পালঘর-এ সন্ন্যাসীদের হত্যাকাণ্ডে সনিয়া গান্ধীর কাছে জবাবদিহি চেয়ে আক্রান্ত অর্নব গোস্বামী

চিন্ময় ভট্টাচার্য
আমাদের ভারত, ২৩ এপ্রিল: মহারাষ্ট্রের পালঘরে সন্ন্যাসী হত্যাকাণ্ডে কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী নীরব। একবারের জন্যও দুঃখপ্রকাশ করেননি। অথচ মহারাষ্ট্র সরকারে কংগ্রেস অন্যতম শরিক দল। কংগ্রেস সভানেত্রীর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করে টিভির পর্দায় জবাবদিহি চেয়েছিলেন এক সর্বভারতীয় টিভি চ্যানেলের অন্যতম কর্তা ও সাংবাদিক অর্ণব গোস্বামী। তাঁর অভিযোগ সেই কারণে, টিভি চ্যানেলের ওই অনুষ্ঠান শেষে স্ত্রীকে নিয়ে তিনি স্টুডিও থেকে যখন বাড়ি ফিরছিলেন, সেই সময় দুই ব্যক্তি তাঁর ওপর হামলা চালায়। অর্ণব গোস্বামীর অভিযোগ, এই দুই ব্যক্তি আসলে কংগ্রেস সমর্থক। হাইকম্যান্ডের নির্দেশেই তাঁর ওপর ওই দু’জন হামলা চালিয়েছে। ঘটনায় মুম্বইয়ের এনএম যোশী থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে অর্ণব গোস্বামী জানিয়েছেন।

বুধবার রাতে তাঁর সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছিল, এক ভিডিও প্রকাশ করে তা জানিয়েছেন খোদ অর্ণব গোস্বামী। ওই ভিডিওয় তিনি জানিয়েছেন, টয়োটা গাড়িতে চেপে রাত ১২টা ১৫ নাগাদ মুম্বইয়ের বম্বে ডাইং কমপ্লেক্স-এর স্টুডিও থেকে ফিরছিলেন। সেই গাড়িতে পাশের আসনেই ছিলেন তাঁর স্ত্রী। গণপতরাও কদম মার্গে তাঁর গাড়ি পৌঁছনোর পর দু’পাশ থেকে দুটি বাইক গাড়ির কাছে চলে আসে। ওই সাংবাদিক নিজেই গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, বাইক দুটিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতেই দু’চাকা এগিয়ে দুটি বাইকই তাঁর গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে পড়ে। এরপর তিনি কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাইক আরোহীরা নেমে এসে তাঁর গাড়ির জানালার কাচে বারবার আঘাত করতে থাকে। জানালা ভাঙ্গতে না-পেরে এক বোতল থেকে তরল কিছু তাঁর গাড়ির ওপর ঢালা শুরু করে।

অর্ণব গোস্বামী জানিয়েছেন, যে স্থানে এই ঘটনাটি ঘটেছে, তার কাছেই তাঁর আবাসন। বিপদ বুঝে গাড়ি চালিয়ে তিনি দ্রুত সেই আবানে ঢুকে পড়েন। অর্ণব গোস্বামীর দাবি, বাইক আরোহীরা তাঁর আবাসনে ঢোকার চেষ্টা চালালে, রক্ষীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়ে যায়। এই ঘটনার পর রক্ষীরা তাঁর কাছে এলে তিনি জানতে চান, ঠিক কী হয়েছিল। অর্ণব গোস্বামী জানিয়েছেন, রক্ষীদের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, ওই যুবকরা নিজেদের যুব কংগ্রেসের সমর্থক বলে দাবি করেছে। জানিয়েছে, দলের উচ্চ নেতৃত্বের নির্দেশে তারা এই হামলা চালিয়েছে।

টিভিতে ঠিক কী বলেছিলেন অর্ণব গোস্বামী? তিনি পালঘাটে দুই সন্ন্যাসীর হত্যার ঘটনায় মহারাষ্ট্র সরকারের দেওয়া জবাবকেই প্রশ্নচিহ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছেন। মহারাষ্ট্র সরকারের দাবি, স্থানীয় গ্রামবাসীরা ওই দুই সন্ন্যাসীকে শিশুচোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করেছে। পালটা অর্ণব গোস্বামীর অভিযোগ, মহারাষ্ট্র সরকারে কংগ্রেস অন্যতম শাসক দল বলেই মহারাষ্ট্র সরকার এমন শিশুর মতো জবাবদিহি করেছে। এই প্রসঙ্গে অর্ণব গোস্বামীর কটাক্ষ, ‘সনিয়া গান্ধী ইতালির মানুষ, তিনি না-ও জানতে পারেন। তবে, গেরুয়া বসন ভারতে যেকোনও সন্ন্যাসীই পরেন, তা এদেশের প্রতিটি শিশু জানে।’ তার ওপর পুলিশ কীভাবে সত্তরোর্ধ্ব এক সন্ন্যাসী ও যুবক সন্ন্যাসীকে সমস্ত আইন ভেঙে নিগ্রহের জন্য গ্রামবাসীদের হাতে তুলে দিল, তা নিয়েও টিভির পর্দায় প্রশ্ন তুলেছিলেন ওই সাংবাদিক। টিভির পর্দা থেকেই তিনি অভিযোগ করেছিলেন, প্রশাসনের কোনও শীর্ষকর্তার নির্দেশ ছাড়া পুলিশ এমন কাজ করতেই পারে না। সর্বভারতীয় টিভি চ্যানেলে তিনি এসব কথা বলার পরই তাঁর ওপর এই হামলা হয়েছে।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here