শুভ বিজয়া! “আহা, বাঙালি যদি এর কারণটা জানত, তাহলে আজ বাংলার চেহারাটাই অন্য রকম হত”

শান্তনু সিংহ
আমাদের ভারত, ৫ অক্টোবর: পূর্ব পাকিস্তান থেকে ভিটেবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে আসা উদ্বাস্তু বাঙালি এখন সফিস্টিকেটেড। তাই বিজয়গড় এর পাশ থেকে “কলোনি” শব্দটি উচ্ছেদ করে দেওয়া হয়েছে। এখন ওখানকার উদ্বাস্তু বাঙালিরা আর “বিজয়গড় কলোনি” বলেন না– বলেন “বিজয়গড়”।

বাঘাযতীন মোড় থেকে রানিকুটি পর্যন্ত যে রাস্তাটা চলে গেছে, তার পূর্বদিকে মুখ করে তাকালে, শ্রী কলোনির উল্টো দিক থেকে বাঁদিকে পূর্ব পাকিস্তান থেকে ভিটেবাড়ি ছেড়ে আসা উদ্বাস্তু বাঙালি বাসস্থানের নাম বিজয়গড়। ‘পরের জায়গা, পরের জমিন, ঘর বানাইয়া আমি রই – আমি তো সেই ঘরের মালিক নই।’ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় উদ্বাস্ত কলোনি। (পরে অবশ্য উদ্বাস্ত কলোনিগুলোকে কংগ্রেস নেতা পঙ্কজ ব্যানার্জীর উদ্যোগে মালিকানার দলিল দেওয়া হয়)।

পূর্ব পাকিস্তান থেকে ভিটেবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে আসা উদ্বাস্তু বাঙালি কী এমন “বিজয়” করল যে তাদের প্রতিষ্ঠিত কলোনির নাম দিতে হলো “বিজয়গড়”? হ্যাঁ, “বিজয়” তো অবশ্যই তাঁরা করেছেন। পূর্ব পাকিস্তানে মুসলমানদের কাছে “বিজিত” হয়ে, ডক্টর শ্যামাপ্রধান মুখার্জির উদ্যোগে তৈরি পশ্চিমবঙ্গের বিস্তীর্ণ ধান ক্ষেতে ঝুপড়ি বানিয়ে দখল কায়েম করে, তৎকালীন জমিদারদের বিরুদ্ধে “বিজয়ী” হয়ে, নিজেদের দখলকে মৌরসিপাট্টায় রূপান্তর করতে পেরেছিলেন। আর তারপর, যখন ঝুপড়িগুলোর পাশে একটু টিন বা ইটের ছোঁয়া দিতে পেরেছেন, তখন চিৎকার জুড়েছেন – “সাম্প্রদায়িক শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির কালো হাত ভেঙ্গে দাও, গুড়িয়ে দাও”। লাল পতাকা কাঁধে নিয়ে বিজয়গড় কলোনির মোড়ে মোড়ে মিটিং করেছেন – “ইনকিলাব জিন্দাবাদ, কমিউনিস্ট পার্টি ক্যারেপুকার”।

যে কমিউনিস্ট পার্টি মুসলিম লিগের দেশ ভাগের দাবিকে সমর্থন করে পূর্ব পাকিস্তানের রাস্তায় রাস্তায় মিছিল করেছিল – “পাকিস্তান দিতে হবে, তবেই ভারত স্বাধীন হবে।”

তখন যদি মুসলমানদের তাড়া খেয়ে পালিয়ে আসা বিজয়গড়‌ কলোনীর উদ্বাস্তু বাঙালিদের মাথায় উপর সরকার থাকতো বামফ্রন্ট, আর মুখ্যমন্ত্রী থাকতেন জ্যোতি বসু, তা হলে কী হত? মুসলমানদের অত্যাচারে, নিজেদের মা-বোনের ইজ্জত বাঁচাতে, বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে আসা বাঙালি উদ্বাস্তুদের মরিচঝাঁপিতে যেভাবে গুলি করে, জলে ডুবিয়ে মারা হয়েছিল, বিজয়গড়ের “বিজয়ী” বাঙালি উদ্বাস্তুদের কপালেও নাচতো ওই একই পরিণতি।

ওই সমসাময়িক সময়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন ড: বিধানচন্দ্র রায়।‌ তিনি যে সহানুভূতির সাথে মুসলমানদের লাথি খাওয়া, মা বোনের ইজ্জত বাঁচাতে পালিয়ে আসা, বাঙালি উদ্বাস্তুদের বিজয়গড়ে কলোনি স্থাপন করতে সাহায্য করেছিলেন, সেখানে ওই বাঙালি উদ্বাস্তুদের “বিজয়” এর কিছু ছিল না। “বিজয়ী” হবার সামান্যতম মানসিকতা ও গুণাবলী যদি ওই বাঙালি উদ্বাস্তুদের থাকতো, তাহলে পূর্ব পাকিস্তান থেকে মুসলমানদের হাতে লাথি খেয়ে, কেউ কেউ মা-বোনকে মুসলমানদের হাতে তুলে দিয়ে, আবার কেউ কেউ মুসলমানদের থেকে মা-বোনের ইজ্জত বাঁচাতে এখানে পালিয়ে এসে “বিজয়গড় কলোনি” স্থাপন করতেন না। ওপারেই “বিজয়” দিবস পালন করতে পারতেন।

মুসলমানদের স্বরূপ না বোঝা বাঙালি এখনো তাদের স্বরূপ বুঝতে পারেনি। দেশ ভাগ হয়ে উদ্বাস্তু হওয়ার পরও! বুঝবার কোনও ইচ্ছাও তাদের নেই। অদ্ভুত এক গড্ডালিকা প্রবাহের জাত।

গতকাল নবমীর সন্ধ্যায় গিয়েছিলাম অ্যাডভোকেট লোকনাথ চ্যাটার্জির বাড়ির দুর্গাপুজোয়। লোকনাথ বলল, “আপনি আমাদের ব্যালকনিতে গিয়ে কিছুক্ষণ বসুন।” ব্যালকনিতে গিয়ে অদ্ভুত দৃশ্যের সাক্ষী হলাম। হাজার হাজার বাঙালি লাইন দিয়ে চলেছে ঠাকুর দেখতে। কম্পাসের কাঁটা মেপে। এক সাথে, এক পথে। ঠাকুর দেখতে হবে, মন্ডপ দেখতে হবে, কোনও খামতি দেওয়া যাবে না! এক গড্ডালিকা প্রবাহ যেন।

কিন্তু সেই বিশাল বিরাট বাঙালি গড্ডালিকা প্রবাহকে একটু দাঁড় করিয়ে যদি প্রশ্ন করা হয় – ‘ মূর্তিপূজা হারাম, মূর্তিপূজা অপবিত্র”, এই ধর্মীয় জিগির তুলে আগামী বছর যদি কলকাতা এবং পশ্চিম বঙ্গের সমস্ত দুর্গা পুজো বন্ধ করে দেওয়া হয়, তাহলে? যেরকম হাওড়া, মালদা, মুর্শিদাবাদ, দিনাজপুর, উত্তর চব্বিশ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা অঞ্চলে স্কুলে সরস্বতী পূজা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

আজ সকালে একটি সংগঠনের মাঠে গিয়েছিলাম। “শস্ত্র পূজা” হচ্ছে। বাড়ি থেকে দাঁ, বঁটি, গাছ কাটার জন্য ব্যবহৃত চপার বাজারের ব্যাগে বয়ে নিয়ে এসেছেন কয়েকজন। আমি শুধু হাসতে হাসতে প্রশ্ন করলাম – “একটা স্ক্রু ড্রাইভারের সাথে এই অস্ত্রগুলোর পার্থক্যটা কোথায়?” কোনও অস্ত্রই অস্ত্র নয়। আসল অস্ত্র হচ্ছে মানসিকতা। মনের, মানসিক গঠনের। কলকাতার থেকেও কম জনসংখ্যার ইসরাইল শুধু অস্ত্রের ঝনঝনানিতে সমস্ত মুসলমান আরব দেশেগুলোকে দমিয়ে রাখেনি, তাদের চালিক শক্তি হলো ওই জাতির মানসিক গঠন। OPERATION THUNDER BOLT যা NINETY MINUTES AT ENTEBEE বইয়ে পুঙ্খানুভাবে বিবৃত হয়েছে, বইটা পড়লে বুঝতে পারা যায়, একটা জাতির মেরুদন্ড কতটা সোজা হতে পারে, মানসিক দৃঢ়তা কতটা কঠিন হতে পারে।

আজ বিজয়া দশমী। বিজয়ার অর্থ কি? আর দশমীর?

একটু শরণাপন্ন হতে হলো বাঙালির পথপ্রদর্শক মাননীয় তপন ঘোষের কাছে। তাঁর লেখার কিছু অংশ এখানে, এই লেখার প্রয়োজনে বিবৃত করলাম।

“গ্রামের বাঙালি হিন্দু মনে করে বিজয়া মানে মা দুগ্নার বিসর্জন। শহরের বাঙালি মনে করে বিজয়া মানে সামাজিক প্রথা – পরস্পর শুভেচ্ছা বিনিময়। ছােটরা মনে করে বিজয়া মানে বড়দেরকে প্রণাম করে নারকেল নাড়ু বা মিষ্টি খাওয়া। সব মিলিয়ে বিজয়া মানে একটা উৎসব, আনন্দ, হৈ হৈ। আর এই সব হবে মা দুর্গাকে জলে ভাসানাের পর। আচ্ছা, দুর্গাকে তাে বাঙালি ঘরের মেয়ে মনে করে। বৎসরান্তে তাঁর বাপের বাড়িতে আসা। আমরা তাঁর বাপের বাড়ির লােকজন। তাই তাঁর আসা উপলক্ষে আমাদের এত আনন্দ। সেই মেয়ে চারদিনের ছুটির শেষে আবার যখন তাঁর পতিগৃহে ফিরে যাচ্ছে, আবার একবছর তাঁর দেখা পাবো না, চোখের জলে আমরা তাঁকে বিদায় দিচ্ছি, ঠিক তারপরেই এত আনন্দ উৎসব, এত মিষ্টি খাওয়া– হিসাবে মেলে কি? ব্যাপারটা উল্টো হয়ে যাচ্ছে না?”

“আর এর নাম বিজয়া – ই বা কেন? কোনাে ডিক্সনারিতে কি পাওয়া যাবে বিসর্জন বা বিদায় শব্দের সঙ্গে বিজয় শব্দটির কোনও সম্বন্ধ আছে? তাহলে মা দুর্গাকে যখন চোখের জলে বিদায় দিচ্ছি ঠিক তার পরেই বিজয় শব্দটাই–বা এল কি করে, আরআনন্দ উৎসবই বা কেন?

“আহা, বাঙালি যদি এর কারণটা জানত, তাহলে আজ বাংলার চেহারাটাই অন্য রকম হত। শুধু এ বাংলাটাই নয়, ও বাংলাটাও। বাংলার বাইরে অনেকে প্রশ্ন করে, দুর্গাপূজা বাঙালির সব থেকে বড় উৎসব। এই উৎসবে বাঙালি আনন্দে মাতােয়ারা হয়ে ভেসে যায়। তাহলে বাংলায় নাস্তিক কমুউনিষ্টদের এত প্রভাব কেন? দুর্গা – কালী ভক্ত এই বাংলায় অধার্মিক কম্যুনিষ্টরা কি করে ৩০ বছর ধরে ঘাঁটি গেড়ে বসে আছে? বিজয়ার প্রশ্ন, আর এই কম্যুনিষ্ট প্রশ্ন – দুটো প্রশ্নেরই উত্তর এই যে বাঙালি পূজো করে আর বিজয়া করে, দুটোই না বুঝে। তাই দুর্গাপূজাকে বছরের বৃহত্তম উৎসব হিসাবে নিয়েও সম্পূর্ণ পূজা বিরােধী কমুনিষ্ট পার্টির ঝান্ডা ধরতে ভােট দিতে বাঙালির কোনাে অসুবিধা হয় না।”

“এখন আসা যাক বিজয়ার প্রশ্নটাতে। বিদায়, বিসর্জন, গঙ্গার ধারে আঁখি ছলােছলাে, তার সঙ্গে মিষ্টি খাওয়া, শুভেচ্ছার কোলাকুলি, পােস্টকার্ড, গ্রিটিংস কার্ড, SMS- এর মিল কোথায়? এর উত্তরটা ভালােভাবে দেওয়া যাক। বহুদিক থেকেই এই উত্তরটা গুরুত্বপূর্ণ।

“এই উত্তরটা ভালােভাবে জানতে গেলে এর সঙ্গে জড়িত আর একটা প্রথার ব্যাপারে জানতে হবে। তা হল বিজয়া দশমীর দিন বিসর্জনের আগে সধবা মহিলাদের সিঁদুর খেলা। এই সিঁদুর খেলার সঙ্গে বিজয়ার প্রণাম, কোলাকুলি, মিষ্টি খাওয়া অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িত।”

“আসা যাক উত্তরে। মহাষ্টমীর সন্ধিক্ষণে মহিষরূপী মহিষাসুর বধ করলেন মা দুর্গা। সেখান থেকে দৈত্য রূপ নিয়ে বেরিয়ে এল ঐ অসুর। নবমী তিথিতে তাকে বধ করলেন মা দুর্গা। বিজয় লাভ সম্পূর্ণ হল। তাই দশমীতে পালন হল বিজয় উৎসব, নাম যার বিজয়া বা বিজয়া দশমী। এই ঘটনা ঘটেছিলাে সত্য যুগে। কোনও এক বসন্ত কালে। এল ত্রেতা যুগ। অধার্মিক অত্যাচারী পরনারী হরণকারী রাবণকে ধ্বংস করার জন্য রামচন্দ্র দেবী দুর্গার পূজার আয়ােজন করলেন। সে সময় শরৎ কাল ছিল। কিন্তু রামের হাতে সময় নেই। যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। তাই শরৎ কালে অকালেই দেবীর পূজা করলেন। যুদ্ধে রাবণ বধ হল। সুতরাং প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেল যে দেবী দুর্গার আরাধনা করলে যুদ্ধে জয় লাভ হয়। তাই বিজয়া দশমী শুধু বিজয় লাভের জন্য উৎসবই নয়, ওই দিনটা বিজয় লাভের জন্য, যুদ্ধ শুরু করার জন্য একটা শুভ দিন, পবিত্র দিন হিসাবেও গণ্য হতে লাগল। সুতরাং ক্ষত্রিয় রাজাদের কাছে ওই দিনটা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠলাে। বিজিগীষু রাজারা তাদের রাজ্যের সীমা বাড়ানাের জন্য ওই দিন যুদ্ধ যাত্রা শুরু করলেন । শুরু হয়ে গেল নতুন পরম্পরা। ওই দিনটা পালিত হতে লাগল ‘“সীমােল্লঙঘন দিবস”’ হিসাবে। নিজের সীমা অতিক্রম করে অভিযান করা। উদ্দেশ্য রাজ্য বাড়ানাে।”

“এখন রাজা যখন যুদ্ধে যাবেন, একা তাে যাবেন না। তাঁর সঙ্গে সৈন্য দল যাবে। এই সৈন্য তাে প্রজাদের মধ্য থেকেই আসে। তারাও যুদ্ধে যাবে। আর সবাই জানে যুদ্ধে গেলে বাঁচা-মরার নিশ্চয়তা নেই। যুদ্ধে সে আহত বা নিহতও হতে পারে। এক বিপদ সংকুল অনিশ্চিত যাত্রা। উদ্বেগ উৎকণ্ঠা হবে কিনা? তার নিজের এবং আত্মীয় পরিজনের, বন্ধুবান্ধবের। স্ত্রী-পুত্র কন্যার। তাই সে যুদ্ধে যাবার আগে সকলের কাছে বিদায় নিতে যায়। বড়দের প্রণাম করে আশীর্বাদ নিতে যায়।”

“বড়রা গুরুজনরা আশীর্বাদ করেন এবং মিষ্টি খাওয়ান। ছােটরাও তাকে প্রণাম করে ও আশীর্বাদ নেয়। আর সে তার বন্ধু বান্ধব সমবয়স্কদের আলিঙ্গন কোলাকুলি করে বিদায় গ্রহণ করে। তারাও তাকে বিদায় শুভেচ্ছা জানায়। আর ঐ যে সৈন্যটি, তার স্ত্রী তাে হবে সব থেকে বেশি উৎকণ্ঠিতা। কে জানে তাঁর স্বামী ফিরবে কিনা? যদি না ফেরে তাহলে সে হবে বিধবা। এরকম অনেক স্ত্রী। তাই তারা যায় মা দুর্গার কাছে, ওই দিনই। সিঁদুর ঢালে মা দুর্গার পায়ে। তারপর সেই সিঁদুর পরিয়ে দেয় পরস্পরের সিঁথিতে। আশা– মা দুর্গার চরণছোঁয়া সিদুর, এ তাে পবিত্র, এর তাে অনেক শক্তি। এই সিঁদুর আমার সিঁথিতে পরালে কারাে শক্তি নেই এই সিঁদুর মােছে। এ সিঁদুর হবে অক্ষয়। সুতরাং আমার স্বামী যুদ্ধে নিরাপদ থাকবে। সেই আশায় সিঁদুর পরানাে। তাই এই সিঁদুর খেলা। একটু পরেই স্বামী বেরােবে সৈন্যদলের সঙ্গে যুদ্ধে। সুতরাং এই সিঁদুর খেলা। এবং বিজয়ার প্রণাম কোলাকুলি মিষ্টি খাওয়া এ কোনােটাই আনন্দের উৎসব নয়। মা দুর্গাকে বিসর্জন দিয়ে আনন্দ করা যায় না।”

“এসব হচ্ছে যুদ্ধ যাত্রার ঠিক পূর্বের কার্যকলাপ, নিরাপত্তা কামনায় এবং বিজয় কামনায়। অর্থাৎ সিঁদুর খেলা ও বিজয়ার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত আমাদের পূর্বপুরুষদের যুদ্ধ যাত্রার ইতিহাস। আজ বাঙালি ওই কার্যকলাপগুলােকে অনুষ্ঠানরূপে ধরে রেখেছে। ভুলে গিয়েছে এর ইতিহাস ও তাৎপর্যকে এবং হয়ে গিয়েছে এক যুদ্ধ বিমুখ জাত। আর পুরুষানুক্রমে এই যুদ্ধ বিমুখতা বাঙালিকে পরিণত করেছে এক ভীরু কাপুরুষ পলায়নপর জাতে, যে জাত লড়তে জানে না, পালাতে জানে। তাই বাংলা ভাগ হয় , বাঙালি রিফিউজি হয়।”

বিপ্লবীরা চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার থেকে অনেক অস্ত্র সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু বিপ্লবী গণেশ ঘোষ বা বিপ্লবী অনন্ত সিং এবং মাস্টারদা সূর্য সেনের হাতে তৈরি তাঁদের অন্যান্য সহযোগী সমস্ত বিপ্লবীরা মুসলমানের ভয়ে চট্টগ্রাম থেকে পালিয়ে এসেছিলেন এই বঙ্গে, এই পশ্চিমবঙ্গে। কোনওরকম বাধা না দিয়ে, “বিজয়ী” হবার চেষ্টা না করে।‌ এই বিজয়গড়ে চট্টগ্রাম থাকে আসা বহু মানুষ আছেন, যাঁদের কাছে প্রশ্ন করেছিলাম – “বাঁধা না দিয়ে পালিয়ে এলেন কেন?” কোন‌ও সদুত্তর পাইনি।

আজ বিজয় দশমীর মূল অর্থ অনুধাবন করেই তৈরি হোক বাঙালির মানসিকতা। মানসিক প্রস্তুতি। তবেই বিজয়া দশমী সফল।
( মতামত লেখকের নিজস্ব, এর জন্য আমাদের ভারত দায়ি নয়।)

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here