ৫৪৭৮২ শ্রমিক কর্মচারীর মধ্যে। ২০২১-২২ অর্থ বছরে সংস্থার নেট প্রফিট হয়েছে, সর্বকালীন রেকর্ড ১২০১৫ কোটি টাকা। হিসাব অনুযায়ী ৩ শতাংশ ৩৬০.৪৫ কোটি টাকা ৫১৬৭৭ শ্রমিক কর্মচারীদের মধ্যে দেওয়া উচিত। অভিযোগ, বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গোৎসব। কিন্তু সর্বোচ্চ উৎপাদন, সর্বোচ্চ নেট প্রফিট হওয়া সত্ত্বেও বোনাস দিতে টালবাহানা করছে কর্তৃপক্ষ। শুধু তাই নয় আধিকারিক ও শ্রমিকদের মধ্যে বোনাস বন্টনে দ্বিচারিতা করছে।

সিটু নেতা বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “গত ৫৫ বছরের ইতিহাসে সর্ব্বোচ্চ উৎপাদন হয়েছে। সর্বেচ্চ নেট প্রফিট হয়েছে। তারপরও টালবাহানা করছে। শ্রমিকদের প্রতি দ্বিচারিতা করছে। আধিকারিকদের প্রফিট রিলেটেড পেইমেন্ট মঞ্জুর হয়ে গেছে। অথচ শ্রমিক কর্মচারীদের ক্ষেত্রে দ্বিচারিতা করছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না। তাই লাগাতার আন্দোলন শুরু করা হয়েছে।”

আইএনটিইউসি নেতা দেবেশ চক্রবর্তী জানান,”দুর্গাপুর ইস্পাতের বোনাসের ওপর নির্ভর করে গোটা শিল্পশহরের আর্থ সামাজিক। বোনাস না হওয়ায় পুজোর কেনাকাটা থমকে। অর্থাৎ বাজারের ব্যাবসায়ীদের চিন্তায় ভাঁজ পড়েছে। বাজারেও প্রভাব পড়ছে।” তিনি আরও বলেন, “পুজোর পর আলোচনার দিন ধার্য করেছে। যদিও বোনাস দেয়, সেটাও দিপাবলী হয়ে যাবে। অর্থাৎ পশ্চিমবাংলায় বাঙালিদের প্রতি অন্যায় করা হচ্ছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না। তাই আন্দোলনে নেমেছি। যদিও ডিএসপির জনসংযোগ আধিকারিক বেদবন্ধু রায় জানান, “বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।”  

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here