“শ্রীরামের আশীর্বাদ! বাবরি মামলার এই গুরুত্বপূর্ণ রায় আমাকে ও বিজেপিকে সন্দেহ মুক্ত করল” , প্রতিক্রিয়া আদবানির

আমাদের ভারত,৩০ সেপ্টেম্বর:দীর্ঘ ২৮ বছর পর বাবরি ধ্বংসের অভিযোগ থেকে মুক্ত হলেন লালকৃষ্ণ আদবানি মুরলি মনোহর যোশী,উমা ভারতী কল্যান সিং সহ ৩২ জন অভিযুক্ত। মসজিদ ধ্বংসের পেছনে কোন ষড়যন্ত্র ছিল না বলে জানিয়ে দিয়েছে সিবিআই আদালত। এই রায় শুনে জয় শ্রী রাম ধ্বনি দিয়েছেন আদবানী, বলেছেন এই রায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রায়ের প্রেক্ষিতে বিবৃতি দিয়ে তার প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেছেন, ” বিজেপি ও আমাকে এই রায় আমাদের সন্দেহমুক্ত করল।”

বলা যায় রাজনীতি থেকে একরকম সন্ন্যাস নিয়ে ফেলেছেন আদবানি। তবু এই রায় তার ও বিজেপির জন্য বড় প্রাপ্তি। স্বশরীরে আদালতে আসতে না পারলেও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আদালতের রায় শুনেছেন তিনি। তারপর তার প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানিয়েছেন,” সিবিআই বিশেষ আদালত যে রায় দিয়েছে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজ সবার খুশির দিন। জয় শ্রীরাম বলে এই রায়কে স্বাগত জানাচ্ছি। এই রায় বিজেপি ও আমাকে সন্দেহ মুক্ত করল। এই রায় আমার কাছে আরো খুশির, কারণ গত নভেম্বরে আদালতের আরেকটি রায় রাম মন্দিরের তৈরীর পথ খুলে গিয়েছি। বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের মতো আমিও রাম মন্দির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার দিকে তাকিয়ে রয়েছি।”

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য বাবরি মামলার রায় দিতে গিয়ে আজ বিশেষ আদালত জানিয়েছে, মসজিদ ভেঙ্গে ছিল দুষ্কৃতীরা। অভিযুক্তরা উন্মত্তদের থামাতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছিলেন। মসজিদ ভাঙ্গার ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের ষড়যন্ত্র ছিল এমনটা আদালতে পেশ করা দেওয়া তথ্য প্রমাণে প্রমাণিত হয়নি। আদালত আরও বলেছে বাবরি ধ্বংস কোনো পরিকল্পনা করে হয়নি। তথ্য প্রমাণ হিসেবে দাখিল করা ফটো বা অডিও অস্পষ্ট। ফলে তার সত্যতা প্রমাণ করতে পারেনি সিবিআই। যারা মসজিদের গম্বুজের উপরে উঠে ছিল তারা দুষ্কৃতী ছিল।

এর আগে ২৪ শে জুলাই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নিজের বয়ান রেকর্ড করেন আদবানি। সেখানে তাকে ১০০টি প্রশ্ন করেন বিচারক। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আদবানি। একই পদ্ধতি অবলম্বন হয়েছিল মুরলী মনোহর যোশীর ক্ষেত্রেও। তিনিও নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছিলেন। রায়ের পর যোশী বলেছেন , “এটি ঐতিহাসিক রায়। আদালতের এই রায় প্রমাণ করল যে ৬ ডিসেম্বর অযোধ্যার ঘটনার পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র ছিল না। আমাদের কর্মসূচি ও মিছিল কোন ষড়যন্ত্রের অংশ ছিল না। এই রায়ে আমরা খুশি। রাম মন্দির নির্মাণ নিয়ে এবার প্রত্যেকের উৎসাহী হওয়া উচিত”।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here