আমফানে লন্ডভন্ড বাংলা, ক্ষতির পরিমাণ বুঝতে লাগবে তিন দিন বললেন মুখ্যমন্ত্রী

আমাদের ভারত, কলকাতা, ২১ মে: ঘূর্ণিঝড়ে আমফানে লন্ডভন্ড বাংলা। দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলাতেই কম বেশি ক্ষতি হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ে সবথেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে সুন্দরবনে। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে রাজ্যের রাজধানীও। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রাজ্যের ক্ষতির পরিমাণ বুঝতে দুই থেকে তিন দিন সময় লেগে যাবে।

ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় জেলায় ভেঙ্গে পড়েছে অজস্র মাটির বাড়ি। এখানে সেখানে ভেঙ্গে পড়েছে বড়ো বড়ো গাছ। বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে যাওয়ায় এলাকাগুলো বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। প্রবল বৃষ্টিপাতে বহু এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। কার্যত বুধবার রাতে দক্ষিণবঙ্গের লক্ষ লক্ষ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে রাত কাটিয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, দুই ২৪ পরগনার অবস্থা খুব খারাপ। ক্ষতি হয়েছে দুই মেদিনীপুর জেলাতেও। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অতিবৃষ্টির ফলে সুন্দরবন সহ উত্তর দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। হাওড়ায় শিবপুরে টালির চাল পড়ে তেরো বছরের এক কিশোরী প্রাণ হারিয়েছে। মৃতের নাম লক্ষ্মী কুমারি সাউ। উত্তর চব্বিশ পরগনার মাটিয়া থানা এলাকায় গাছ চাপা পড়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তার নাম মোহান্ত দাস(২০)। উত্তর চব্বিশ পরগনায় মিনাখায় মৃত্যু হয়েছে নূরজাহান বেওয়া (৫৬) নামে এক মহিলার। পূর্ব মেদিনীপুরের ভূপতিনগরে মাটির বাড়ি পড়ে এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে। তার নাম ছবি রানী শিট (৫৮)। এছাড়া বহু জায়গায় অনেকে আহত হয়েছেন। এরমধ্যে পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকে এক মহিলা আহত হয়েছেন। পূর্ব বর্ধমান জেলার মন্তেশ্বর এলাকাতে গাছ চাপা পড়ে তিনজন আহত হয়েছেন।
ঘূর্ণিঝড় আমফানে সবথেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলায়। ওই জেলার সাগরদ্বীপ এলাকায় অজস্র কাঁচা বাড়ি ভেঙ্গে পড়েছে। মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে পাথরপ্রতিমা, কুলতলী, বকখালি, নামখানা, ফ্রেজারগঞ্জ সহ অন্যান্য এলাকা। উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় সবথেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে বসিরহাটে। সেখানে আশি হাজার মানুষকে ত্রাণ শিবিরে রাখা হয়েছে। প্রচণ্ড ঝড়ে লন্ডভন্ড কলকাতা, বিধান নগর, নিউ টাউন রাজারহাটও। সল্টলেক এলাকাতেও প্রচুর গাছ পড়েছে।

আবহাওয়া বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ঘূর্ণিঝড় আমফান সুন্দরবন সহ উত্তর দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার উপকূলে আছড়ে পড়ায় সেখানে ১৮৫ কিলোমিটার বেগে ঝড় হয়েছে। কলকাতায় ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৩৩ কিলোমিটার। ঝড়টি
তান্ডব চালিয়ে নদিয়া মুর্শিদাবাদ হয়ে বাংলাদেশের যাওয়ার কথা। এদিকে জোয়ারের কারণে গঙ্গার জল ঢুকে পড়ায় হাওড়া হুগলী জেলায় বিস্তৃত এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতি হয়েছে পূর্ব পশ্চিম মেদিনীপুর, বর্ধমান জেলাতেও।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, দুই ২৪ পরগনার অবস্থা খুব খারাপ। দুই মেদিনীপুরেও অনেক ক্ষতি হয়েছে। রাজ্যের ক্ষতির পরিমাণ জানতে দুই-তিনদিন দিন লেগে যাবে।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here