রেল পরিষেবা ও যাত্রী স্বাচ্ছন্দ নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে পুরুলিয়ায়

সাথী দাস, পুরুলিয়া, ২৩ মে: রেল পরিষেবা ও যাত্রী স্বাচ্ছন্দ নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে পুরুলিয়ায়। যাত্রীদের সমস্যা আর অসুবিধার কথা জেনেও রেল কর্তৃপক্ষের গা সওয়া ভাব নিয়েই আশাহত হচ্ছেন।

স্বচ্ছ ভারত মিশন, সাফাই অভিযান শুধু বিশেষ সপ্তাহে বা বিশেষ দিনে আটকে থেকে যায়। বিশেষ করে ছোট ছোট স্টেশনে যাত্রীদের জন্য শৌচালয় নির্জলা থাকায় ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। পানীয় জল পান যোগ্য কি না সন্দিহান যাত্রীরা। নোংরা আবর্জনাময় নল বাহিত জল পয়েন্ট গুলিতে। রোদ বৃষ্টিতে প্ল্যাটফর্মগুলিতে পর্যাপ্ত ছাউনি নেই। ফুট ওভার ব্রিজগুলিতেও ছাউনি নেই। দক্ষিণ পূর্ব রেলের আদ্রা ডিভিশনের আদ্রা চান্ডিল শাখায় ছোট স্টেশন গুলিতে এমনই পরিস্থিতি। এমন কি জেলা সদরের পুরুলিয়া স্টেশনের ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মেও একই অবস্থা। নিয়ম করে পরিদর্শন করেন ভারপ্রাপ্ত দক্ষিণ পূর্ব রেলের ম্যানেজার, আদ্রার ডিআরএম সহ উচ্চ পদস্থ আধিকারিকরা।

লোকাল ট্রেনের অবস্থা যেন নরক দশা। টানা ২০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্ব যাত্রা পথ অথচ, শৌচালয় নেই কামরাগুলিতে। যেন মানুষ নয়, বন্য প্রাণী যাতায়াত করেন ট্রেনগুলোতে। ক্ষোভ প্রকাশ করে যাত্রীরা এমনটাই বলছেন। মহিলা ও পুরুষদের বিশেষ করে অসুস্থদের লোকাল ট্রেনে দূর যাত্রা পথে যাতায়াত করা এখন চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১০ কামরার রেকে তিনটিতে শৌচালয় থাকে, তবে সেটা ব্যবহারের অযোগ্য। নির্জলা ওই শৌচালয়গুলিতে দরজা খুলেই অন্নপ্রাশনের ভাত বেরিয়ে আসবে। বললেন, বর্ধমান থেকে পুরুলিয়া আসা একাধিক যাত্রী।

এক মহিলা যাত্রী রেলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, “কামরা গুলোতে ঝুল, মাকড়সার জালে ভরে রয়েছে। সিটগুলো নোংরা, মেঝে পরিষ্কার নিয়মিত হয় না। এইভাবেই গলা হাঁকিয়ে ট্রেন চলছে।”

ট্রেনের যাত্রী পরিষেবা নিয়ে গা নেই। আজ এমনই ঘটনা ঘটেছে আদ্রা ডিভিশনের আদ্রা পুরুলিয়া শাখায়। ছররার দিক থেকে পুরুলিয়া ঢোকার মুখে দুপুরে একটি মালগাড়ি যাওয়ার সময় ওভার হেড তার ছিঁড়ে যায়। তার পরই মেরামতি করতে কাজ দ্রুত শুরু হয়ে যায়। প্রায় দু’ঘন্টা লেগে যায়। ততক্ষণে ওই শাখায় ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। পুরুলিয়া স্টেশন ও বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রীবাহী, মালগাড়ি দাঁড়িয়ে থাকে। যাওয়ার সংকেত না পেয়ে কুস্তাউর স্টেশনে দাঁড়িয়ে পড়ে বর্ধমান থেকে পুরুলিয়া মুখী ট্রেনটি। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকায় যাত্রীরা বিচলিত হয়ে পড়েন।

এদিকে স্টেশন কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের উদ্দেশ্যে কোনও বিলম্বের কারণ সংক্রান্ত ঘোষণা না করায় দিশেহারা হয়ে পড়েন অনেক যাত্রী। উত্তেজিত হয়ে কিছু যাত্রী স্টেশন মাস্টারের কাছে গেলে আসল কারণটি জানতে পারেন। ক্ষুব্ধ যাত্রীরা রেলের ভূমিকা নেই প্রশ্ন তোলেন। ঘটনা, দুর্ঘটনা হতেই পারে। দু’ঘন্টা হঠাৎ একটি ছোট স্টেশনে ট্রেন ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকবে। আর রেল কর্তৃপক্ষ নিশ্চুপ থাকবে। এটা মেনে নিতে পারেননি হয়রানির শিকার যাত্রীরা। তাঁদের দাবি, রেলের উচিত ছিল মাইকে যাত্রীদের বিলম্বের কারণ ও সময় জানানো। যদিও প্রায় দু’ঘন্টা পর ওভার হেড তার জুড়ে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here