চার হাজারের বেশি শ্রমিককে বঞ্চিত করার অভিযোগ শালবনিতে

আমাদের ভারত, মেদিনীপুর, ৯ মে: শালবনী ব্লকের ১০টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে বিজেপি পরিচালিত লালগেড়িয়া এবং ভীমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে বিগত ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর ২০১৮-১৯ সালের শেষ তিন মাস এবং ২০১৯-২০ সালে প্রায় ১০০০ জব কার্ড হোল্ডার পরিবারের চার হাজারেরও বেশি শ্রমিকদের ১০০ দিনের কাজ না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বিশেষ করে লালগেড়িয়া অঞ্চলের যে পাঁচটি গ্রাম সংসদে তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য রয়েছেন সেই কেউদি, অভয়া, মুসিনা, আসনাবনি, রঞ্জা সংসদের ১০-১২ টি গ্রামের প্রায় ৮০০ পরিবারকে বিগত দেড় বছরে একদিনও কাজ করতে দেওয়া হয়নি বলে শালবনী ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ। যে সমস্ত পরিবার তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থক বা কর্মী তাদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে বেছে বেছে কাজ দেওয়া হয়নি। ২০১৯ সালের বিভিন্ন সময় এই সমস্ত শ্রমিকেরা বার বার ব্লক প্রশাসন বিডিও থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসন ডিএম সভাধিপতি সহ সমস্ত প্রশাসনিক ক্ষেত্রে দরবার করেছেন। এমনকি বেশ কয়েকবার গ্রাম পঞ্চায়েতে ডেপুটেশন পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তা সত্ত্বেও তাদের কাজ দেওয়া হচ্ছে না।

গত আর্থিক বছর শেষ হওয়ার পূর্বে শালবনীর বিডিও জবকার্ড হোল্ডার বঞ্চিত এই শ্রমিকদের আশ্বাস দেন ২০২০-২১ অর্থবর্ষ শুরু হলেই তারা ১০০ দিনের কাজ পাবেন। লকডাউনের মধ্যেই সরকার ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প শুরু করবার নির্দেশ দিলে এই পাঁচটি গ্রাম সহ ভীমপুর অঞ্চলের আঁধারমারা ভীমপুর এবং লক্ষ্মণপুর সংসদের পঞ্চায়েত নির্বাচিত তৃণমূল কংগ্রেসের পঞ্চায়েত সদস্যরা এই দুইটি গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপি পরিচালিত প্রধানের কাছে ১০০ দিনের কাজ পাওয়ার জন্য আবেদন পত্র জমা দিতে গেলে প্রধান তা নিতে অস্বীকার করে এবং সমস্ত পঞ্চায়েত সদস্যদের ফিরিয়ে দেয়। এরপর পঞ্চায়েত সদস্যরা শালবনি ব্লকের বিডিও সঞ্জয় মালাকারের দ্বারস্থ হন ওনার কাছে সমস্ত চারের-ক ফর্ম জমা দিয়ে আসেন। কিন্তু এই ঘটনারও ১৫ দিনের বেশি অতিক্রান্ত হয়ে গেলে সমস্ত শ্রমিকদের কোনো রকম কাজ দেওয়া হয়নি। যদিও অন্যদের কাজ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ, লালগেড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের কেউন্দি সংসদের পঞ্চায়েত সদস্য লক্ষ্মী চালক অভিযোগ জানান যে বিগত বছরেও বারবার বিডিওর কাছে কাজ চাওয়ার আবেদন পত্র জমা দিয়েও শ্রমিকরা কাজ পায়নি এবং বর্তমান বছরেও একই অবস্থা। বিডিও বলছেন প্রধান কথা শুনছেন না।

একদিকে লকডাউনে যেখান মানুষের রুজিরুটি সম্পূর্ণ বন্ধ সেখানে জঙ্গলমহলে এই প্রান্তিক পরিবারগুলির বেঁচে থাকার সম্বল বলতে ১০০ দিনের কাজ, সেখানেও বিজেপির এই স্বজনপোষণ নীতি অসহায় গরিব পরিবারগুলিকে কষ্টের মধ্যে ঠেলে দিয়েছে, এই গ্রামগুলির শ্রমিকেরা জানান যদি আগামী ১০ দিনে তারা কাজ না পায় তবে তারা পঞ্চায়েত ও বিডিও অফিসের সামনে অবস্থানে বসবেন।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here