বিজেপির ডাকা মল্লারপুর বন্ধ সর্বাত্মক

আশিস মণ্ডল, রামপুরহাট, ২২ সেপ্টেম্বর: দলীয় নেতাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার প্রতিবাদে বিজেপির ডাকে মল্লারপুর বন্ধ সর্বাত্মক। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে পুলিশের বিরুদ্ধে জোর করে দোকান খোলানোর অভিযোগ তুলেছে বিজেপি নেতৃত্ব।

প্রসঙ্গত, ১৬ সেপ্টেম্বর মল্লারপুর থানার দক্ষিণগ্রাম পঞ্চায়েতের টাওসিয়া গ্রামে আক্রান্ত হন পঞ্চায়েতের অস্থায়ী কর্মী অভিজিৎ গড়াই। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে পরদিন সকালে ময়ূরেশ্বর ১ নম্বর ব্লকের মণ্ডল সভাপতি সুশান্ত দে’কে গ্রেফতার করে মল্লারপুর থানার পুলিশ। ওই দিন তাকে রামপুরহাট মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তিনদিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। রবিবার তাকে মাড়গ্রাম থানার হাঁসন গ্রামের একটি ভাঙ্গচুরের মামলায় নতুন করে পুলিশ আদালতে তুলে ফের তাকে হেফাজতে নেয়। এরই প্রতিবাদে মঙ্গলবার মল্লারপুর শহরে ২৪ ঘণ্টা বন্ধের ডাক দেয় বিজেপি। ফলে এদিন সকাল থেকে শহরের অধিকাংশ দোকান বন্ধ ছিল। সকালের দিকে ছোটখাটো কয়েকটি দোকান খোলা থাকলেও বেলা বাড়তেই সেগুলিও বন্ধ হয়ে যায়। তবে ব্যাঙ্ক, পঞ্চায়েত খোলা ছিল। বেলার দিকে বিজেপির পক্ষ থেকে একটি মিছিল বের করা হয়। যার নেতৃত্ব দেন দলের জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল, প্রাক্তন সভাপতি তথা রাজ্য কমিটির সদস্য অর্জুন সাহা, জেলা সাধারণ সম্পাদক অতনু চট্টোপাধ্যায়, জেলা সদস্য মানস বন্দ্যোপাধ্যায়। মিছিল শহর পরিক্রমা করে মল্লারপুর বাহিনা মোড়ে শেষ হয়। সেখানে ১৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে বক্তব্য রাখেন সমস্ত নেতৃত্ব।

অতনুবাবু বলেন, “এখন পুলিশের অবস্থা বাড়ির পোষা কুকুরের মতো। তারা সরকারি পোশাক পড়ে থাকেন ঠিকই। কিন্তু সকাল বেলা প্রভু যা যা নির্দেশ দেন তার থেকে কিছু বেশি পালন করেন। ওদের প্রভু এখন শাসক দলের নেতারা”।

বীরভূম জেলা পরিষদের কো-মেন্টর ধীরেন্দ্র মোহন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “একজন গুন্ডাকে ছাড়াতে বন্ধ ডেকেছিল বিজেপি। মানুষ তাদের ডাকা বন্ধ প্রত্যাখ্যান করেছেন। একজন সরকারি কর্মীকে মারধর করার অভিযোগে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। আদালতে তার বিচার হবে। কিন্তু আদালতের প্রতি আস্থা নেই বিজেপির”।

অতনুবাবু বলেন, “সুশান্তকে মাড়গ্রাম থানার হাঁসনের একটি নতুন মামলা দেওয়া হয়েছে। অথচ ওই গ্রামের রাস্তাই চেনে না সুশান্ত। আমার বিরুদ্ধে ক্লাবে বিস্ফোরণের মামলা দেওয়া হয়েছিল। অথচ ওই ক্লাবে কোনও দিন যাইনি আমি। এভাবেই মিথ্যা মামলা দিয়ে বিজেপি নেতাদের আটকে রাখার পন্থা নিয়েছে পুলিশ ও শাসক দল। তার বিরুদ্ধেই আমাদের লড়াই”।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here