বাংলা ভাষা চর্চা ২৯। ন আর ণ

অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, ২৯ মে: বানানে ন আর ণ-এর গন্ডগোল নিয়ে আলোচনা করেছি। ‘ণত্ববিধির কায়কারবার’ শিরোনামে ফেসবুকে ‘অক্ষর শুদ্ধ বানান ও ভাষা চর্চা’ গ্রুপের অ্যাডমিন বাংলার অভিজ্ঞ শিক্ষক ঝলক দাস লিখেছেন, “অঙ্গন কিন্তু প্রাঙ্গণ। একই প্রকৃতির দুটি শব্দের বানান দু-রকম। প্র+অঙ্গন = প্রাঙ্গণ। অঙ্গন-এর সঙ্গে ‘প্র’ যোগ হলে দন্ত্য-ন মূর্ধন্য-ণ হয়ে যায়। এর ব্যাখ্যা কী? আসলে এটি ণত্ববিধির কারবার।

শব্দ দুটির বর্ণবিশ্লেষণ : অঙ্গন = অ+ঙ্+গ+ন, প্রাঙ্গণ = প্+র+আ+ঙ্+গ+ণ। সরলভাবে বললে প্রাঙ্গণ শব্দে ‘র’ আছে, এজন্য এখানে মূর্ধন্য-ণ হয়েছে। অঙ্গন শব্দে ‘র’ নেই, তাই এখানে দন্ত্য-ন হয়েছে। উল্লেখ্য, র-এর পরে স্বরবর্ণ বা ক-বর্গের বর্ণব্যবধান থাকলে তারপর মূর্ধন্য-ণ হবে।

প্রধান কিন্তু প্রমাণ
এ দুটি শব্দের বর্ণবিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রধান = প্+র+ধ+আ+ন, এবং প্রমাণ = প্+র+ম+আ+ণ। লক্ষণীয়, এখানে উভয় শব্দে ‘র’ আছে, অথচ প্রধান শব্দে দন্ত্য-ন, কিন্তু প্রমাণ শব্দে মূর্ধন্য-ণ হয়েছে। কারণ র-এর পরে প-বর্গের (প ফ ব ভ ম*) বর্ণ থাকলে মূর্ধন্য-ণ এবং ত-বর্গের (ত থ দ ধ* ন) বর্ণ থাকলে দন্ত্য-ন হবে।“
***

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here