প্রাথমিকভাবে কমলেও ফের বাড়ছে বাংলাদেশি হিন্দু জনগোষ্ঠী, তথ্য সহ দাবি বাংলাদেশ সরকারের

রাজেন রায়, কলকাতা, ২০ অক্টোবর: বেশ কিছুদিন ধরে অশান্ত থাকার পর প্রশাসনিক কঠোরতায় ফের শান্তির পথে ফিরছে বাংলাদেশ। এই অশান্তির মধ্যে কখনও বাংলাদেশে হিন্দু জনগোষ্ঠীর হ্রাস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, আবার কখনও মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়েও। কিন্তু ১৯৭৪ সাল থেকে ক্রমান্বয়ে হিন্দু জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কমলেও ২০১১ সাল থেকে ফের হিন্দু জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বেড়েছে, এমনটাই উঠে আসছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস)-র পরিসংখ্যানে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের প্রথম আদমসুমারি হয় ১৯৭৪ সালে। তবে ২০১১ সালের আদমশুমারি প্রতিবেদনে বাংলাদেশের জনসংখ্যা নিয়ে ১৯১১ সাল থেকে তথ্য দেওয়া হয়েছে। সেই তথ্য অনুযায়ী, ১৯১১ সালে মোট জনসংখ্যার ৩১ শতাংশ ছিল হিন্দু। এরপর ১৯২১ সালে ৩০.৬ শতাংশ, ১৯৩১ সালে ১৯.৪ শতাংশ, ১৯৪১ সালে ২৮ শতাংশ, ১৯৫১ সালে ২২ শতাংশে নেমে আসে হিন্দু জনগোষ্ঠীর সংখ্যা। এরপর ১৯৬১ সালে ১৮ শতাংশে, ১৯৭৪ সালে ১৩.৫ শতাংশ ছিল হিন্দু। এরপর ১৯৮১ সালের ১২.১ শতাংশ, ১৯১১ সালে ১০.৫ শতাংশ, ২০০১ সালে ১০.৩ শতাংশ এই ২০১১ সালে সর্বশেষ আদমসুমারিতে ৮.৫ ভাগ হিন্দু জনগোষ্ঠীর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। বিভিন্ন নির্যাতন, হিন্দু ছেলে মেয়েরা দেরিতে প্রতিষ্ঠিত হওয়া, জন্মনিয়ন্ত্রণের কারণে হিন্দু জনগোষ্ঠী কমে যাচ্ছে, দাবি বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব দে’র।

যদিও ২০১৮ সালের বিশেষ প্রতিবেদনে হিন্দু ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠীর হার ১১.৬ শতাংশ। যার মধ্যে বৌদ্ধ খ্রিস্টান সহ অন্যদের হার একই থাকায় হিন্দুদের জনগোষ্ঠীর হার ১০.৫ শতাংশ। অর্থাৎ এই সময়ে বেড়েছে হিন্দুদের সংখ্যা।

১৯৭৪ সালে বাংলাদেশের প্রথম আদমসুমারির সময়ে বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যা ছিল ৭ কোটি ১৪ লাখ ৭৮ হাজার। তথ্য অনুযায়ী, তখন মোট মুসলমানের সংখ্যা ছিল ৬ কোটি ১০ লাখ ৩৯ হাজার। আর হিন্দু জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ছিল ১৬ লাখ ৭৩ হাজার। ২০১১ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল ১৪ কোটি ৪০ লক্ষ ৪৪ হাজার। তার মধ্যে হিন্দু জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২৩ লক্ষ। সংখ্যার বিচারে হিন্দুদের সংখ্যা বেড়েছে ২৬ লক্ষ। ২০১৮ সালে বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যা ছিল ১৬ কোটি ৪৬ লক্ষ। তার মধ্যে হিন্দু জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ফের বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৭৪ লক্ষ। অর্থাৎ এই সময়কালের মধ্যে হিন্দু জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বেড়েছে ৫১ লক্ষ। হিন্দু জনগোষ্ঠীর কমা-বাড়ার পিছনে রয়েছে একাধিক রাজনৈতিক দল, দাবি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবনাল সাবেক প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজের।

অন্যদিকে, ১৯১১ সাল থেকে ক্রমান্বয়ে বেড়েছে মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যাও। ১৯১১ সালে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার মধ্যে ৬৭.২ শতাংশ ছিল হিন্দু। ১৯২১ সালে ৬৮.১ শতাংশ, ১৯৩১ সালে ৬৮.১ শতাংশ, ১৯৪১ সালে ৭০.৩ শতাংশ, ১৯৫১ সালে ৭৬.৯ শতাংশ, ১৯৬১ সালে ৮০.৪ শতাংশ এবং ১৯৭৪ সালে ৮৫.৪ শতাংশ এবং ২০১৮ সালে মুসলিম জনসংখ্যার হার দাঁড়ায় ৮৮.৪ শতাংশ। তবে এই সময়কালে বৌদ্ধ ০.৬ ও খ্রিস্টান ০.৩ ভাগ ছিল। অন্যান্য ধর্মাবলম্বী ০.২ থেকে ০.৩ শতাংশের মধ্যে। এই হিসেবে দেখা যায় বাংলাদেশে বৌদ্ধ, খ্রিস্টান এবং অন্য ধর্মাবলম্বীর সংখ্যা কমেনি, একই আছে। সরাসরি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসেব থেকেই এ তথ্য জানা গিয়েছে।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here