বাগনানে তৃণমূল নেতাকে গুলি করে খুনের অভিযোগ

আমাদের ভারত, হাওড়া, ২১ জানুয়ারি: বাগনানের বাইনান অঞ্চলের তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি শেখ আসাদুল রহমানকে (৫২) গুলি করে খুনের অভিযোগ উঠল তৃণমূলের অন্য গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। যদিও তৃণমূল গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের কথা অস্বীকার করেছে।

জানাগেছে, মঙ্গলবার সকালে বাড়ি থেকে সাইকেল নিয়ে বের হওয়ার পর কয়েক কিলোমিটার দূরে আসাদুল রহমানের রক্তাক্ত মৃতদেহ রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে মৃতদেহ আটকে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। পরে বাগনান থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশিস মৌর্য এবং উলুবেড়িয়ার এসডিপিও পার্থ ঘোষ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দোষীদের গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে অবরোধ ওঠে এবং মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়।

এদিকে আসাদুলের মৃত্যুর ঘটনায় তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকেই দায়ী করেছেন মৃতের পরিবারের সদস্যরা। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ ১০ বছর ধরে আসাদুল বাইনান অঞ্চলের তৃণমূলের সভাপতি থাকলেও সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তাকে পদ থেকে অপসারণ করা হয়। এবং এলাকার মানুষ তাকে পুনরায় সভাপতি করার দাবি তোলায় তাকে পরিকল্পনা করে ফোন করে ডেকে নিয়ে গিয়ে গুলি করে খুন করা হয়েছে।

যদিও তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কথা অস্বীকার করেছেন তৃণমূলের হাওড়া গ্রামীণ জেলা সভাপতি পুলক রায়। তিনি বলেন, আসাদুল ভালো নেতা ছিলেন। তার মৃত্যু দুঃখজনক। পুলিশ তদন্ত করছে আমরাও খোঁজ খবর নিচ্ছি।

যদিও গুলির কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানান হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিশ সুপার সৌম্য রায়। তিনি বলেন, মৃত ব্যক্তির মাথার পিছনে আঘাতের চিহ্ন দেখে প্রাথমিক অনুমান পড়ে গিয়ে মাথায় চোট পাওয়ায় এই মৃত্যু হয়েছে। কিভাবে ওই ব্যাক্তি পড়ে গেল পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here