নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষের নেতৃত্বে প্রথম বৈঠক উত্তরকন্যায়

আমাদের ভারত, শিলিগুড়ি, ২৪ নভেম্বর: উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে নেওয়া প্রায় ২০০ প্রকল্পের কাজ আগামী জানুয়ারিতেই শেষ করতে চাইছে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন পর্ষদ। এরজন্য প্রকল্পগুলির এখনকার অবস্থান নিয়ে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। ৩ জানুয়ারির মধ্যে এই রিপোর্ট দেওয়ার পাশাপাশি নতুন অর্থবর্ষে কোথায় কী কাজ করা যায় তা নিয়ে প্রস্তাব ও পরিকল্পনা নেওয়া হবে। পর্ষদের পক্ষ থেকে এর রূপরেখা তৈরি করে ব্যায় বারদ্দের জন্য রাজ্যকে দেওয়া হবে। বুধবার ফুলবাড়িতে মুখ্যমন্ত্রীর শাখা সচিবালায় উত্তরকন্যায় পর্ষদের বৈঠক হয়। ১৬ আগস্ট নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর পর্ষদের চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষের নেতৃত্বে প্রথম বৈঠক এটি। পর্ষদে নতুন একজন সহকারি চেয়ারম্যান ও নতুন সদস্যরা এসেছেন। পরবর্তীতে কমিটির রদবদল করে এবার পর্ষদে সদস্য সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৪ জন। এদিন শিলিগুড়ির উত্তরকন্যায় তাদের সঙ্গে প্রকল্পের সমস্ত কাজ নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব অজিত রঞ্জন বর্ধন। তিনি বৈঠকে জানান, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের অধীনে প্রায় ৪৫০ প্রকল্প নেওয়া হয়। চলতি অর্থবর্ষে ওই দপ্তরে রাজ্য বরাদ্দ দিয়েছিল ৭৭৬ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা। তার সিংহভাগ কাজ হয়ে গেছে। অল্প কিছু কাজ বাকি রয়েছে। তা নতুন অর্থবর্ষের আগেই শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

পর্যদ সূত্রে জানাগেছে, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের বরাদ্দে একাধিক বড় কাজ হয়েছে। বহু সেতু ও রাস্তা হয়েছে। স্কুল, কলেজ ভবন হয়েছে। মালদা জেলায় যোগাযোগ ব্যবস্থার পেছনে অনেকটা খরচ হয়েছে। তবে গত দুই বছর ধরে কাজের গতি ছিল না। করোনার জেরে মাঝে বহু মাস কাজ বন্ধ ছিল। এরপর আবার বালি, পাথর, সিমেন্ট, রড সহ নির্মাণ সামগ্রির দাম বেড়েছে। ফলে অনেকগুলি প্রকল্পের কাজ শেষ করা যায়নি। এদিন বৈঠকে এনিয়েও একটা সমাধানের পথ বের করার জন্য আলোচনা হয়। তবে এদিন পর্ষদের রদবদলে নতুন সদস্যদের নিয়ে বৈঠক হওয়ায় প্রস্তাব আসেনি। ৩ জানুয়ারির পরবর্তি বৈঠকে তা লিখিত আকারে নেওয়া হবে বলে বলে জানান পর্ষদের চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। তিনি বলেন, এদিন বৈঠকে জোর দেওয়া হয় রাস্তা ও সেতুর কাজ নিয়ে। করোনা সহ নানা কারণে অসমাপ্ত প্রায় ২০০ প্রকল্পের কাজ তড়িঘড়ি শেষ করার জন্য বলা হয়। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে প্রধান কাজগুলির ৯৮ শতাংশ শেষ করা যাবে। এরপর পরবর্তী অর্থবর্ষের জন্য অন্তত সাড়ে ৮০০ কোটির উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য প্রস্তাব যেতে পারে।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here