“অন্য দলে যাব না” লিখেও মুছলেন! সন্ন্যাস নাকি দলবদল? ফেসবুকে পোস্ট এডিট করে জল্পনা বাড়ালেন বাবুল

আমাদের ভারত, ৩১ জুলাই: রাজনীতি থেকে সন্যাসের ঘোষণা করলেও সুরেলাই ছিলেন বাবুল। কিন্তু সেই ঘোষণার পোস্ট এডিট করে এবার বেসুর হলেন আসানসোলের সাংসদ। এককথায় সপ্তাহের শেষে রাজ্য রাজনীতিতে তুফান তুলে দিয়েছেন বাবুল সুপ্রিয়। ঘোষণা করেছিলেন রাজনীতি ছেড়ে যাওয়ার, সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার। কিন্তু সেই ঘোষণা পোস্টটি বারবারই এডিট করেছেন তিনি। ফেসবুকে নিজের রাজনীতি ছেড়ে যাওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন বিজেপির এই সাংসদ। কিন্তু সেই পোস্টকে বারবার এডিট করে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে রীতিমতো জল্পনা উস্কে দিয়েছেন তিনি।

প্রাথমিকভাবে তার ফেসবুক পোস্ট থেকে মনে হচ্ছিল যে তিনি রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নিতে চলেছেন। কিন্তু তারপরই এডিট করে সেই পোস্টে টুইস্ট এনেছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। প্রথমে তিনি লিখেছিলেন তিনি কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দিচ্ছেন না। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই সেই অংশটি নিজেই মুছে ফেলেছেন তিনি। ফলে জল্পনা এখন তুঙ্গে আর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে আসানসোলের এই সংসদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তাহলে কি?

দলের কাজের প্রতি অসন্তোষ কিংবা অভিমান দেখিয়ে বহু নেতাই বিরুদ্ধাচরণ করেন। রাজনৈতিক মহল তাদের বেসুরো হিসেবে ডাকেন। কিন্তু বাবুল সুপ্রিয় রাজনীতি থেকে বিদায় নেওয়ার ঘোষণাটা বেশ সুর-তাল বজায় রেখেই করেছিলেন। ২০১৪ সালে প্রথমবার ভোটে জিতেই মন্ত্রী হয়েছিলেন বাবুল সুপ্রিয়। নরেন্দ্র মোদীর মুখেও শোনা গিয়েছিল তার গুনগান। ২০১৯ সালেও তার জয়ের ধারা বজায় থাকে। কিন্তু সেই তাল কেটে যায় একুশের বিধানসভা নির্বাচনে টালিগঞ্জে প্রার্থী হয়ে হেরে যাওয়ার পর। বাবুলের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের এই পরাজয় কিছুদিন পরেই সম্প্রসারিত হয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। একাধিক পোড় খাওয়া মন্ত্রীদের মতো সেখান থেকে বাদ পড়ে যান বাবুল। সেইদিনই ফেসবুকে কিছুটা বেসুর মুডে ধরা দিয়েছিলেন তিনি। বাবুল লিখেছিলেন, “আমাকে ইস্তফা দিতে বলা হয়েছে। নিজের জন্য খারাপ লাগছে।” কিন্তু সেই পোস্ট এডিট করে পরবর্তী সময়ে তিনি লেখেন, আমার এটা বলা হয়তো ঠিক হবে না। তারপর থেকে রাজনীতি নিয়ে খুব একটা লিখতে তাকে দেখা যায়নি। যদিও পেগাসাস ইস্যুতে এক দুটো মন্তব্য করেছেন আসানসোলের সংসদ।

তবে সম্প্রতি নিজের একটি আত্মউপলব্ধি কথা জানিয়ে বাবুল লিখেছেন,”রাজনীতিবিদ বাবুলের তুলনায় গায়ক বাবুলকেই মানুষ বেশি পছন্দ করতেন।” কিন্তু এরপর শনিবার সব হিসেব পাল্টে দিয়ে ফেসবুকে বাবুল পোস্ট করেন,”আমি টিম প্লেয়ার। দল হিসেবে সর্বদা মোহনবাগান এবং পার্টি হিসেবে সর্বদা বিজেপিকে সমর্থন করেছি। এটাই শেষ কথা। সাংসদ পদ ছাড়লেও অন্য দলে যাওয়ার জল্পনাকে নস্যাৎ করে তিনি লেখেন, “অন্য কোনও দলে যাচ্ছি না। তৃণমূল কংগ্রেস, সিপিএম কোথাও নয়। কনফার্ম করছি। কেউ আমায় ডাকেনি। আমি কোথাও যাচ্ছি না।” কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই নিজের করা পোস্ট থেকে কিছু কথা মুছে ফেলেন বাবুল। আর সেই ধাক্কাতেই তার দলবদলে জল্পনা কার্যত ঊর্ধ্বমুখী হতে থাকে।

যদিও বিজেপির একাংশ এখনো মনে করছে বাবুল সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেবেন না। অনেকের ধারণা বাবুল শিল্পী মানুষ, আবেগ প্রবন মানুষ। অভিমানে একথা বলেছেন। তিনি কোথাও যাবেন না। কিছু ভাবা এবং কিছু করে ফেলার মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ আছে।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here