অর্থলগ্নি সংস্থায় প্রতারিতদের পাওনা ফেরাতে দুই সরকারকেই তোপ ক্ষতিগ্রস্তদের

অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, কলকাতা, ২৩ জুলাই: বেআইনি অর্থলগ্নি নানা সংস্থায় প্রতারিতদের পাওনা দ্রুত ফেরাতে কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় সরকারই যথেষ্ঠ তৎপর নয় বলে অভিযোগ করল ‘অল বেঙ্গল চিট ফান্ড সাফারার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’। অভিযোগ, প্রায় সাত বছর ধরে তদন্তের নামে প্রহসন চলছে।

শুক্রবার সংগঠনের রাজ্য সভাপতি রূপম চৌধুরী বলেন, “সিবিআই এর পূর্বাঞ্চলীয় সদর দফতরের ২ জন আধিকারিককে বদলি করে নুতন একজন আধিকারিককে এই দফতরে দায়িত্ব দিয়ে নিয়ে আসা হচ্ছে। বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থাগুলোর তদন্ত দ্রুত সমাধান করার জন্য। আমাদের সংগঠন মনে করে, রাজ্য সহ দেশের ২৩/২৫ কোটি মানুষের কাছ থেকে বেআইনি অর্থলগ্নি নানা সংস্থার আনুমানিক ৩০/৩৫ লক্ষ কোটি টাকা লুঠ করেছে।

গত ২০১৪ সাল থেকে তদন্তের নামে প্রহসন চলছে।ইতিমধ্যে এই রাজ্য সহ সারা দেশে আনুমানিক ২ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ আত্মহত্যা করেছেন। এই রাজ্য সহ দেশের কোটি কোটি মানুষ দুর্বিসহ জীবন যাপন করছেন। আমাদের সংগঠন মনে করে স্বাধীনতার পরে এতো বড় আর্থিক দুর্নীতি হয়নি। এই ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত হতাশাজনক।

এরা নিরপরাধ এজেন্টদের নিরাপত্তা ও টাকা ফেরতের ৭ বছর ধরে প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা রাখেনি। ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী দেশের মানুষকে বলেছিলেন ওনারা পুনরায় সরকারে আসীন হলে বেআইনি অর্থলগ্নি নানা সংস্থায় ক্ষতিগ্রস্তদের টাকা ফেরত এর ব্যবস্থা করবেন। ২০১৯ এর ২৬ জুন বিধানসভায় একই প্রতিশ্রুতি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দিয়েছিলেন। কেউ কথা রাখেননি।

বর্তমানে সিবিআই এর পূর্বাঞ্চলীয় কর্তা পরিবর্তন একটা চোখে ধুলো দেওয়া ও রাজনৈতিক খেলা। উভয় সরকার সুপ্রিম কোর্ট ও হাই কোর্টের নির্দেশ কার্যকর করেননি। আমরা উভয় সরকারের কাছে আবেদন করছি ওনারা ওনাদের প্রতিশ্রুতি পালন করুন। আমাদের সংগঠন করোনা পরিস্থিতির মধ্যে বিভিন্ন থানা, মহকুমা, জেলা স্তরে স্মারকলিপি প্রদান, বিক্ষোভ, অবস্থান করে যাচ্ছে। দাবি আদায় না হলে কলকাতা ও দিল্লিতে লাগাতার আন্দোলন গড়ে তুলতে আমরা বাধ্য হব।”

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here