বিশ্ব সম্প্রীতির নজির মধ্যমগ্রামের মঞ্চে

আমাদের ভারত, ২৪ নভেম্বর: এইচএন এক্সপ্রেস-এর (হাইলাইট নিউজ এক্সপ্রেস) উদ্যোগে প্রতি বছরের মতো এই বছরেও আয়োজন করা হল বিশ্ব সম্প্রীতি আলোক সন্মান ২০২২। তারই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান আয়োজন হয় মধ্যমগ্রাম নজরুল শতবার্ষিকী ভবনে। মূল উদ্দেশ্য মধ্যমগ্রাম ও বারাসত অঞ্চলের কালী পূজা সম্মান ও এলাকার মধ্যে সম্প্রীতি ও ভাতৃত্ববোধ জাগিয়ে তোলা। বুধবারের পুরস্কারমঞ্চ হয়ে ওঠে সুস্থ সংস্কৃতির অঙ্গন। মনোজ্ঞ গান, নাচ ও শ্রুতিনাটকের মাধ্যমে দর্শকের মন নির্মল আনন্দে ভরে ওঠে।

শুধু মাত্র কথার কথা নয়, সৌজন্য ও সৌভাতৃত্বের অনন্য নজির হয়ে রইল পুরস্কার বিতরণীমঞ্চ। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি-সহ অনেককে ‘গৌরবরত্ন ২০২২’ দেওয়া হয়। আব্দালপুর বিলিভার ইস্টার্ন চার্চের মহা যাজক শম্ভু দাস, মধ্যমগ্রাম পৌরসভার পৌরপ্রধান নিমাই ঘোষ, সিআইসি তথা চ্যানেলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক অরবিন্দ মিত্র, মধ্যমগ্রাম পৌরসভার অন্তর্গত ১৯ নং ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি তথা বিরোধী দলনেতা অলোক সাহা, ১১ নং ওয়ার্ডের পৌরমাতা অন্তরা মজুমদার, শিক্ষিকা ঝর্না বর্মন, অধ্যাপক অশোক বর্মন। এছাড়াও বিচারকমন্ডলীর দিব্যেন্দু ঘোষ (সিনিয়র জার্নালিস্ট, জি ২৪ ঘন্টা), মিডিয়া পার্টনার বিশ্ব দর্পণ এর সাংবাদিক হিরক মুখোপাধ্যায়, বিএনই নিউজের সাংবাদিক অর্পিতা ঘোষ, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ সুনন্দন শিকদার, কার্ডিওলজিস্ট, ডাঃ অভ্রদীপ দাস, চেস্ট স্পেশালিষ্টসহ বহু বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গকে।

এইচএন এক্সপ্রেস-এর কর্ণধার ইন্দ্রাণী সেনগুপ্তের কথায়, ‘বিশ্ব সম্প্রীতি আলোক সম্মান’ হলো একটি অন্য ধরনের ও অন্য স্বাদের অনুষ্ঠান। যার মূল উদ্দেশ্য, মানুষের মাঝে মানবতার প্রকাশ ঘটানো। আমরা জানি যে, দীপাবলি মূলত আলোর উৎসব। দীপাবলি বা কালী পুজোর মধ্য দিয়ে অন্ধকারের অবসান ঘটিয়ে মানব জীবনকে আলোকিত করে তোলার উৎসব। এই ক-দিন চারিদিকে আলোয় ঝলমল করে। কিন্তু বর্তমানে চারিদিকে মানুষের সাথে মানুষের হিংসা, বিদ্বেষ, ধর্মীয় হানাহানি চলছে। ফলে শুধু এই উৎসবের ক’দিন ঘরে ঘরে প্রদীপ বা টুনি লাইট জ্বালিয়ে আলোকিত করে মনের কালীমা মোচন করা যায় না। মনের কালীমা মোচন করতে গেলে দরকার মনুষ্যত্বের আলো। তাই আমরা এই উৎসব উপলক্ষে পুজো কমিটিগুলির মাধ্যমে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আপামর সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাই মানবতার বার্তা, সম্প্রীতির বার্তা, ভাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যের বার্তা। আর তাই আমরা এই পরিক্রমার নামকরণ করেছি ‘বিশ্ব সম্প্রীতি আলোক সম্মান’ অর্থাৎ রাজ্য, দেশ তথা বিশ্বের মানুষের মনে সম্প্রীতির আলো ছড়িয়ে দেওয়ার একটা সামান্য প্রচেষ্টা। আমাদের এই বার্তা যদি একটি মানুষের মনেও সম্প্রীতি-সৌহার্দ্যের আলো জ্বালাতে সক্ষম হয় তবেই আমাদের এই প্রচেষ্টা তার স্বার্থকতা খুঁজে পাবে। আর এর জন্য আমরা সমস্ত প্রতিবন্ধকতাকে উপেক্ষা করে প্রত্যেক বছর এই কর্মকাণ্ডে ব্রতী হবো। আর একটি মানুষের মনে অন্তত সম্প্রীতির আলো জ্বেলে দেবো আমরা।”

শুধু বড় বাজেটের পুজো হিসাবে নয় বা অর্থের বিনিময়ে অর্জিত সন্মান নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে চুলচেরা বিশ্লেষণই প্রধান মাপকাঠি ছিল বিশ্ব সম্প্রীতি আলোক সন্মান ২০২২-এর প্রধান লক্ষ্য। প্রায় দশ থেকে বারোটি বিভাগে ছিল পুরস্কার। সেরার সেরা, শ্রেষ্ঠ প্রতিমা, শ্রেষ্ঠ মণ্ডপসজ্জা, শ্রেষ্ঠ আলোকসজ্জা, শ্রেষ্ঠ ভাবনা, সার্বিক প্রথম, সার্বিক দ্বিতীয়’র পাশাপাশি ছিল শ্রেষ্ঠ পরিবেশবান্ধব, শ্রেষ্ঠ মানবিক, শ্রেষ্ঠ সমাজ-সংগঠন, শ্রেষ্ঠ শিল্পী, শ্রেষ্ঠ ব্যবস্থাপনার মত ভিন্ন ধরনের পুরস্কারও।

পুরস্কারপ্রাপ্তরা হল— ১l সেরার সেরা মধ্যমগ্রাম- পূর্বাশা যুব পরিষদ, মধ্যমগ্রাম, ২l সার্বিক প্রথম- শতদল, বারাসাত, ৩l সার্বিক দ্বিতীয়- নবপল্লী এ্যাসোসিয়েশন, বারাসাত, ৪l সেরা প্রতিমা- রবীন্দ্রপল্লী এ্যথলেটিক ক্লাব, মধ্যমগ্রাম, ৫l সেরা মণ্ডপসজ্জা- উদয়রাজপুর মেঘদূর শক্তি সংঘ, মধ্যমগ্রাম, ৬l সেরা আলোকসজ্জা- চন্ডীগড় ইউনাইটেড এ্যথলেটিক ক্লাব, মধ্যমগ্রাম, ৭l সেরা ভাবনা- নবীন সংঘ, মধ্যমগ্রাম, ৮l সেরা মানবিক- বসুনগর প্রতাপ সংঘ, মধ্যমগ্রাম, ৯l সেরা সমাজ-সংগঠন- নিবেদিতা সরণি শ্যামাপূজা কমিটি, মধ্যমগ্রাম, ১০l সেরা সম্প্রীতি- ন’পাড়া ক্ষুদিরামপল্লী, মধ্যমগ্রাম, ১১l সেরা ব্যবস্থাপনা- বিধানপল্লী সার্বজনীন শ্যামাপূজা কমিটি, মধ্যমগ্রাম, ১২l সেরা নারী শক্তি- আমরা সবাই মহিলা সমিতি, মধ্যমগ্রাম ১৩l সেরা পরিবেশ বান্ধব- তরুছায়া, বারাসাত।

যেখানে প্রত্যেকদিন প্রচার মাধ্যমের শিরোনামে থাকে শাসক ও বিরোধীদের রাজনৈতিক কাদা ছোঁড়ার চেষ্টা, সেখানে মধ্যমগ্রাম পৌরসভার পুরপ্রধান ও সেই পুরসভার বিরোধী দল নেতা এক মঞ্চে শুধু বসলেন না, চায়ের চুমুকে চললো দেদার গল্প। সব কিছুর পরেও এখানে অনুষ্ঠানের সার্থকতা।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here