জেলার খবর

ডাক ঘরের কিষাণ বিকাশ পত্র চুরি, সাত কর্মীর কারাদণ্ড

আমাদের ভারত, সিউড়ি, ৮ নভেম্বর: নাসিকের ডসকঘর থেকে চুরি যাওয়া কিষাণ বিকাশ পত্র নকল নামে সিউড়ির ডাকঘরে ভাঙানো হয়েছিল। সেই আর্থিক তছরুপে যোগসাজোশ ছিল ডাক কর্মীদের। অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় ডাকঘরের সাত কর্মী, নবনী ধীবর, জগদীশ পাত্র, জয়নাল আবেদিন, বিমল কুমার মণ্ডল, দেবতোষ মুখোপাধ্যায়, অলক মিত্র ও বিশ্বনাথ সাহাকে সাড়ে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদন্ডের আদেশ শোনাল সিউড়ি আদালত।

সরকারি আইনজীবী শুভাশিস চট্টোপাধ্যায় জানান, অভিযুক্তদের মধ্যে একজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। বাকিরা সকলেই সিউড়ি ও আসানসোলের অবসর প্রাপ্ত ডাক কর্মী। তবে এদিনের রায় শুনে অভিযুক্ত ডাক কর্মীরা জানান, আমরা এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে উচ্চ আদালতে যাব।

নাসিক থেকে বেশ কিছু কিষাণ বিকাশপত্র চুরি যায়। ডাক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানতে পেরেই ডাক বিভাগের সব শাখাকেই তার নম্বর দিয়ে জানিয়ে দেয়। সে সময় ২০০৩ সালে সেই নকল কিষাণ বিকাশপত্র নিয়ে সিউড়ি ডাকঘরে ভোলানাথ দত্ত নামে এক ব্যক্তি আসেন। পাঁচ হাজার টাকা করে ৬২ টি মেয়াদ পূর্ণ কিষাণ বিকাশপত্র সিউড়ি ডাকঘরে জমা দেন। যেগুলি আসানসোলের কালিয়া পাহাড়ি ডাকঘর থেকে কেনা বলে উল্লেখ করা আছে। সিউড়ি ডাকঘরের তরফে কিষাণ বিকাশ পত্র গুলির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য কালিয়া পাহাড়ি পাঠানো হয়। ততকালীন ডাক মাস্টার নবনী ধীবর ডাক মারফত জানান, কিষণ বিকাশগুলি সঠিক। তারই ভিত্তিতে সিউড়ি ডাকঘর থেকে ভোলানাথ দত্তকে কিষাণ বিকাশের ৬ লক্ষ ২০ হাজার টাকা নগদে দেওয়া হয়। নগদে দেওয়াতেই সন্দেহ জাগে ডাক বিভাগের সুপারের। টাকা দেওয়ার তিনদিন পরেই তিনি বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন।

সরকারি আইনজীবীর দাবি, ডাকঘরে একসঙ্গে ২০ হাজার টাকার বেশি টাকা নগদে দেওয়ার নিয়ম নেই। সব জেনেও কর্মীরা তা দিয়েছেন। তাছাড়া ভোলানাথ দত্ত ৬২ টি কিষাণ বিকাশ পত্র ভাঙিয়েছেন। অথচ নগদে নেওয়ার জন্য একটি মাত্র আবেদন জানিয়েছেন। যা বে-আইনি। তাছাড়া ডাক বিভাগের বিভাগীয় তদন্তে যে তারিখের উল্লেখ আছে সে দিন কালিয়া পাহাড়িতে কোনও কিষাণ বিকাশ পত্র কাটা হয়নি। তাছাড়া দুবরাজপুরে ভোলানাথ দত্তের ঠিকানাও ভুল। কর্মীরা সেই ঠিকানার সঙ্গে কিষাণ বিকাশ পত্রের ঠিকানা যাচাই না করে টাকাটি নগদে দিয়েছেন। তাই ডাকঘরের সুপার দেবাশিস সোম আর্থিক তছরুপের জন্য আট কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।

বিচার বিভাগীয় আদালতের দ্বিতীয় কোর্টের বিচারক সায়নী মুখোপাধ্যায় অভিযুক্ত সাত জনকে পাঁচ বছর ছ’ মাসের সাজা শোনান। সঙ্গে ২০ হাজার টাকা জরিমানা। অনাদায়ে আরও ছ’মাস জেল হেফাজতের নির্দেশ।

Leave a Comment

ten + twelve =

Welcome To Amaderbharat. We would like to keep you updated with the Latest News.