কাজ না করেই তপনে তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত থেকে উধাও ৮০ লক্ষ টাকা, ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের বিডিও’র

কাজ না করেই তপনে তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত থেকে উধাও ৮০ লক্ষ টাকা, ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের বিডিও’র

আমাদের ভারত ,বালুরঘাট, ১১ সেপ্টেম্বর: কাজ হয়নি,পঞ্চায়েত থেকে উধাও আশি লক্ষ টাকা। ঘটনায় নাম জড়ালো প্রাক্তন তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধান থেকে পঞ্চায়েতের প্রায় সমস্ত সরকারি আধিকারিকের। ১৬ জনের বিরুদ্ধে দায়ের লিখিত অভিযোগ। ঘটনাকে ঘিরে আলোড়ন দক্ষিণ দিনাজপুরের তপন ব্লকের রামপাড়া চেঁচড়ায়। দুর্নীতির সাথে যুক্তদের বিরুদ্ধে   থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের পরেও কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ না হওয়ায় ক্ষোভ বিভিন্ন মহলে।

দুর্নীতির তালিকায় নাম জড়িয়েছে তৃণমূলের প্রাক্তন প্রধান, পঞ্চায়েত সদস্য, ব্লকের আধিকারিক, কর্মী সহ মোট ১৬ জনের নামে। যাদের বিরুদ্ধে বিডিও সুশান্ত মাইতি তপন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগ পেয়েই  মামলা দায়ের করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে তপন থানার পুলিশ। যদিও বিরোধীদের অভিযোগ, পুরো ঘটনার প্রমাণ প্রশাসনের কাছে থাকলেও সরকারি কর্মী ও শাসক দলের নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গড়িমসি করছে পুলিশ। ঘটনা নিয়ে উঠেছে ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগও। দোষীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার না করা হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামা হবে জেলা জুড়ে এমন হুশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে বিরোধী রাজনৈতিক দল গুলির তরফে।

তপন ব্লকের বিডিও সুশান্ত মাইতি জানিয়েছেন, অভিযোগ পাবার পরে প্রশাসনের তরফে তদন্ত শুরু করা হয়। সেখানে কিছু কাজের অনিয়ম পাওয়া গিয়েছে। জেলা প্রশাসনের নির্দেশে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

তপন থানার ওসি সৎকার সাংবো জানিয়েছেন, বিডিওর তরফে লিখিত অভিযোগ পেতেই পুলিসের তরফে মামলা দায়ের করে ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

তপনের তৃণমূলের বিধায়ক তথা রাষ্ট্রমন্ত্রী বাচ্চু হাঁসদা বলেন, দুর্নীতিতে কোনও ভাবে আপোষ নয়। পুলিশ প্রশাসনের উচিত সঠিক ভাবে তদন্ত করে ঘটনায়
জড়িতদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করার।

বিজেপি সংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেন, বিষয়টি শুনেছি। তবে দুর্নীতির প্রমাণ পেলেও কেন সেই সমস্ত সরকারী কর্মীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে না তা বুঝতে পারছি না। দ্রুত ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা না নেওয়া হলে এই নিয়ে আমরা আন্দোলনে নামব।

জানা গেছে, ১০০ দিনের কাজের মধ্য দিয়ে রামপাড়া চেঁচড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বাবতৈল গ্রামে বেশ কিছু পুকুর খনন ও রাস্তা তৈরী করবার উদ্যোগ প্রশাসনের তরফে নেওয়া হয়। মাস্টার রোল বানানো হয় পঞ্চায়েতের তরফে। এলাকার কয়েক হাজার মানুষ ১০০ দিনের কাজের মধ্য দিয়ে সেই কাজ করে পুকুর খনন ও রাস্তা তৈরী করে এমনটা দাবি করে টাকা চেয়ে প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়। প্রশাসনের নিয়ম অনুসারে  ৮০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করে। এরই মধ্যে প্রশাসনের কাছে এলাকার কোনও এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন সেখানে কোনও কাজ না করেই টাকা তছরুপ করা হয়েছে। অভিযোগ পেয়েই প্রশাসনের আধিকারিক এলাকায় কাজ খতিয়ে দেখতে যান। ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে আধিকারিকরা ধন্দের মধ্যে পড়ে যান। যে সমস্ত স্থানে পুকুর খনন করা হয়েছে বলা হয় সেই সমস্ত স্থান ফাঁকা পড়ে থাকতে দেখা যায়। আধিকারিকরা অবাক হয়ে যান কিভাবে পুকুর খনন না করে টাকা বরাদ্দ হল। পাশাপাশি আদতে সেই টাকায় যারা কাজ করেছে তারা কি টাকা পেয়েছে তা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়। তদন্ত করতেই সামনে আসে কাজ না করেই টাকা তছরুপ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের তরফে পুরো ঘটনার তদন্ত করে দুর্নীতি সামনে আসে। জানা যায়, পুরো ৮০ লক্ষ টাকার দুর্নীতিতে পঞ্চায়েতের আধিকারিক, কর্মী, কাজের সুপারভাইজার, ব্লকের আধিকারিক সহ প্রাক্তন প্রধান ও পঞ্চায়েতের সদস্যরা যৌথ ভাবে কাজ না করে টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেছে। ঘটনার প্রমাণ পেতেই ব্লক প্রশাসনের তরফে এই নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে সরকারি কর্মচারীরা দুর্নীতির সাথে জড়িত থাকলেও কেন তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

19 − fourteen =

amaderbharat.com

Welcome To Amaderbharat.com, Get Latest Updated News. Please click I accept.