বাংলার দিকেই ক্রমশ এগোচ্ছে আমফান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাশে আছি, মমতাকে ফোন করে শাহের আশ্বাস

আমাদের ভারত, ১৯ মে : করোনা আতঙ্কে জেরবার মানুষ তার মধ্যে আমফানের শাসানি। ক্রমেই নিজের শক্তি বৃদ্ধি করে স্থলভাগের দিকে ধেয়ে আসছে সাইক্লোন। শেষ উপগ্রহ চিত্রের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী নিয়ে আমফানের গতিপথের অভিমুখ এখন উত্তর-পূর্ব দিকে অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গের দিকে এগিয়ে আসছে। সে ক্ষেত্রে দীঘা ও সাগরদ্বীপে কাছে আমফানের আছে পড়ার সম্ভাবনা। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। আয়লার থেকেও ভয়ঙ্কর হতে পারে আমফান। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজ্য কি কি ব্যবস্থা গ্রহণ করছে সেই বিষয়ে জানতে চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বলেছেন সবরকম ভাবে রাজ্যের পাশে আছেন।

স্থলভাগের ঘূর্ণিঝড় আমফান আছড়ে পড়ার সময় গতিবেগ হতে পারে ১৮৫ থেকে ১৯৫ কিলোমিটার পর্যন্ত। আইলার থেকেও ভয়ংকর তাণ্ডবলীলা চালাতে পারেন আমফান।এলাকা তছনছ করে দিতে পারে ঘূর্ণিঝড়। কলকাতা হাওড়া হুগলি পশ্চিম মেদিনীপুরের উপর দিয়ে বয়ে যেতে পারে এই প্রবল ঘূর্ণিঝড়। সেই সময় ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার বেগে ঝড় হতে পারে।

সবমিলিয়ে আমফানের রক্তচক্ষু এখন বাংলার ওপরে। সবার মুখে এখন একটাই কথা কি হবে এখানে? এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করে খোঁজ নিলেন অমিত শাহ। মঙ্গলবার সকালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন করেন। ঘূর্ণিঝড় আমফান নিয়ে কথা হয়েছে দুজনের মধ্যে। কি পরিস্থিতি রয়েছে বাংলায়। আমফান মোকাবেলায় কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সে সম্পর্কে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে জানতে চান।

আমফান মোকবিলায় ইতিমধ্যেই ২৫ টি এনডিআরএফ টিমকে বিভিন্ন জায়গায় মোতায়েন করা হয়েছে। রিজার্ভে রয়েছে আরো ১২টি টিম। দেশের বিভিন্ন জায়গায় আরও ২৪ টি টিমকে আপদকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন কেন্দ্র সমস্ত রকম ভাবেপাশে আছে। প্রতিটি রাজ্যের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ চালানো হচ্ছে।

ইতিমধ্যে দীঘা, হলদিয়া, সুন্দরবনের উপকূলবর্তী এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। তারমধ্যে করোনা সতর্কতা এবং সোশ্যাল ডিস্ট্যান্স বজায় রাখার বিষয়টিও মাথায় রাখা হচ্ছে। দশ হাজারেরও বেশি মানুষকে সরানো হয়েছে। দীঘার সৈকত এর টহল দিচ্ছে এনডিআরএফ টিম। মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে মানুষকে।মৎস্যজীবীদের সমুদ্র থেকে ফিরে আসার জন্য বলা হয়েছে। হলদিয়া বন্দরে কোস্টগার্ড নজরদারি চালাচ্ছে। তাড়াতাড়ি পণ্য খালাস করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে জাহাজগুলিকে।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here