উত্তরবঙ্গ থেকে আসা তাঁত শিল্পীদের বাড়িতে ফেরাল প্রশাসন

স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ২৯ এপ্রিল:
উত্তরবঙ্গ থেকে আসা তাঁত শিল্পীদের বাড়িতে ফেরার ব্যবস্থা করল প্রশাসন। ভারতবর্ষের বিভিন্ন জায়গায় আটকে পড়েছে পরিযায়ী শ্রমিকেরা। শুধু ভারতবর্ষ নয় উত্তরবঙ্গ থেকে আসা প্রায় ৮০০ জন শিল্পী নদিয়ার ফুলিয়ায় এসে আটকে পড়েছেন। প্রথম দফায় ১৫৬ জন তাঁত শ্রমিককে ফেরাবার ব্যবস্থা করল প্রশাসন।
নদিয়া জেলা শাসকের তরফ থেকে কিছুদিন আগেই জানানো হয়েছিল লকডাউনে আটকে থাকা উত্তরবঙ্গ থেকে আসা তাঁত শ্রমিকদের শারীরিক পরীক্ষার পর দফায় দফায় কোচবিহার ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে। সেইমতো প্রথম দফায় বুধবার ফুলিয়ার বেলগড়িয়া ১ নম্বর পঞ্চায়েত থেকে উত্তরবঙ্গের উদ্দেশ্যে ছটি বাস ছাড়ে। প্রতিটা বাসে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ২৫ জন করে মোট ১৫৬ জন শ্রমিকদের নিয়ে বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ বাসগুলো উত্তরবঙ্গের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

প্রসঙ্গত লকডাউনে উত্তরবঙ্গ থেকে আসা তাঁতিদের ফুলিয়ার মহাজনদের বাড়িতেই আটকে পড়তে হয়েছিল। তাদের থাকা-খাওয়ার সমস্যা হচ্ছিল। সেকারণে তাদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করতে সমস্যায় পড়ছিলেন অনেক ব্যবসায়ী। ফলে আর্থিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে অনেক ব্যবসায়ীকে। শান্তিপুর ব্লকের ফুলিয়ায় প্রতিবছর বহু শ্রমিক উত্তরবঙ্গ থেকে এখানে আসেন কাজ করতে। থাকেন বেলগড়িয়া ওয়ান, বেলগড়িয়া টু, নবলা এবং ফুলিয়া টাউনশিপের মতন জায়গায়। এদের প্রায় বেশিরভাগ শ্রমিকের বাড়িই উত্তরবঙ্গের কোচবিহারে। লকডাউনের ফলে এই তাঁত শিল্পীরা সমস্যায় পড়েছেন। নদিয়া প্রশাসনের সহযোগিতায় আজ তারা নিজের নিজের বাড়ি ফিরছেন।

তাঁত শিল্পী চিরঞ্জিত সাহা বলেন, অনেকদিন পর বাড়িতে যাব, নদিয়া প্রশাসনকে ধন্যবাদ যে আমাদের কথা ওনারা ভেবেছেন। আমাদের কথা তো কেউ ভাবে না। বাড়ির সবাই খুব খুশি আমি যাব বলে। ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে জমিতে চাষ করব। লকডাউন খুললে আবার ওখানে যাবার কথা ভাববো।

তাঁত শিল্পী প্রশান্ত বিশ্বাস জানান, ফুলিয়াতে কাজ করতে গেছিলাম এক মাস ধরে বসে আছি। মালিক শ্যামল দাস খাওয়া-দাওয়া ঠিক মতন দিত না আমাকে। বাড়িতে বাবা মা বোন আমার জন্য অপেক্ষা করছে। তারা বলছে যে বাড়িতেই চাষবাস কর ওখানে আর যেতে হবে না।

তাঁত শিল্পী হারান দাস জানান, আমি ফুলিয়ার ৫২ বিঘাতে তাঁতের কাজ করতাম। বাড়ির আর্থিক অবস্থা ভালোনা তার জন্যই বাইরে আসা। পড়াশোনা করতে পারিনি টাকার অভাবে। এখন বাধ্য হয়ে বাইরে আসতে হয়েছে এখানে তাঁতের কাজ করতে। মহাজন কোনও টাকা পয়সাও দেয়নি টাকা আটকে রেখেছে। লকডাউনের পর কাজে যোগ দিলে টাকা দেবে বলেছে। আমরা ভাবতে পারিনি বাড়ি ফিরতে পারব। সরকার থেকে যে এরকম ব্যবস্থা করেছে তার জন্য সরকারকে অনেক ধন্যবাদ।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here