উপাচার্যের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, পাল্টা চ্যালেঞ্জ কর্তৃপক্ষের

আমাদের ভারত, ২ ডিসেম্বর: ছাত্রভর্তি নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হল এক উপাচার্যের বিরুদ্ধে। কর্তৃপক্ষের পাল্টা দাবি, বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র উপাচার্য এবং প্রতিষ্ঠানের সম্মানহানির চেষ্টা করছে। এ ব্যাপারে তাঁর আইনজীবী পর্যাপ্ত প্রমাণ-সহ নথিপত্র দাখিল করবেন। বিষয়টি গড়াতে চলেছে আদালতে।

বিএড এবং এমএড পাঠ্যক্রমের জন্য রাজ্যের প্রায় ৬০০টি কলেজের স্বীকৃতি দেয় বাবা সাহেব অম্বেদকর এডুকেশন ইউনিভার্সিটি (পূর্বতন ওয়েষ্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি অফ টিচার্স ট্রেনিং, এডুকেশন, প্ল্যানিং অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন)। এক আইনজীবীর লিখিত অভিযোগ, ১) গত দুবছর ধরে প্রায় ২০ কোটি টাকা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে এই প্রতিষ্ঠানের উপাচার্যর বিরুদ্ধে। ২) প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর সহযোগিতায় অভিযুক্ত উপাচার্য বিভিন্ন পুরস্কার ও স্বীকৃতি পেয়েছেন।

এই অভিযোগ সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করতে চাননি সংশ্লিষ্ট উপাচার্য। তবে সূত্রের খবর, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমান উপাচার্যের পদের মেয়াদ ফুরিয়ে আসছে। যাতে সেটির পুননর্নবীকরণ না হয়, সেই কারণে যুক্তিহীন, মিথ্যে অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁকে কালিমালিপ্ত করতে বেছে নেওয়া হয়েছে এই বিশেষ সময়। কর্তৃপক্ষের দাবি, এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি আর্থিক লেনদেন যে স্বচ্ছ এবং তার প্রমাণ রয়েছে।

স্বচ্ছতার প্রমাণ হিসাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আধিকারিক বলেন, স্বীকৃত কলেজগুলো পুনর্নবীকরণের জন্য যে ঘোষিত পরিমাণের টাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে দেয়, তা পুরোটাই নেওয়া হয় অনলাইনে। তার আগে নির্দিষ্ট মাপকাঠি এবং বিধি অনুযায়ী আবশ্যিক শর্ত কলেজগুলো মানছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হয়। আগে বেসরকারি কলেজের মালিকরা অনেকাংশেই এই লেনদেনের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করতেন। এর জন্য একশ্রেনীর দালাল সক্রিয় ছিলেন। কিন্তু বর্তমান উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর দালালরাজ শেষ করে একসঙ্গে এই পুনর্নবীকরণের পোর্টাল খোলা-বন্ধের ব্যবস্থা করেছেন। পুরোটাই হচ্ছে ডিজিটালি। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এতে প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠীর আঁতে লেগেছে। তারা অপপ্রচারে নেমেছে।

ছাত্রভর্তিতে দালালরাজ বন্ধের জন্য কয়েক বছর আগে এই বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইটে জানিয়ে দেয়, হিসাব-বহির্ভূত অর্থ দিয়ে কেউ যেন বিএড বা এমএড-এ ভর্তি না হয়। ছাত্রভর্তির প্রক্রিয়া পুরোটাই হচ্ছে উচ্চশিক্ষা দফতরের ঘোষণামত অনলাইনে, নির্দিষ্ট সময়সীমার মাঝে। বিভিন্ন কলেজে শিক্ষক নিয়োগের আগে চূড়ান্ত বাছাই করে এই বিশ্ববিদ্যালয়। এর জন্য কর্তৃপক্ষ যে অর্থ নেয়, সেগুলিরও নির্দিষ্ট হার রয়েছে, নেওয়া হয় ডিমান্ড ড্রাফটের মাধ্যমে।

কয়েক মাস আগে পার্থ চট্টোপাধ্যায় গ্রেফতারের পর তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ এনেছিল দুটি পোর্টাল। কিন্তু পুলিশি ব্যবস্থা নিয়ে তৎক্ষণাৎ তা বন্ধ করা হয়। আইনি পদক্ষেপের পর ওই দুই পোর্টাল তাদের সম্প্রচারের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। এ সবেরই প্রমাণ রয়েছে। উপাচার্য সর্বভারতীয় স্তরে এমন কিছু প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি বা পুরস্কার পেয়েছেন, যেগুলোর সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কোনও সম্পর্ক নেই। একাধিক সর্বভারতীয় সংস্থার পরিচালনমন্ডলীতেও আছেন তিনি। তাই অভিযুক্ত প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে নৈকট্যের যে অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে আনা হচ্ছে, তা ভিত্তিহীন।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here