জিটিএ’র অধীনে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ, “পাঁচশো শিক্ষককে টাকার বিনিময়ে নিয়োগ করেছেন অনিত থাপা”

আমাদের ভারত, দার্জিলিং, ৮ আগস্ট: শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। জেল হেফাজতে রাজ্যের মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। আর এরই মাঝে জিটিএ’র (গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল এডমিনিস্ট্রেশন) অধীনে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

জিটিএ’র অধীনস্থ প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, জিটিএ’র প্রশাসনিক বোর্ডে থাকাকালীন অনৈতিকভাবে প্রায় পাঁচশো জনকে শিক্ষক নিয়োগ করেছেন বর্তমান জিটিএ’র মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক অনিত থাপা ও বিনয় তামাং। শুধু তাই নয়। বহু দলীয় কর্মী সমর্থক ও পরিবারের সদস্যদের টাকা নিয়ে নিয়োগ করা হয়েছে। সেই কারণে এবার সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হল গোর্খা আনএমপ্লয়েড প্রাইমারি ট্রেইনড টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন। সোমবার এই নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত নথি প্রকাশ্যে আনেন সংগঠনের সদস্যরা। যদিও ওই বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি অনিত থাপা।

এদিন সংগঠনের সভাপতি সুধন তামাং বলেন, “২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে জিটিএ এলাকা জুড়ে শিক্ষক নিয়োগ শুরু হয়েছিল। সেই সময় জিটিএ’র প্রশাসনিক বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন অনিত থাপা। তিনি টাকার বিনিময়ে দলীয় কর্মী, সমর্থক ও দলের সদস্যদের পরিবারের লোকজনদের চাকরি পাইয়ে দেন। মাথাপিছু ১০ লক্ষ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছিল। পাহাড় জুড়ে শিক্ষক নিয়োগে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। সেজন্য আমরা সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। আমরা চাই এই নিয়োগ দুর্নীতি নিয়েও তদন্ত করুক সিবিআই।”

জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে জিটিএ এলাকায় শিক্ষক নিয়োগ শুরু হয়। দুর্নীতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই মার্চ মাসে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়। পরবর্তীতে কলকাতা হাইকোর্ট সেই মামলা জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চে স্থানান্তরিত করেন। এরই মাঝে রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি প্রকাশ্যে আসতেই ফের সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয় মামলাকারীরা। অভিযোগ, জিটিএ’র অধীন প্রাইমারি স্কুলে ১২১ জন, আপার প্রাইমারি পদে ৫৯ জন ও উচ্চবিদ্যালয়ে ৩১৩ জন শিক্ষক নিয়োগে আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে। বর্তমান জিটিএ বোর্ডের সহকারী মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক সঞ্চবীর সুব্বাকেও চাকরি পাইয়ে দেন অনিত থাপা। এছাড়া ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চার সম্পাদক কেশবরাজ পোখরেলের পরিবারের ১৭ জন সদস্য ও ঘনিষ্ঠদের নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগের সময় আবেদনকারীদের কোনো লিখিত পরীক্ষা বা ইন্টারভিউ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here