মুড়ি কেনা নিয়ে বচসা, নলহাটিতে পিটিয়ে খুন যুবককে

আশিস মণ্ডল, রামপুরহাট, ১১ আগস্ট: বাড়ি থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করে পিটিয়ে মারা হল এক যুবককে। অভিযুক্ত গ্রামেরই এক মহিলা সহ চারজন। ঘটনার পর থেকেই বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে গাঁ ঢাকা দিয়েছে অভিযুক্তরা। ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের নলহাটি থানার আট গ্রামে। মৃত যুবকের নাম বিধান লেট (২৫)। পেশায় দিনমজুর। মাসখানেক আগে তার বিয়ে হয়েছে। মৃত যুবক কিছুটা মানসিক অবসাদগ্রস্থ ছিলেন।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার দুপুরে সে গ্রামের নামু পাড়ায় একটি মুড়ি মিলে মুড়ি কিনতে গিয়েছিল। সেখানে মুড়ি আগে পরে দেওয়া নেওয়া এবং অন্যের মুড়ির বস্তা ওলটপালট হওয়া নিয়ে গ্রামের এক গৃহবধূর সঙ্গে বচসা বাধে। তখনকার মতো বিষয়টি মিটে গেলেও সন্ধ্যার দিকে ওই গৃহবধূ তার স্বামী মিলন লেট নিকট আত্মীয় দেওর হেমন্ত লেটকে নিয়ে চড়াও হয় বিধানের বাড়িতে। বিধান সে সময় বাড়ির চিলেকোঠায় শুয়েছিল। সেই অবস্থায় অভিযুক্ত তিনজন বাড়ির চিলেকোঠায় উঠে তাকে মারতে মারতে রাস্তায় নামিয়ে নিয়ে আসে। এরপর রাস্তায় ফেলে গোপনাঙ্গে লাগাতার লাথি মারে। বিধান অচেতন হয়ে পড়লে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। সেখান থেকে ছেলেকে উদ্ধার করে মা নির্মলা লেট নলহাটি ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নিয়ে যায়। কিন্তু চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে আসে। এরপর বিধানের দিদি ভাইকে নিয়ে ফের নলহাটি ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেখান থেকে সোমবার সকালে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে গভীর রাতে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

দিদি মিনতি লেট বলেন, “ভাইয়ের গোপনাঙ্গে লাথি মারার ফলে ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। আমি যখন ভাইকে হাসপাতালে নিয়ে যায় তখন প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে”। মা নির্মলা লেট বলেন, “ছেলেকে সবার সামনে নৃশংস ভাবে খুন করল বীরবল লেট তার ছেলে মিলন লেট, বউমা অপর্ণা লেট, আত্মীয় মধু লেট ও হেমন্ত লেট। আমরা ওদের ফাঁসি চাই”।

অবশ্য ঘটনার পর থেকেই বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে পলাতক সকলেই। পুলিশ অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here