জেলার খবর রাজ্য

দুর্গতদের পাশে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল, দিলেন মুখ্যমন্ত্রীকে টেক্কা

আমাদের ভারত, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ১৩ নভেম্বর:
সোমবারই রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাকদ্বীপে এসেছিলেন প্রশাসনিক বৈঠক করতে। কলকাতা থেকে কাকদ্বীপ যাওয়া আসার সময় আকাশ পথে চাক্ষুস করেন ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তান্ডব। কিন্তু এলাকায় গিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের কথা শোনেননি, মানুষের পাশে দাঁড়াননি বলে অভিযোগ তুললেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। বুধবার বাবুল নিজে আসেন দক্ষিণ ২৪ পরগণার নামখানা ব্লকে। এই ব্লকে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য কখনো গাড়িতে, কখনো পায়ে হেঁটে কখনো বা মোটর সাইকেলে এলাকায় ঘুরে বেড়ান। ক্ষতিয়ে দেখেন বুলবুলের তান্ডব। পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দেন দুর্গত মানুষদের। আর এখানেই যেন কোথাও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে টেক্কা দিলেন বাবুল।

এদিন সকাল থেকেই এলাকায় খবর ছড়িয়েছিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় আসার। দুর্গত স্থল দেখতে যেতে পারেন জেনে একদল তৃণমূল ছাত্র পরিষদ সদস্য নামখানার সাতমাইল বাজারের কাছে বাবুলের গাড়ি দেখে বিক্ষোভ দেখায়। কালো পতাকার সাথে গো ব্যাক বাবুল শ্লোগান দিতে থাকেন তারা। এলাকায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে বলে বাবুলের গাড়ি কলকাতার দিকে ঘুরিয়ে দেয় পুলিশ প্রশাসন। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নামখানার দশ মাইল এলাকায় আসবেন বলে অপেক্ষা করছিলেন এলাকার দুর্গত মানুষ ও বিজেপি কর্মীরা। পুলিশের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করে তারা দশ মাইল মোড়েই ১১৭ নম্বর জাতীয় সড়কে বসে পড়েন। রাস্তা অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। এরফলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এই খবর বাবুলের কানে পৌঁছতেই তিনি আবার তার গাড়ি ঘুরিয়ে নিয়ে চলে আসেন দশ মাইল এলাকায়। সেখানে এসে দুর্গতদের সাথে কথা বলেন। পাশে থাকার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকার সাহায্য করলেও সেই সাহায্য রাজ্য সরকার সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে না বলে অভিযোগ তোলেন বাবুল। অভিযোগ তোলেন প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘরের বন্টন নিয়েও।

এর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর হেলিকপ্টারে করে দুর্গত এলাকা ঘুরে দেখাকে কটাক্ষ করেন তিনি। বাবুল বলেন,
“ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হেলিকপ্টারে করে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। মানুষের কাছে যেতে ভয় পাচ্ছেন। আর এখানে দুর্গত মানুষজন ত্রাণ পাচ্ছেন না। খেতে পারছেন না। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর নিয়ে দুর্নীতি হয়েছে। সেটা না হলে আজ এতো মানুষের ক্ষতি হতো না। আমি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আজ এলাকায় এসেছি। কেন্দ্রকে এ বিষয়ে রিপোর্ট দেবো”।

এদিন দশমাইল এলাকাতে ও বাবুলের গাড়ি আটকে দেওয়া হয়। এরপর কর্মীদের মোটরবাইক নিজেই চালিয়ে দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন বাবুল সুপ্রিয়। যান এলাকার বেশ কয়েকটি ত্রাণ
শিবিরেও। সেখানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে কাছে পেয়ে দুর্গত মানুষ নানা ধরনের অভিযোগ উগড়ে দেন তার সামনে। গত পাঁচদিন ধরে ত্রাণ শিবিরে দুর্গতদের খেতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তোলেন দুর্গতরা। যদিও এদিন বাবুলের আসার খবর পেয়ে তাদের খেতে দেওয়া হয়। বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নামখানা, ফ্রেজারগঞ্জ, বকখালি এলাকায় দুর্গতদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ক্ষয়ক্ষতি ঘুরে দেখে সন্ধ্যা নাগাদ কলকাতার উদ্দেশ্যে ফিরে যান তিনি।

Leave a Comment

sixteen − 7 =

Welcome To Amaderbharat. We would like to keep you updated with the Latest News.