কামারহাটিতে তৈরী হচ্ছে বিশাল রথ, সেটিকে রাখা নিয়ে শুরু হল সমস্য

আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ২১ জুন: কামারহাটি বেলঘড়িয়া রথ তলায় জগন্নাথ মন্দির কমিটি জগন্নাথ সুভদ্রা বলরামের বৃহৎ রথ তৈরি করে সমস্যার মুখোমুখি।

১লা জুলাই রথযাত্রা, আর এই রথযাত্রা উপলক্ষ্যে বেলঘরিয়া রথতলা জগন্নাথ মন্দির কমিটির উদ্যোগে পশ্চিমবঙ্গের বৃহৎ ৩০ ফুটের জগন্নাথ দেবের রথ ২৮ ফুটের বলরাম দেবের রথ ও ২৭ ফুটের ১২ চাকা বিশিষ্ট সুভদ্রা দেবীর রথ তৈরি করার কাজ প্রায় শেষের মুখে। প্রথম বর্ষের রথযাত্রা উপলক্ষ্যে প্রায় শেষ কাজের প্রস্তুতি চলছে।

আগামী ১লা জুলাই রথযাত্রা। হাতে আর বেশি সময় নেই। শিল্পীরা দ্রুততার মধ্যে দিয়ে কাজ শেষ করার চেষ্টা করছে। তবে এই রথ নিয়ে সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে উদ্যোক্তাদের। প্রভু জগন্নাথ দেবের মন্দির কমিটির প্রধান উদ্যোক্তা সোমনাথ রায় চৌধুরীর বক্তব্য, রথযাত্রা নিয়ে যাওয়া হবে জগন্নাথ দেবের মাসির বাড়ি এবং এই মাসির বাড়ি তৈরি করা হয়েছে বেলঘড়িয়া বিটি রোড সংলগ্ন ক্ষুদিরাম শিশু উদ্যান মাঠে। তবে রাস্তা থেকে মাঠের উচ্চতা দু’ ফুট হওয়ায় রথ মাঠে ঢোকানো সম্ভবপর নয়, কারণ রথে কোনো ধরনের পেরেক ব্যবহার করা যায় না তাই রথের প্রত্যেকটি সংযোগ স্থান অনেকটাই দুর্বল। মাঠে ওঠাতে গেলেই ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। তাই রথ বিটি রোড সার্ভিস রোডে রাখার চিন্তাভাবনা করেছে কমিটি। কিন্তু ওই রাস্তায় রথ রাখা যাবে না এমনটাই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফ থেকে।

উদ্যোক্তা সোমনাথ রায় চৌধুরী আরো জানান, যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রথম থেকে অনেকটাই সহযোগিতা পাওয়া গেছে তাই এত দিনে কাজ প্রায় সমাপ্ত করতে সুবিধা হয়েছে। তবে হঠাৎ করেই এরূপ নির্দেশ আসায় অনেকটাই সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে মন্দির কর্তৃপক্ষকে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে বিটি রোড সংলগ্ন ১৮ ফুটের এই সার্ভিস রোড বিভিন্নভাবে বন্ধ থাকায় ব্যবহারযোগ্য নেই। সেটি ঠিক করার কোনো প্রকার ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। কিন্তু হঠাৎ করেই জগন্নাথদেবের তিনটি রথ সাতদিন ধরে থাকায় বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে উদ্যোক্তাদের। এই সমস্যার বিষয়ে সোমনাথ রায় চৌধুরী প্রশাসনের কাছে আবেদন জানান যাতে পূর্ণ সহযোগিতা পাওয়া যায় ভবিষ্যতে।

রথ রাখার সমস্যা নিয়ে কামারহাটি পৌরসভার পৌর প্রধান গোপাল সাহা বলেন, প্রশাসন নিশ্চয়ই কোনো কারণবশত সার্ভিস রোডে রথ রাখতে না বলেছে। তবে এই বিষয়ে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকের সাথে আলোচনা করে রথ রাখার ব্যবস্থা করা হবে। তিনি বলেন, “প্রভু যখন আসছেন নিশ্চয়ই কোনো ব্যবস্থা করতেই হবে, আমরা প্রশাসনের সাথে কথা বলবো। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা হবে।”

এখন শুধু দেখার রথ যাত্রার পর এই ৭ দিন রথ রাখার ব্যবস্থা কোথায় করে মন্দির কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here