পঞ্চায়েতের কাছে দীর্ঘদিনের দাবি ছিল নিকাশির, কৃষ্ণনগরের সমরপল্লীর ৮০০ পরিবার এখনও জর্জরিত জল নিকাশি সমস্যায়

স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ১৪ সেপ্টেম্বর: বৃষ্টি হলেই জল জমে যায়, সেই জল বাড়ির উঠান ও ঘরে ঢুকে পড়ে। জল নিকাশির সু-ব্যবস্থা না থাকায় জল জমে থাকে দীর্ঘদিন ধরে। তাতে দুর্গন্ধ ও মশার উপদ্রব হয়। এই অবস্থায় বসবাস করছে কৃষ্ণনগরের কোতয়ালী থানা এলাকার দোগাছি গ্রাম পঞ্চায়েতের সমর পল্লীর বাসিন্দারা।

এই এলাকার বাসিন্দাদের বহু দিনের দাবি, জল নিকাশি ব্যবস্থার। এলাকাবাসীরা এই নিয়ে স্থানীয় পঞ্চায়েতের কাছে লিখিত দাবি জানিয়েছে। কিন্তু তাদের অভিযোগ, বহুবার জানানো সত্ত্বেও কোনও ব্যবস্থায় নেয়নি পঞ্চায়েতের তরফে। বৃষ্টির পচা জল পারিয়ে যাতায়াত করতে হয়ে বাচ্চা, বৃদ্ধ- বৃদ্ধা সকলকেই। এতে নানান শারীরিক সমস্যার ভুগতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, রাজ্য সককার নানা উন্নয়ন মূলক কাজ করছে কিন্তু এই গ্রামের বাসিন্দাদের জন্য কেন জল নিকাশি ব্যবস্থার সমাধান করা হল না?
স্থানীয় এক বৃদ্ধা প্রতিমা বিশ্বাস বলেন, পচা দুর্গন্ধযুক্ত জল পাড়িয়ে আমাদের যাতায়াত করতে হয়। আমাদের খাবার জলের জন্য পঞ্চায়েত থেকে টাইম কলের ব্যবস্থা করা হয়েছে কিন্তু সেই টাইম কল জলের তলায়। ফলে খাবার জলের অভাবে ভুগতে হচ্ছে আমাদের। কয়েকদিন ধরে ঘরের বাচ্চারা ডায়েরিয়াতে ভুগছে, তবুও পঞ্চায়েতের তরফে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
এই এলাকায় মোট ৮০০ মানুষের বাস। বৃষ্টি হলেই তাদের দুর্ভোগ চরমে ওঠে। ঘরের উঠোন থেকে গ্রামের রাস্তা সবতেই জল ভর্তি। নর্দমার জল পারিয়ে যাতায়াত।

এদিকে বিজেপির তরফে সঞ্জীব মজুমদারের দাবি, রাজ্য সরকার উন্নয়ন করবে কি করে। রাস্তার জন্য যে অর্থ কেন্দ্র দিচ্ছে সেই অর্থ দিয়েই তো রাজ্য সরকার লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা দিচ্ছে। এদিকে রাস্তার উন্নয়ন না হওয়ার ফলে বৃষ্টির জল জমে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

এদিকে তৃণমূলের তরফে অর্চনা বিশ্বাস বলেন, এই এলাকার মানুষদের এই সমস্যা বহুদিনের। স্থানীয় বাসিন্দারা বহুবার প্রশাসনের কাছে জানালেন কোনও সু-ব্যবস্থা হয়নি। আজ আমরা দলের তরফে কিছু মানুষ একত্রিত হয়ে জল নিষ্কাশনের জন্য কাজ করছি। আমাদের বিশ্বাস এখানকার বাসিন্দাদের এই সমস্যা খুব শীঘ্রই সমাধান হয়ে যাবে।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here