একটানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন আলিপুরদুয়ার, উদ্ধারকাজে নামানো হল নৌকা, পাম্পসেটের মাধ্যমে বার করা হচ্ছে শহরে জমে থাকা জল 

আমাদের ভারত, আলিপুরদুয়ার, ১২ জুলাই: বিগত কয়েকদিন ধরে একনাগারে বৃষ্টিতে কালজানি নদী বাঁধের সুইচগেট বন্ধ থাকায় বৃষ্টিতে ভাসল আলিপুরদুয়ার পৌরসভার অধিকাংশ ওয়ার্ড। আলিপুরদুয়ার পৌরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে আটকে পড়া দুর্গতদের উদ্ধারে নামানো হয়েছে নৌকা। তবে পর্যাপ্ত নৌকা না থাকায় কালজানি নদীর চরে জলবন্দি বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়ায়। অন্যদিকে শহরের জল বার করার জন্য বাঁধের উপর পৌরসভার উদ্যোগে ১৫টি পামসেট বসানো হয়। জলবন্দি বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুরসভার বসানো পাম্পগুলি পুরনো আমলের, ফলে জমা জল বার হতে দীর্ঘক্ষণ সময় লাগছে। কালজানির চর এলাকার প্রায় আড়াই হাজার দুর্গত বাসিন্দাদের উদ্ধার করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অফ্লাদ সেন্টারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে। সবরকম পরিস্থিতির সাথে মোকাবিলা করবার জন্য জেলা প্রশাসন তৈরী রয়েছে।

সেচ দফতর থেকে জানা গেছে, গত ২৪ ঘন্টায় আলিপুরদুয়ারে রেকর্ড পরিমাণ ৩৪৫.৪০মিমি বৃষ্টিপাত হয়েছে। আর হাসিমারা এলাকায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ১৬১.৪০মিমি। একই সাথে ভূটান পাহাড়েও অনবরত বৃষ্টির ফলে জেলার সবকটি নদীর জল অনেকটাই বেড়ে গেছে। রবিবার কালজানি নদীতে আলিপুরদুয়ার এলাকায় হলুদ সংকেত জারি করা হয়েছে। এদিনই সমতল ও পাহাড়ে টানা বৃষ্টির জেরে শনিবার রাত থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত পুরসভার অধিকাংশ ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় কোথাও হাঁটু সমান আবার কোথাও বুক সমান জল দাঁড়িয়ে যায়। শহরের আনন্দনগর, পূর্ব  শান্তিনগর, সারদাপল্লি, সুভাষপল্লি, নিউ আলিপুরদুয়ার বিজি রোড, মনোজিৎ নাগ বাস টার্মিনাস, বেলতলা ও অরবিন্দ নগরে জল জমে যায়। এমনকি হাঁটুর সমান জল দাঁড়িয়ে যায় আলিপুরদুয়ার বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তীর বাড়ির সামনেও। কালজানি নদীর জল অত্যাধিক বেড়ে যাওয়ায়  মূল শহর থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে কালজানির ওপারে থাকা পুরসভার দ্বীপচর এলাকাটি। শহরের পাশে নদীর চরের জলবন্দি বাসিন্দাদের উদ্ধারে পুরসভার বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের কর্মীরা নৌকা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। নামানো হয় ৬ টি নৌকা। নদী চরের বাসিন্দাদের একটি বড় অংশের মানুষ কালজানি বাঁধের উপরেই ত্রিপল টানিয়ে আশ্রয় নেয়। নদীর জল বেড়ে যাওয়ায় শহরের পাশে থাকা সবকটি সুইচগেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।স্বাভাবিকভাবেই শহরের জমা জল বার হতে পারেনি।পুরসভার উদ্যোগে ১৫টি পাম্প লাগিয়ে জল বার করার চেষ্টা করা হলেও এদিন দুপুর পর্যন্ত জল নামেনি। তবে দুপুরের পরে বৃষ্টি কিছুটা কমে আসলে পরে জল আস্তে আস্তে নামতে শুরু করে।

পুরসভার মহকুমা শাসক শ্রীরাজেশ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, “পুরো এলাকার প্রায় আড়াই হাজার পরিবার জলবন্দি হয়েছে। দুর্গতদের শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে। রাতে রান্না করা খাবার দেওয়া হবে দুর্গতদের।ত্রাণ ও উদ্ধার কার্য নিয়ে কোথাও কোনও ক্ষোভ বিক্ষোভ নেই। 

এদিকে এদিনই জেলাশাসক সুরেন্দ্র কুমার মিনা সেচ দপ্তরের আধিকারিকদের নিয়ে কালচিনি ব্লকের সুভাষিনী চা-বাগানের তোর্ষা নদীর ফ্লাড প্রোটেকশন ওয়ার্কের কাজ দেখতে যান।সেখান থেকে সেন্ট্রাল ডুয়ার্স চা-বাগান এবং পরবর্তীতে পাশাখা এলাকায় বাসরা নদীর পারে বোল্ডার-জালি দিয়ে যে প্রটেকশনের কাজ চলছে তাও খতিয়ে দেখেন জেলাশাসক। 

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here