জাতীয়

কাল শনিবারই রায় ঘোষণা অযোধ্যা মামলার

আমাদের ভারত,৮ নভেম্বর:চলে এলো সেই সন্ধিক্ষণ। শনিবার সকাল সাড়ে দশটায় অযোধ্যা মামলার রায় ঘোষণা করতে চলেছে সুপ্রিম কোর্ট। টানা ৪০ দিন শুনানির পর মামলার রায় ঘোষণা করছে দেশের শীর্ষ আদালত। মনে করা হচ্ছিল আগামী সপ্তাহে ঘোষিত হবে মামলার রায়। কিন্তু আর দেরী করতে চান না প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ।

ভারতের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মামলা অযোধ্যা মামলা। ১০০ বছরেরও পুরনোএই মামলার চূড়ান্ত পর্বে টানা ৪৯ দিন ধরে চলেছে শুনানি। উভয় পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে হয়েছে চূড়ান্ত সওয়াল জবাব। অযোধ্যা মামলার শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈর নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ গঠন করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। রঞ্জন গগৈ ছাড়া ওই বেঞ্চে ছিলেন অশোক ভূষণ, ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়, এস এ বোবদে, এস আব্দুল নাজির।

যদিও আদালতের বাইরে এই মামলা মিমাংসার চেষ্টা করেছিল শীর্ষ আদালত। চলতি বছরের ৮ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এস এম ইব্রাহিম খলিফুল্লাহ, আধ্যাত্মিক গুরু শ্রী শ্রী রবি শংকর ও আইনজীবী শ্রীরাম পঞ্চুকে নিয়ে মধ্যস্থতাকারীর একটি কমিটি গঠন করা হয়। দু পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে মধ্যস্থতার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় ২ আগস্ট শীর্ষ আদালত জানিয়ে দেয় ৬ আগস্ট থেকে অযোধ্যা মামলার নিয়মিত শুনানি হবে।

৪০ দিন টানা শুনানি শেষে ১৬ ই অক্টোবর রায়দান স্থগিত রাখে শীর্ষ আদালত।শুনানি পর্বের দুই পক্ষের আইনজীবীর মধ্যে ব্যাপক সওয়াল-জবাবেরষ সরগরম হয় এজলাস। শুনানির অন্তিম দিনে হিন্দু মহাসভার তরফে আদালতে জমা করা ব্রিটিশ আমলে অযোধ্যার জমির নকশার কপি সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের আইনজীবী রাজীব ধওয়ান ছিড়ে ফেলেছিলেন। আর তা নিয়ে পরিস্থিতি চরমে পৌঁছায়।

আদালতে দুই পক্ষের আইনজীবীরা সাধারণ যুক্তি পেশ করে। হিন্দুদের দাবি বাল্মিকী রামায়ণের অযোধ্যাকেই রামের জন্মস্থান বলা হয়েছে। মানুষ যুগ যুগ ধরে বিশ্বাস করে আসছে এই জমিতেই রামের জন্ম হয়েছে। অন্যদিকে মুসলিম পক্ষের যুক্তি বাল্মিকী রামায়ণের আইনি কোনো ভিত্তি নেই। কিভাবে আদালতে তা প্রমাণ করা যাবে যে অযোধ্যাই রামের জন্মস্থান।

হিন্দু পক্ষ দাবি করেছে অযোধ্যায় মন্দির ভেঙে মসজিদ তৈরি হয়েছে। মুসলিম পক্ষের দাবি বিতর্কিত জমিতে মন্দিরের কোন প্রমাণ নেই। ১৮৮৫ সালে আদালত মন্দির নির্মাণের অনুমতি দেয়নি। এদিকে হিন্দুদের যুক্তি এ এস আই এর রিপোর্টে মন্দিরের অস্তিত্বের কথা বলা হয়েছে। শিব, হনুমান, পদ্মের যে প্রতিকৃতি পাওয়া গেছে তা প্রমাণ করে ওই জমিতে হিন্দু মন্দির ছিল। মুসলিমদের দাবি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তৈরি এ এস আই রিপোর্ট বিজ্ঞানসম্মত নয়। পদ্ম ফুলের প্রতিরূপ ইসলামেও রয়েছে।

হিন্দু পক্ষ যুক্তি দেয় বাবরের আত্মজীবনী বাবরনামায় অযোধ্যায় মসজিদের কোন উল্লেখ নেই। মুসলিম পক্ষের আইনজীবীর পাল্টা যুক্তি বাবরনামা দ্বিতীয় ভাগের কিছু পাতা কয়েক বছর আগে খোয়া গেছে। সেখানেই বাবরি মসজিদের উল্লেখ ছিল বলে তাদের দাবি।

হিন্দুদের দাবি অযোধ্যায় যে কাঠামো ছিল তা মসজিদের কাঠামো নয়। সেখানে ওজু করার কোন জায়গা ছিল না। মুসলিমদের দাবি বিতর্কিত জমিতে নাষমাজ পড়া হতো। নামাজের আগে ওজু করার জায়গাও ছিল। এলাকার দখল করার জন্য অন্ধকারে মসজিদে রামলালার মূর্তি ঢোকানো হয়েছিল।

শুনানি শেষ দিনের সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড নির্দিষ্টভাবে বিতর্কিত জমিতে মসজিদ তৈরির দাবি জানায়। হিন্দু মহাসভার রাম মন্দির নির্মাণ সহ পুরো জমিটি দাবি করে। নির্মোহী আখড়া আর্জি জানায় হিন্দুদের অন্য পক্ষের হাতে জমির অধিকার গেলো পুজো করার অধিকার তাদেরকেই দিতে হবে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য ২০১০-এ অযোধ্যা মামলার রায় দিয়েছিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। অযোধ্যা জমি তিনটি পক্ষকেই সমানভাবে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। কিন্তু তাকে চ্যালেঞ্জ করে তিন পক্ষ সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। শনিবার সেই মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করতে চলেছে সুপ্রিম কোর্ট।

Leave a Comment

nineteen − nineteen =

Welcome To Amaderbharat. We would like to keep you updated with the Latest News.