মালদা, মুর্শিদাবাদে সক্রীয় গরু পাচারকারীরা

আমাদের ভারত, মালদা, ২৬ সেপ্টেম্বর: গরু পাচারকারীরা ঝাড়খন্ড, বিহার থেকে এবং বীরভূম জেলার ইলামবাজার থেকে গরু সংগ্রহ করে। আবার বিহারের কাটিহার এবং মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকা থেকেও গরু সংগ্রহ করে। এরপর ছোট ছোট ট্রাকে করে জাতীয় সড়ক ও বিভিন্ন রাজ্য সড়ক দিয়ে প্রকাশ্যে পুলিশের চোখের নজরে গরুগুলিকে আনা হয় মালদার বৈষ্ণবনগর থানার ভারত- বাংলাদেশ সীমান্তে। কিছু গরু নিয়ে যাওয়া হয় ঠিক ওপারে মুর্শিদাবাদের নিমতিতা এলাকায়। এরপর গরুগুলোকে লুকিয়ে রাখা হয় একদিকে মালদার বৈষ্ণবনগর থানার চালাক পাড়া এলাকায়। অপরদিকে মুর্শিদাবাদের নিমতিতার মহালদার পাড়া এলাকায়।

সেখানেই গরুগুলির গায়ে বিভিন্ন দালালদের কোড নম্বর লাগানো হয়। গরু-মহিষের গায়ে দালালদের নাম অথবা তাদের কোড নম্বর লিখে দেওয়া হয়। সন্ধে হতেই গরুগুলিকে গঙ্গা নদীর দুই ধারের ভরা বর্ষার মরশুমে বিভিন্ন গাছের আড়ালে লুকিয়ে রাখা হয়। শুধু লাইনের অপেক্ষা অর্থাৎ সিগন্যালের অপেক্ষা। হুইসেল এর মাধ্যমে সিগন্যাল দেওয়া হয় এর পরেই গরুগুলিকে একদিকে মালদার পারদেনাপুর, শোভাপুর, শিবপুর ঘাট অপরদিকে মুর্শিদাবাদের নিমতিতা চাদনীচক এলাকা দিয়ে গঙ্গা নদীতে নামানো হয়। ছোট ছোট রাখালরা এই গরুগুলোকে নিয়ে যায় বাংলাদেশের বাখের আলী, জহরপুর, জহরপুর টেক মনোহরপুর সীমান্ত এলাকায়। সেখান থেকে গরুগুলিকে নৌকা করে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। এভাবেই চলে গরু পাচার।

বিজেপির মালদা জেলার সহ-সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, প্রায় ১১টি থানা পেরিয়ে গরু সীমান্তে আনা হয়। পুলিশ প্রশাসন এর সাথে যুক্ত না থাকলে এবং শাসকদলের মদত ছাড়া কোনও ভাবেই গরু সীমান্তে আনা সম্ভব নয়।

গরু পাচারের সাথে সব দল যুক্ত বলে দাবি করেন কংগ্রেসের মালদা জেলার সহ-সভাপতি কালি সাধন রায়। এই পাচারে তিন ধরনের অপরাধ হয় এক নম্বর পাচারকরা, দুই নম্বর ছোট ছোট ছেলেদের পাচারে যুক্ত করা, তিন নম্বর পশুর ওপর নির্যাতন করা। তিনি নিজের দল কংগ্রেসকেও এক্ষেত্রে ক্লিনচিট দেননি।

রাজ্য সরকার ও রাজ্য পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে গরু পাচার নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন সিপিএমের মালদা জেলার নেতা কৌশিক মিশ্রও।

যদিও তাদের ওপর ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মালদা জেলা তৃণমূলের মুখপাত্র শুভময় বসু। তিনি সমস্ত দোষ চাপিয়ে দিচ্ছেন বিএসএফ ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here