আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ! কো–অপারেটিভ ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল অর্জুন সিংকে

আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ২০ সেপ্টেম্বর: আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়া নৈহাটি কো অপারেটিভ ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিংকে। তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা এনে সরিয়ে দেওয়া হয়।

আজ দুপুরে ওই কো অপারেটিভ ব্যাংকের বোর্ড অব ডিরেক্টরদের পক্ষ থেকে চেয়ারম্যান তথা বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিংয়ের বিরুদ্ধে অনাস্থা মিটিং ডাকা হয়। যদিও এদিন ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না অর্জুন সিং। জানা গেছে, বর্তমানে তিনি রাজ্যের বাইরে আছেন। তবে ব্যাংকের ১৫ জন বোর্ড অফ ডিরেক্টরদের পক্ষ থেকে আগেই এদিনের অনাস্থার বিষয়ে অর্জুন সিংকে নোটিশ করা হয়েছিল। এদিনের অনাস্থা মিটিংয়ে অর্জুনবাবু ও তাঁর অনুগামী ৩ জন বোর্ড অফ ডিরেক্টরের সদস্য অনুপস্থিত ছিলেন। ভাটপাড়া নৈহাটি কো অপারেটিভ ব্যাংকে বর্তমানে ১৫ জনের বোর্ড অফ ডিরেক্টরের মধ্যে অনাস্থার ভোটাভুটিতে উপস্থিত বোর্ড অফ ডিরেক্টরদের ১২ জন অর্জুন সিংয়ের বিরুদ্ধে ভোট দিয়ে তাঁকে এই ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এই কো অপারেটিভ ব্যাংকের আর্থিক দুর্নীতি নিয়ে বেশ কয়েক মাস ধরে সরগরম রয়েছে ভাটপাড়া এলাকা। এদিকে সাংসদ অর্জুন সিংকে এই কো অপারেটিভ ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেও এখনই নতুন কাউকে চেয়ারম্যান পদে বসানো হয়নি।

আজ অনাস্থা বৈঠকে অর্জুন সিংকে সরিয়ে দেওয়ার পর ওই ব্যাংকের বর্তমান বোর্ড অফ ডিরেক্টরদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য তথা স্থানীয় তৃণমূল নেতা মকসুদ আলম বলেন, “অর্জুন সিং এই ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে থাকাকালীন সময়ে আর্থিক বেনিয়ম করে ছিলেন। তাই তাঁকে বোর্ড অফ ডিরেক্টরদের পক্ষ থেকে আগেই নোটিশ করা হয়েছিল যাতে তিনি উপস্থিত থাকতে পারেন। কিন্তু তিনি ও তার অনুগামী ৩ জন বোর্ড অফ ডিরেক্টরদের সদস্য এদিন উপস্থিত ছিলেন না। আমরা ১২ জন সদস্য অর্জুন সিংয়ের বিরুদ্ধে ভোট দিয়ে তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছি।”
সাংসদ অর্জুন সিং রাজ্যে না থাকায় এই ঘটনা সম্পর্কে তাঁর প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এই ব্যাংকের ১২ কোটি টাকা আর্থিক তছরুপের অভিযোগ রয়েছে সাংসদ অর্জুন ও তাঁর আত্মীয়র বিরুদ্ধে। ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের গোয়েন্দা বিভাগ সেই ঘটনার তদন্ত করছে। এর আগে এই ঘটনায় সাংসদ অর্জুন সিংয়ের বাড়িতে তল্লাশি অভিযানও চালিয়েছে পুলিশ।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here