চিনের সাম্রাজ্যবাদী নীতি মোকাবিলায় এবার লাদাখের পর আন্দামান নিয়ে সর্তক ভারত, যাচ্ছে অতিরিক্ত সেনা

আমাদের ভারত, ৪ জুলাই: লাদাখ সীমান্তে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় উত্তেজনা কমার কোন সম্ভাবনা নেই এখনও। তার মধ্যেই এবার আন্দামান- নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে আগেভাগেই সতর্ক হল ভারত। চিনের সাম্রাজ্যবাদী মানসিকতার কথা মনে রেখেই সেখানে অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে । ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এরমধ্যে ভারতের তরফে একাধিকবার চিনকে হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। নিজেদের ভূখণ্ডের এক ইঞ্চিও ভারত ছেড়ে দেবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়েছে। ভারতের সেনা পর্যায়ের বৈঠকে জানানো হয়েছে আগে চিনারা তাদের পূর্ব বৈঠকের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করুক তারপরই পরবর্তী আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হবে।

১৫ জুন গালওয়ানে ভারতীয় সেনার কুড়ি জন জওয়ান শহীদ হয়েছেন। আহত হয়েছেন অনেকে। লাদাখে
চিনকে প্রয়োজনে জবাব চুড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে ভারত। তারমধ্যে সেনার মনোবল বাড়াতে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নিজে। লেহ-তে দাঁড়িয়েছে চিনকে চ্যালেঞ্জ করেছেন তিনি। কিন্তু তার মধ্যেই আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে এবার নড়েচড়ে বসেছে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। চিনের মোকাবিলায় ভারত মহাসাগরের উপর আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে ভারত সরকার। অনেক দিন আগে থেকেই আন্দামানে সেনা সংখ্যা বাড়ানোর কথা চলছিল। এমনকি সেনার অবস্থান বদল নিয়ে একাধিক আলোচনা হয়েছে।

ভারত মহাসাগরে চিনের উৎপাত বাড়তে পারে সেই আশঙ্কায় আগে থেকেই নড়েচড়ে বসল প্রতিরক্ষা মন্ত্রক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ। জানা গেছে বদলানো হচ্ছে ওই অঞ্চলের সেনার পরিকাঠামো।

২০০১ সালে আন্দামানে প্রথম কমান্ড প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। দেশের প্রথম এবং একমাত্র থিয়েটার কমান্ড এটি। আন্দামানে স্থল, নৌ, বায়ু সেনা একই অপারেশনাল কামান্ডের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। দীর্ঘদিন এই কমান্ড উপেক্ষিত বলে অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে এই কমান্ড এখন দারুণ গুরুত্ব পাচ্ছে।

আন্দামান নিকোবরে কাছ দিয়ে জাহাজে করে জ্বালানি তেল আমদানি করে চিন। সেই ব্যাপারটির কথা মনে রেখেই নড়েচড়ে বসেছে ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রক।
উত্তর আন্দামানের শিবপুরে নৌসেনা রেলস্টেশন এসারের রানওয়ের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি করা হচ্ছে। নতুন রোল অন প্ল্যান নেওয়া হয়েছে। তাতে ১০ বছরের জন্য ওই অঞ্চলে প্রতিরক্ষা পরিকাঠামো উন্নয়ন করা হবে বলেও জানা গেছে। আগামী বছর আন্দামানে যুদ্ধবিমানের স্থায়ী ঘাঁটি তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here