মালদায় তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের সহ সভাপতিকে প্রকাশ্যে অপহরণের চেষ্টা, স্থানীয়দের তৎপরতায় উদ্ধার, ধৃত ৪

আমাদের ভারত, মালদা, ২৮ সেপ্টেম্বর: দিনে দুপুরে প্রকাশ্যে অপহরণের চেষ্টা।তাও আবার ফিল্মি কায়দায়।তৃণমূল কংগ্রেসের সংখ্যালঘু সেলের সহ সভাপতি পেশায় গ্রামীণ চিকিৎসক জহুরুল ইসলামকে। অপহরণের অভিযোগ আরেক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। তবে স্থানীয়দের চেষ্টায় অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়। চারজন অপহরণকারীকে পাকড়াও করে স্থানীয়রা। ঘটনাটি মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর ১নং ব্লকের ভালুকা রোড কোলিয়ারি এলাকার।অপহরণের চেষ্টা করা হয় জহুরুল ইসলাম ওরফে শীতল ডাক্তার নামে স্থানীয় এক হাতুড়ে চিকিৎসককে। জহুরুল ইসলাম আবার তৃণমূল কংগ্রেসের জেলার সংখ্যালঘু সেলের সহ-সভাপতি। কোলিয়ারি গ্রামীণ হাসপাতালের সামনে একটি ছোট্ট ওষুধের দোকান চালান শীতলবাবু।

জানাগেছে, আজ দুপুর ১টা নাগাদ তার ওষুধের দোকান থেকে তাকে অপহরণ করে দুষ্কৃতীর দল। একেবারে ফিল্মি কায়দায় অপহরণ। তিনটি বোলেরো ও স্করপিও গাড়িতে ১২- ১৩ জন দুষ্কৃতী এসে অপহরণ করে শীতল
বাবুকে। অপহরণ করতে এসে দুষ্কৃতীরা ৬ রাউন্ড গুলি চালায় বলে অভিযোগ।তিনটি গাড়ির মাঝের গাড়িতে শীতল বাবুকে জোর করে চাপিয়ে চম্পট দেয় অপহরণকারীরা।তৎক্ষণাৎ মোবাইল ফোন মারফত অপহরণের ঘটনা চাউর হয় সারা এলাকায়।ভালুকা বাজার স্ট্যান্ড এলাকায় অপহরণকারীদের গাড়ি আটকানোর চেষ্টা করে স্থানীয় মানুষজন।

অভিযোগ, অপহরণকারীদের প্রথম গাড়ি থেকে স্থানীয় মানুষজনদের লক্ষ্য করে আবারও বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। কিন্তু স্থানীয় মানুষজন মাঝের বোলেরো গাড়িটি ধরে ফেলতে সমর্থ হয়। সেই গাড়ি করেই শীতল বাবুকে অপহরণ করা হচ্ছিল। স্থানীয়দের চেষ্টায় শীতলবাবু উদ্ধার হয় এবং চারজন অপহরণকারীকে আটক করে আমজনতা।অপহরণকারীদের শেষের গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের নয়ানজুলিতে গিয়ে পড়ে। চারজন অপহরণকারী আম জনতার হাতে ধরা পড়লেও বাকি দুষ্কৃতীরা চম্পট দেয়। অপহৃত জহুরুল ইসলাম ওরফে শীতল বাবু সহ চারজন অপহরণকারীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ। স্থানীয়দের দাবি, কালিয়াচকের দুষ্কৃতী দল এই অপহরণ কাণ্ড চালিয়েছে। তবে কি কারণে অপহরণ তা এখনও জানা যায়নি। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এলাকায় উত্তেজনা।

যদিও এই নিয়ে জেলা তৃণমূলের মুখপাত্র শুভময় বসু বলেন, এরা দলের কেউ নয়। এক সময়ে এরা দলে ছিল। বর্তমানে তাদের দলের কোনও অনুষ্ঠানে দেখা যায় না। ফলে পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।

অন্যদিকে জেলা বিজেপির সহ সভাপতি অজয় গাঙ্গুলি বলেন, এটা কোনও রাজনৈতিক বিষয় নয়। এর পেছনে অন্য কোনও বিষয় রয়েছে। তৃণমূলের তকমা নিয়ে কাজ করছে। ফলে আইন শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হচ্ছে।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here